রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৮

বাস স্ট্যান্ড সরবে এবং ইচলীতে ব্রীজও হবে, কিন্তু কোর্ট স্টেশন কি সরবে?

অনলাইন ডেস্ক
বাস স্ট্যান্ড সরবে এবং ইচলীতে ব্রীজও হবে, কিন্তু কোর্ট স্টেশন কি সরবে?

চাঁদপুর শহরের প্রধান সমস্যা যানজট। শহরের তুলনায় অতিরিক্ত বৈধ-অবৈধ যানবাহন, ট্রাফিক স্বল্পতাসহ নানা কারণে অধিকাংশ সময় শহরের মানুষ যানজটে চরম ভোগান্তির শিকার হয়। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও অফিস চলাকালীন শহরজুড়ে তীব্র যানজট লেগেই থাকে। এই যানজটের কারণে বেশি সমস্যায় পড়েন ঢাকামুখী লঞ্চযাত্রীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাসপাতালে আসা রোগীরা। এর সমাধানে নানা ধরনের কর্মসূচি নিয়ে স্থানীয়দের নিয়ে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও এই যানজট নিরসন করা যাচ্ছে না। চাঁদপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত তাঁর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘শহরের যানজট পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য করণীয়’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেন, যেখানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তা, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সুধীবৃন্দ অংশ নেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও পৌর প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে যানজট নিরসন নিয়ে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রাণী চাকমা। সেমিনারে অংশ নেয়া অংশীজনরা জানান, শহরের যানজট নিরসনের জন্যে এভাবে আলোচনায় না থেকে ট্রাফিক ব্যবস্থা বাড়ানোসহ যে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করলেই যানজট থেকে শহরকে মুক্ত করা যাবে। সেই সাথে শহরের বাসস্ট্যান্ড ও চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন শহর থেকে সরিয়ে নেয়া এবং ডাকাতিয়া নদীর ইচলী এলাকায় একটি ব্রীজ নির্মাণ করার প্রস্তাবে সবাই একমত পোষণ করেন। এতে করে শহরের প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভাগ যানজট কমে আসবে বলে সেমিনারে তুলে ধরা হয়। এই যানজটের জন্যে চিহ্নিত করা হয় শহরের বাবুরহাট, ওয়্যারলেস মোড়, ডিসি অফিস এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, ইলিশ চত্বর, চিত্রলেখা মোড়, মিশন রোড, ছায়াবাণী মোড়, বায়তুল আমিন চত্বর, কালীবাড়ি মোড়, পালবাজার ও আশেপাশের এলাকাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় এসব এলাকা যানজটমুক্ত করা যাচ্ছে না। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে : অবৈধ যানবাহন, অতিরিক্ত সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারি চালিত অটোবাইক এবং ফুটপাত ও রাস্তা ভ্যানচালক ও হকারদের দখলে থাকা। এ সময় জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১১ সদস্য বিশিষ্ট যানজট নিরসন কমিটি গঠনসহ যানজট নিরসনে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশমালাসহ নানা ধরনের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক চাঁদপুরে যোগদান করে চাঁদপুর শহরের প্রধান সমস্যা যে যানজট সেটা উপলব্ধি করতে পেরে সেমিনারটির আয়োজন করে টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। এমন উদ্যোগ কখন কার্যকর হয় সেটা বড়ো কথা নয়, বরং এমন উদ্যোগ যে সর্বজনগ্রাহ্য প্রক্রিয়ার পথেই অগ্রসর হবে, সেটা আপাতদৃষ্টিতে বলা যায়। আমরা এ সম্পাদকীয় নিবন্ধে বহু পূর্বেই চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন সরিয়ে নেয়ার বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করে লিখেছিলাম। কেননা যে কোর্ট-কাচারির কারণে চাঁদপুর (বড়) স্টেশনের ৩ কিলোমিটার পূর্বে চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন নামে একটি পৃথক রেল স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিলো, সেই কোর্ট-কাচারি তো তিন কিলোমিটার দূরবর্তী ষোলঘর এলাকায় স্থানান্তরিত হয়ে গেছে প্রায় দু যুগ পূর্বে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা জজ আদালত সহ অন্যান্য আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সকল কার্যালয় এখন ষোলঘর ও এর সন্নিহিত সকল এলাকায়। অতএব চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনও সেখানকার নিকটবর্তী ঘোড়ামারার মাঠ তথা চাঁদপুর সেতুর নিকটবর্তী স্থানে সরিয়ে ফেলা উত্তম। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষকে এ কথা বোঝাবে কে? কারণ, ব্রিটিশরা রেল কর্তৃপক্ষকে গোঁড়া ও বনেদী মানসিকতায় গড়ে রেখে গেছে। তাদের সম্পদ বেদখলে ও তছরুপে বিপন্ন, এমনকি নিঃশেষ হয়ে গেলেও তারা বৈধ প্রক্রিয়ায় লীজ দেওয়া ছাড়া কাউকে ভালো কাজে প্রদানের ক্ষেত্রে দান বা বিক্রি করার ক্ষেত্রে নাছোড়বান্দা। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও জাতীয় সংসদে রেলওেয়ের আইন সংশোধন ছাড়া রেলওয়েকে নমনীয় করার পথ খোলা আছে বলে জানা নেই। চাঁদপুর বড় স্টেশনে তিন নদীর মিলনস্থলে প্রায় ৮ বছর আগে পর্যটন মন্ত্রণালয় ও পর্যটন কর্পোরেশনের স্থাপনা নির্মাণের আগ্রহে রেল কর্তৃপক্ষ বাধা দিয়ে নিজেরা প্রতিশ্রুতি দিয়েও কিছু তো করেই নি, বরং বেদখলকে পরোক্ষভাবে উস্কে দিয়ে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী সুবিধা লুটছে। সেজন্যে বলছি, চাঁদপুর শহরের যানজট নিরসনে বাস স্ট্যান্ড স্থানান্তরিত হবে, ইচলীতে ব্রীজও নির্মিত হবে, তবে কোর্ট স্টেশন আর স্থানান্তরিত হবে না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়