প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৫
তৃতীয় বারের মতো সংরক্ষিত আসনের এমপি হচ্ছেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান রাশেদা বেগম হীরা

তৃতীয় বারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি হচ্ছেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান রাশেদা বেগম হীরা। তিনি বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) মধ্যাহ্ন থেকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে চাঁদপুরের সর্বত্র ক্রমশ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বোদ্ধাগণ রাশেদা বেগম হীরার মতো ত্যাগী ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বিএনপির এমন মূল্যায়নে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
|আরো খবর
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির টিকিটে তৃতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের জন্যে চূড়ান্তভাবে মনোনীত দু’বারের সাবেক মহিলা এমপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা, কারা নির্যাতিত নেত্রী আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হীরা (এমএ, এমফিল) বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের স্বীয় যোগ্যতায় এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য একটি নাম।
সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাশেদা বেগম হীরাসহ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত অন্যদের তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রাশেদা বেগম হীরার পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আলগী গ্রামে। তিনি ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ১৯৭৯ সাল থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন্নাহার হলের ভিপি ও জিএস পদে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ছাত্রীনেত্রী হিসেবে তিনি ১৯৮১ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে রাষ্ট্রীয় সফরে নেপাল ভ্রমণ করেন এবং টেলেন্ট স্টুডেন্ট হিসেবে তিনি হিজবুল বাহার সফর ও বঙ্গবভনে আমন্ত্রিত হন। ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় যেমন অক্সফাম, সেভ দ্যা চিলড্রেন, ভিএসওতে জেন্ডার বিশেষজ্ঞ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন, পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ এ যাবৎ দলের সকল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি একজন লড়াকু সৈনিক।
তিনি ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদে দলের মনোনয়নে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দল চাঁদপুর জেলা শাখার সভানেত্রী ছিলেন। ফ্যাসিস্ট সরকার আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কালো পতাকা কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা পল্টন এলাকা থেকে সাবেক এমপি আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হীরাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে পুলিশের কাজে বাধা সংক্রান্ত মামলায় আসামী দেখানো হয়। এ মামলায় ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন জানালে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করেন।
পরে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের (১৩ মার্চ) হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানালে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। হাইকোর্টের একটি যৌথ বেঞ্চে তাঁকে জামিন প্রদান করা হয়। তাঁর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা মরহুম মো. রফিকুল ইসলাম মজুমদার।
এদিকে তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলহাজ্ব রাশেদা বেগম হীরা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি প্রথমেই মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে শোকরিয়া আদায় করছি। আমাকে আবারও বিএনপি থেকে মনোনীত করায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চাঁদপুর-১ আসনের এমপি শিক্ষামন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন, চাঁদপুর-২ আসনের এমপি মো. জালাল উদ্দিন, চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, চাঁদপুর-৫ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।








