মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪৩

কচুয়া পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম

মো. নাছির উদ্দিন।।
কচুয়া পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম

জাতীয় নির্বাচনের পর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়াারম্যান ও পৌরসভার মেয়র কে হচ্ছেন সে আলোচনায়ই এখন কচুয়ার সর্বত্র। সবার নজর এখন মেয়র পদকে ঘিরে। কে হচ্ছেন কচুয়ার পৌর মেয়র? মেয়র পদে ডজনখানেক প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে সর্বত্র আলোচনায় উঠে আসছেন সম্ভাব্য প্রার্থী কচুয়া পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফখরুল ইসলামের নাম। দলের দুর্দিনে নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার কারণে এবং বিগত সরকারের আমলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মামলা হামলার দরুণ নেতা-কর্মীরা যখন ঘরছাড়া, তখন ঐ সময় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মামলার খরচ চালিয়ে যাওয়ায় মেয়র পদে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নেতা-কর্মীদের কাছে সবচেয়ে বেশি। মেয়র পদে আলোচনায় তাঁর নাম সর্বমহলে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়র পদে প্রার্থিতা জানান দিয়ে ফখরুল ইসলামের পক্ষে ইতোমধ্যেই সরব হয়েছেন সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা। বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট, ব্যানার ও প্রচারমূলক কনটেন্টে তাকে আগামী পৌর নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

পৌরবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় উপস্থিতি, বিভিন্ন ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়ে, দলীয় সকল কর্মকাণ্ডে নিজের সরব উপস্থিতি ও হিন্দু সম্পদায়ের মন্দিরে নিরাপত্তা ও তাদের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়িয়ে এবং জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ফখরুল ইসলাম নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে শহরে বিভিন্ন এলাকায় তাঁর অংশগ্রহণে সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি, নাগরিক সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় এবং তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে।

তাঁর সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পৌর বাজারে যানজট, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত ভবন ও নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্যে নতুন ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রয়োজন। তারা মনে করছেন, ফখরুল ইসলাম সেই পরিবর্তনের প্রতীক হতে পারেন।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন, জোটগত সমীকরণ ও মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতাই নির্ধারণ করবে কারা চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন।

সব মিলিয়ে কচুয়া পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আবহ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেই প্রেক্ষাপট ফখরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণা আগামী দিনের নির্বাচনী সমীকরণে কতোটা প্রভাব ফেলবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ফখরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ ও প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, কচুয়ার উন্নয়নের রূপকার নবনির্বাচিত এমপি ও শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন ভাইয়ের একজন কর্মী হিসেবে আমি কচুয়া পৌরসভাকে একটি আধুনিক নিরাপদ মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি রাস্তাঘাট সংস্কার, কালভার্ট নির্মাণ,

যানজটমুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবো, যাতে মানুষ চলাচলের সহজ নিরাপদ হয়। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের জন্যে সাধারণ মানুষের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডে স্থায়ী ও আধুনিক কাউন্সিলর অফিস নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে । কচুয়া পৌরসভাকে দল-মত নির্বিশেষে সকলের শান্তিপূর্ণ বসবাস ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়