বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ১০:১৮

মেহের ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা

অনলাইন ডেস্ক
মেহের ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশ্বাসের ২২ দিনের মধ্যে জাতীয়করণের ঘোষণা পেলো শাহরাস্তি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেহের ডিগ্রি কলেজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পত্র সংখ্যা ০৩.০০,২৬৯০,০০০,০০৫.১৪.২৬-৩৪; তারিখ ১৯/০৫/২০২৬ খ্রি. উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের প্রেক্ষিতে জানানো হয়েছে, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলাধীন ‘মেহের ডিগ্রি কলেজ’ সরকারিকরণের জন্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সানুগ্রহ সম্মতি প্রদান করেছেন। সে মোতাবেক সরকারিকরণের লক্ষ্যে নির্দেশনা আরোপ করা হয়েছে। এতে নিয়োগ ও স্থায়ী-অস্থায়ী সম্পদের হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি সরজমিনে পরিদর্শনপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণ ও আর্থিক সংশ্লেষ, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আইন উপদেষ্টার মতামত এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের অঙ্গীকারনামাসহ প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও প্রজ্ঞাপন জারির সংবাদ শুনে শাহরাস্তি জুড়ে উৎসাহের আমেজ তৈরি হয়েছে। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আবু ইউসুফ রুপম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা আনন্দে আত্মহারা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের প্রতি অসংখ্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়। এতে অন্যতম দাবিদার ছিলো মেহের ডিগ্রি কলেজ। ২০১৫ সালে মেহের ডিগ্রি কলেজকে বঞ্চিত করে করফুলেন্নেছা মহিলা কলেজ জাতীয়করণ করা হয়। এরপর থেকে মেহের ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ জাতীয়করণের লক্ষ্যে নানান তৎপরতা অব্যাহত রাখে। ১৬ মে ২০২৬ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে শাহরাস্তি গেইটে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির গতিরোধ করেন মেহের ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা। এ সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের দরজা না খুললেও ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেহের ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর সফর সমাপ্ত করার পরপরই বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। মাত্র ২২ দিনের মধ্যে জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছেন। এতো দ্রুত ও বাস্তবসম্মত কার্যকর ভূমিকা ইতঃপূর্বে লক্ষ্য করা যায়নি।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ও শাহরাস্তির মেহের ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ করার সকল যৌক্তিকতা থাকা সত্ত্বেও সেটা করা হয় নি। এই না করাটা ছিলো অন্যান্য উপজেলার সাথে তুলনামূলকভাবে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এই ব্যতিক্রম হওয়াটাকে তখন কোনো জবাবদিহিতার মুখোমুখি দাঁড় করানোর সুযোগ না থাকলেও বর্তমান সময়ের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সুযোগ কিন্তু আছে। প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর আগমনের সুবাদে মেহের ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ হওয়ায় সে ব্যাপারে অতীতের ব্যর্থতার জন্যে কারো জবাবদিহিতার বিষয়টি হয়তো গৌণ হয়ে গেছে, তবে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ তথা সরকারি না হওয়ার পেছনে লুক্কায়িত ব্যর্থতা কি জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকতে পারে? আমরা বিশ্বাস করি, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এমপি নির্বাচিত হওয়া হাজীগঞ্জের কৃতী সন্তান ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক তাঁর বাড়িতে যাতায়াতের পথের পাশে অবস্থিত হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবেন এবং পূর্বসূরির ব্যর্থতার ম্লানিমাকে নিজ সাফল্যের ঔজ্জ্বল্যে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সক্ষম হবেন। মেহের ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় এবং স্থানীয় এমপির সফলতায় আমরা শাহরাস্তিবাসীর সাথে সাথে তাঁদের দুজনের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়