প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬
সীমাবদ্ধতা জয় করে ক্রীড়ায় আক্কাছ আলী রেলওয়ে একাডেমির ছাত্রীদের অভাবনীয় সাফল্য

চাঁদপুর শহরের পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী আক্কাছ আলী রেলওয়ে একাডেমির ছাত্রীরা ক্রীড়াঙ্গনে অভাবনীয় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ক্ষেত্রে জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করে চলেছে এখানকার মেয়েরা।
মূলত নদীভাঙনে নিঃস্ব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানেরাই এই বিদ্যাপীঠে বেশি লেখাপড়া করে। একসময় এটি রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে সহশিক্ষা চালু রয়েছে। যেখানে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রী সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। ১৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪০ ফুট প্রস্থের বিশাল খেলার মাঠে নিয়মিত চলে ক্রীড়া অনুশীলন। ফুটবল, হ্যান্ডবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, দাবা ও অ্যাথলেটিক্সসহ বিভিন্ন খেলায় ছাত্রীদের পারদর্শী করে তোলা হচ্ছে।
এসব সাফল্যের সুবাদে বিদ্যালয়টির বহু ছাত্রী সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীতে চাকরির সুযোগ পেয়েছে। ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী মুনিয়া অ্যাথলেটিকস ও ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ২০২৪ সালে মিম এবং চলতি ২০২৬ সালে মরিয়ম জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় নৌবাহিনীর হয়ে অংশ নেয়। এছাড়া চলতি বছরে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবলে আফরোজা ও অ্যাথলেটিক্সে লামিয়া সাফল্য দেখিয়েছে। সম্প্রতি ‘নতুন কুঁড়ি সৃজন-১’-এ কুমিল্লা বিভাগে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাহিদ ছৈয়াল ও মোহাম্মদ প্রান্ত অংশ নেয়। পাশাপাশি ‘প্রধানমন্ত্রী ফুটবল টুর্নামেন্টে’ ছেলে ও মেয়েদের দুটি ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩২ জন খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়।
বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় মাঠে বহিরাগতদের উপদ্রব ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি বিদ্যালয়টির একটি অনুষ্ঠানে চাঁদপুরের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক উপস্থিত হলে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইভা আক্তার মাঠের নিরাপত্তা ও ইভটিজিংয়ের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সাংসদ তাৎক্ষণিকভাবে চাঁদপুরের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মাঠটি মেয়েদের খেলার জন্য স্বতন্ত্র ঘোষণা করে দ্রুত সাইনবোর্ড ঝুলানোর জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দেন।
বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক সায়মা আহমেদ (যিনি ২০১৪ সালে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে বিপিএডে প্রথম শ্রেণী পান) বলেন, “এখানকার মেয়েরা খেলায় অত্যন্ত আগ্রহী ও পারদর্শী। পর্যাপ্ত সরকারি ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা পেলে তারা ক্রীড়াঙ্গনে অনন্য উদাহরণ তৈরি করতে পারবে।”
প্রধান শিক্ষক গোফরান হোসেন জানান, “সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা মেয়েদের নিরাপত্তা দিয়ে অনুশীলন চালাই। ছাত্রীরা চাঁদপুরের সুনাম কুড়িয়ে আনছে। মাঠটিতে একটি গ্যালারি বা বসার শেড এবং আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণ করা গেলে ক্রীড়া কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেয়া সম্ভব।” এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।







