প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১৬:৫৪
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চাঁদপুর সফর
কমিটিবিহীন ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও নেতাকর্মীরা চেয়ে আছেন সাংগঠনিক সভার দিকে

কাল
১৬ মে শনিবার বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাঁদপুর সফরকে সামনে রেখে আবারো আশায় বুক বেঁধেছে জেলার বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো। কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের ও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা, পৌর এবং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সকল ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এছাড়া বিলুপ্ত করা হয়েছে উপজেলা ও পৌর যুবদল। উপজেলা ছাত্রদলের কমিটিও স্থগিত। ফলে
অভিভাবকশূন্য ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিষয়ে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমান নতুন কোনো ঘোষণা দেবেন বলে প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের।
জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে গত ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. একেএম সলিম উল্যা সেলিম কেন্দ্রের নির্দেশে আদিষ্ট হয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিসহ সকল ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপি কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে উপজেলা ও পৌর যুবদলের সকল কমিটি স্থগিতসহ দলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে দলের বিরুদ্ধাচারণ করায় বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কার, কমিটি বিলুপ্ত ও কার্যক্রম স্থগিত করা এবং নতুন কমিটি ঘোষণা না দেয়া বা কাউন্সিল না করার কারণে কার্যত নেতৃত্বের শূন্যতায় পড়েছে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। উপজেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন সংকটে আগে কখনও পড়েনি বিএনপি--এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয় ২০১৯ সালে। সে কমিটির সভাপতি ছিলেন শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছ এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মজিবুর রহমান দুলাল।
এদিকে প্রায় ৫ মাস ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কার্যক্রম নেই উপজেলা জুড়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শত মামলা-হামলা, বাধা-বিপত্তির পরও বিএনপির কমিটি এবং কার্যক্রম ছিলো। অথচ এখন তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত ফরিদগঞ্জে দলের কার্যক্রম নেই, নেই কমিটি। বিষয়টি নিয়ে হতাশা এবং বিস্ময় প্রকাশ করছেন সাধারণ নেতা-কর্মীরা। উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চাঁদপুর সফর ও দলের সাংগঠনিক সভায় ফরিদগঞ্জের বিষয়টি উঠে আসবে এবং একটি সিদ্ধান্ত আসবে বলে প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের।
দলের পরীক্ষিত কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, দল যখন ক্ষমতায়, তখন দলের কমিটি না থাকা বা নেতৃত্বশূন্য থাকা ভয়ঙ্কর। দলের সুযোগ সন্ধানীরা নিজেদের মতো করে চলার কারণে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা বিষয়ে বিভেদ বাড়ছে। কমিটি না থাকার বিষয়টি দীর্ঘস্থায়ী হলে দলের ইমেজ সংকটের পাশাপাশি দলের ওপর প্রভাব পড়বে, যাতে ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতবৃন্দ এ বিষয়ে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তারা প্রত্যাশা করেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেহেতু চাঁদপুরে সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের সাথে সাংগঠনিক বিষয়ে সভা করবেন, তাই শনিবার দিনই ফরিদগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মীরা এই উপজেলার কমিটি ও নেতৃত্ব বিষয়ে ঘোষণা শুনতে চায়।
নির্বাচনের সময়ে বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা দলের বিরুদ্ধে ছিলাম না। আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছি এবং সফল হয়েছি। আমি আশা করি দল আমাদেরকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে সচল রাখতে সহায়তা করবে। আমরা সবাই মিলে ফরিদগঞ্জ বিএনপিকে শক্তিশালী করতে চাই।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল এবং চলমান রাখার জন্যে অবশ্যই নেতৃত্বের প্রয়োজন। আর এর সুফল পাওয়ার জন্যে আরো বেশি প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্ব। ফরিদগঞ্জ হলো বিএনপির দুর্গ। কঠিন প্রতিকূল পরিবেশেও আমরা এখানে ধানের শীষকে হারতে দেইনি। অথচ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সুসময়ে এসে ধানের শীষ হেরে গেলো।
এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক ও চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধাচরণ করায় কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই নতুন কমিটি ও নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ফরিদগঞ্জ বিএনপি তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।








