প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭
মোবাইল ফোন নয়, মনোযোগ হোক শিক্ষার মূল শক্তি

হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়। এ সংক্রান্ত সংবাদটি গতকালকের চঁাদপুর কণ্ঠে প্রধান শীর্ষ সংবাদ করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে মোবাইল ফোন যেমন জ্ঞান অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, তেমনি এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, নৈতিকতা এবং মানসিক বিকাশের জন্যে বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ বর্তমান বাস্তবতায় একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। আর সেটিই করেছে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম, স্বল্পদৈঘর্য ভিডিও এবং নানা ধরনের ডিজিটাল বিনোদনে আসক্ত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ কমে যাচ্ছে, পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধেও বিরূপ প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই শিক্ষাঙ্গনে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তি নয়, শিক্ষার প্রতি মনোনিবেশ করতে পারে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হয়। শিক্ষক যদি শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ব্যবহারে সংযমী হন, তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা পেঁৗছাবে।
তবে কেবল নিষেধাজ্ঞা জারি করাই যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ইতিবাচক বিকল্প তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষকদের নিয়মিত তদারকি, কাউন্সেলিং এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাঠ্যবহির্ভূত কার্যক্রম, খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করলে মোবাইল নির্ভরতা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।
এ কথাও মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি কখনো শত্রু নয়; বরং এর অপব্যবহারই সমস্যার মূল। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক প্রয়োজনে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগও ভবিষ্যতে নীতিমালার আওতায় বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না, বরং দায়িত্বশীল ব্যবহার শিখবে।
হাজীগঞ্জের এই উদ্যোগ ইউএনও মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেনের পক্ষ থেকে সাহসী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, যেটি দেশের অন্যান্য উপজেলার জন্যেও একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। তবে তিনি এ ব্যাপারে কোনো আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন কিনা সেটা দেখার অপেক্ষা। যদি তেমন কিছু হয়ও, তারপরও জনাব ইবনে আল জায়েদ হোসেন ইতিহাসে ঠঁাই পাবেনই। কেননা তিনি শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টিতে নির্মম বাস্তবতার আলোকে নিজ থেকে তাগিদ অনুভব করছিলেন বলে মনে হচ্ছে।
মূল কথা হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, মনোযোগ ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি দক্ষ, সৃজনশীল ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।








