প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০
বৃষ্টিরা প্রেরণা, বৃষ্টিরা আশার আলো

‘বিসিএস শিক্ষাসহ চারটি চাকুরিতে চান্স পেলো হাজীগঞ্জের বৃষ্টি’-শিরোনামটি দেখে কৌতূহলী পাঠক সংবাদটি না পড়ে পারেন না। কেননা যে দেশে কোটির অধিক বেকার একটি চাকুরি পায় না, সেদেশে একজনই পেয়েছে চারটি চাকুরি! বিস্ময় জাগানিয়া এ সংবাদটি গতকাল চঁাদপুর কণ্ঠে পরিবেশন করেছেন হাজীগঞ্জ ব্যুরো ইনচার্জ কামরুজ্জামান টুটুল। সংবাদের গর্ভে তিনি লিখেছেন, একেবারে অজপাড়াগঁায়ে বেড়ে ওঠা এবং সেই অজপাড়াগঁায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করা শারমিন আক্তার বৃষ্টি বিসিএসসহ চারটি সরকারি চাকুরিতে চান্স পেয়েছেন। এমন সাফল্যের খবরে এলাকায় বলতে গেলে খুশির বন্যা বইছে। বৃষ্টির আলোচনায় এলাকা এখন বেশ মুখর। বৃষ্টি হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগঁাও ইউনিয়নের পূর্ব রাজারগঁাও গ্রামের হাজী বাড়ির সেলিম মিয়া ও হেলেনা বেগম দম্পতির সন্তান। তঁার স্বামী রেজাউল করিম একজন চাকুরিজীবী। শারমিন আক্তার বৃষ্টি ২০১৬ সালে স্থানীয় রাজারগঁাও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৮ সালে পার্শ্ববর্তী নাসিরকোট শহীদ স্মৃতি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বৃষ্টি এবারের ৪৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক -বি-২০২২, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক- বি-২০২৩, অফিসার ক্যাশ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলিয়ে ৪টি সরকারি চাকুরিতে চান্স পেয়েছেন। এক প্রতিক্রিয়ায় শারমিন আক্তার বৃষ্টি বলেন, আমার এই সাফল্য আমার মা-বাবা, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর দোয়া এবং সহযোগিতায় সম্ভব হয়েছে। আমি বিসিএস-এ যোগদান করবো। সবার দোয়া চাই।
বৃষ্টির জন্ম যে পূর্ব রাজারগঁাও গ্রামে, সে গ্রামটি হাজীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। গ্রামটি প্রত্যন্ত এলাকায় কিংবা অজপাড়াগঁা সেটি বললে মোটেও ভুল হবে না। নিভৃত পল্লীর রূপ বিদ্যমান এ গ্রামে। নিজ বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার দূরবর্তী হাই স্কুল ও তিন কিলোমিটার দূরবর্তী কলেজে লেখাপড়া করেছে সে। ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে বৃষ্টি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পাবলিক (সরকারি) ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। আর সেখান থেকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে পেয়ে গেলো চারটি সরকারি চাকুরি--নিঃসন্দেহে বিস্ময় জাগানিয়া বিষয়, অনেক আলোচিত বিষয়। প্রকৃত মেধা যে কেবল শহরে বাস করে না, গ্রামেও বসবাস করে--বৃষ্টিই তার অন্যতম উদাহরণ। তাই বৃষ্টির মতো মেধাবীরা অজপাড়াগঁায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যে নিরন্তর প্রেরণা, অনেক আশার আলো।
আমাদের দেশের কালজয়ী খ্যাতিমান ব্যক্তিরা অজপাড়াগঁা থেকেই উঠে এসেছেন, মহান স্রষ্টা যেনো তঁাদেরকে অলৌকিক ক্ষমতাবলে অজপাড়াগঁা থেকে উঠিয়ে এনে সুবিধাবঞ্চিত হিসেবে অনেক কৃপা করেছেন। বৃষ্টি তেমনই কৃপাপ্রাপ্ত একজন। আমরা কর্মজীবনে তঁার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।








