প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪
অবহেলার গর্তে জননিরাপত্তা

একটি সেতু শুধু দুই প্রান্তকে যুক্ত করে না; এটি মানুষের জীবন, অর্থনীতি এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকেও সংযুক্ত করে। কিন্তু সেই সেতুর সংযোগ সড়ক যদি বড় বড় গর্তে ভরে যায়, তাহলে সেটি আর উন্নয়নের প্রতীক থাকে না—বরং হয়ে ওঠে প্রতিদিনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ও জনদুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি। চঁাদপুর শহরের পুরাণবাজার-নতুনবাজার সংযোগ সেতুর দু পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কের বর্তমান অবস্থা ঠিক সেই উদ্বেগজনক চিত্রই তুলে ধরছে।
ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত এই সেতু চঁাদপুর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো। শুধু পুরাণবাজার ও নতুনবাজারের মধ্যে যাতায়াত নয়, সদর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়ন, হাইমচর, ফরিদগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও রামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রতিদিন এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। পণ্যবাহী যানবাহন থেকে শুরু করে দূরপাল্লার পরিবহন—সবই চলাচল করে এই পথ দিয়ে। ফলে এর সংযোগ সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল স্থানীয় নয়, আঞ্চলিক অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
দুঃখজনক হলেও সত্য, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দু পাশের সংযোগ সড়কে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হলেও টেকসই ও কার্যকর সংস্কারের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। বর্ষাকালে এসব গর্তে পানি জমে প্রকৃত গভীরতা বোঝা যায় না। ফলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ছোট পণ্যবাহী যানবাহনের চালকেরা সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়ছেন। কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, দুর্ঘটনা প্রতিরোধেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।
জনগণের করের অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ বছরের পর বছর ধরে অবহেলার কারণে একটি ব্যস্ততম সড়ক এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সাময়িক জোড়াতালি দিয়ে নয়, প্রকৌশলগত মান বজায় রেখে টেকসই সংস্কারই হতে হবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান।
উন্নয়নের দাবি তখনই অর্থবহ হয়, যখন মানুষ নিরাপদে সেই উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে। তাই পুরাণবাজার-নতুনবাজার সংযোগ সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক দ্রুত সংস্কারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। মানুষের জীবন কোনোভাবেই অবহেলার শিকার হতে পারে না।
আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনদুর্ভোগের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারণ একটি গর্ত শুধু একটি সড়কের ক্ষতি নয়—এটি মানুষের নিরাপত্তা, সময়, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধেরও একটি বড় প্রশ্ন।








