সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭

এ আশার আলো জ্বলে থাকুক

অনলাইন ডেস্ক
এ আশার আলো জ্বলে থাকুক

চাঁদপুর-কক্সবাজার এবং চাঁদপুর-সিলেট রুটে ট্রেন চালুসহ চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনগুলো চালু করার ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন ২৬২ চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ও ২৬৪ চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক। এ ব্যাপারে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া গেছে। গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ ও মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পত্র লিখেছেন। সে পত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, সংসদীয় আসন ২৬২ ও ২৬৪, চাঁদপুর-৩ ও চাঁদপুর-৫ আসন-এর চাঁদপুর হতে কক্সবাজার ও চাঁদপুর হতে সিলেট রুটে নতুন ট্রেন চালু এবং পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনগুলো পুনরায় চালুকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন জরুরি ভিত্তিতে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা গেলো।

চাঁদপুরের দুজন সংসদ সদস্যের প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন এবং সে আবেদনে কাঙ্ক্ষিত সাড়ার প্রমাণস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ কর্তৃক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর প্রেরিত পত্রে আশার আলো জ্বলে উঠেছে। এ আলো যাতে কোনোভাবেই নিভে না যায় সে ব্যাপারে দুজন এমপির তদবির যে অব্যাহত রাখতে হবে, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে প্রায় চার দশক ধরে চলমান মেঘনা আন্তঃনগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত চালানোর ব্যাপারে রেলওয়ের নীতিনির্ধারক মহল ভাবছিলেন বহু আগেই এবং এ ব্যাপারে ঢাকাস্থ চাঁদপুর সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে আশ্বাসও দিয়েছিলেন। আমরা যদ্দুর জানি, ইঞ্জিন, ড্রাইভার (লোকোমোটিভ মাস্টার) ও বগির অভাবে এবং রেলওয়েতে কর্মরত চাঁদপুরবিমুখ কিছু কর্মকর্তার কারণে সে আশ্বাস দুবছর আগে আর কার্যকর হয় নি। চলতি বছরের ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর আসলে চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলমান মেঘনা আন্তঃনগর ট্রেনকে আধুনিকায়ন এবং কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার জোরালো দাবি উঠে। প্রধানমন্ত্রী ওইদিন এ ব্যাপারে আশ্বাস দিয়ে যেতে পারেন নি। তাই চাঁদপুর-৩ ও চাঁদপুর-৫ আসনের বুক চিরে বিদ্যমান রেলপথের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা দু এমপি অতি সম্প্রতি সরব ও সক্রিয় হয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করে বসলেন। সদাশয় প্রধানমন্ত্রী সে আবেদনে সাড়া দিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন। কিন্তু এ ট্রেন চালুতে তাৎক্ষণিক কিছু যে রেল কর্তৃপক্ষ করতে পারবে সেটা আপাতত মনে হয় না। কারণ, এ মুহূর্তে রেলওয়েতে ইঞ্জিন ও বগি সঙ্কট প্রকট। বিশ্বস্ত সূত্র মতে, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ প্রতিটি ৮০ কোটি টাকা মূল্যের ২০টি ইঞ্জিন উত্তর কোরিয়া থেকে এবং তার পূর্বাপর কিছু বগি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আসবে। তারপর নূতন ট্রেন চালুর ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পত্রের প্রতি সম্মান ও গুরুত্ব দিতে গিয়ে যদি রেল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থাপনায় চাঁদপুর-কক্সবাজার ও চাঁদপুর-সিলেট রুটে ট্রেন চালুর ব্যাপারে ডিসেম্বরের আগেই উদ্যোগ নিয়ে চমক দেখায়, তাহলে সেটা হবে সোনায় সোহাগা। রেল কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে নতুন দুটি ট্রেন চালুর আগে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া ডেম্যু ট্রেন সহ ২-১ টি লোকাল ট্রেন চালু করে দিতে পারে। তার আগে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের ছোট-বড় সংস্কার এবং স্টেশনগুলোতে স্টেশন মাস্টার, বুকিং অ্যাসিস্টেন্ট বা ক্লার্ক, পোর্টার, পয়েন্টসম্যান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী সহ অতি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। চাঁদপুর (বড়) স্টেশনের শূন্য পদগুলো পূরণ করার এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে চাঁদপুর-৩ ও চাঁদপুর-৫ আসনের মাননীয় দু এমপিকে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের স্টেশনগুলো পরিদর্শন, এ রেলপথের বর্তমান অবস্থা প্রত্যক্ষ করা এবং স্থানীয় রেল কর্মচারীদের সাথে বসে প্রকৃত অবস্থা জানা, সমস্যা ও চাহিদা সম্পর্কে অবগত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের আবশ্যকতা রয়েছে বলে আমরা মনে করি। মনে রাখতে হবে, কেবল নতুন ও বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেন চালুতেই যাত্রীসেবার মান রক্ষা করা যাবে না, মানরক্ষা করতে হলে জনবল সঙ্কট ও রেলপথের সমস্যা দূরীকরণের বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়