মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০৮:২৮

বিস্মৃতির ধূলোয় আক্রান্ত

ড. এম এ সাত্তার
বিস্মৃতির ধূলোয় আক্রান্ত

শাহরাস্তি উপজেলার শ্রেষ্ঠ মানুষদের একজন ড. এম এ সাত্তার। একজন পেশাদার দর্জির ঘরে জন্মানো এই মানুষটি পিতৃ পরিচয় দিতে ন্যূনতম কুণ্ঠাবোধ করতেন না। তিনি চাঁদপুর কলেজের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসে গর্বভরে তাঁর পিতার পরিচয় দিয়ে বলেছেন শৈশবে তাঁর সংগ্রামমুখর বেড়ে ওঠার কাহিনী। নিজের মেধার জোরে মানুষ কীভাবে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছতে পারে সে কথাও সেদিন তিনি বলেছিলেন। আজকের শাহরাস্তি একসময় হাজীগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত প্রত্যন্ত এক জনপদ ছিলো। স্বাধীনতোত্তর চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে মেহের ও চিতোষীর মধ্যবর্তী স্থানে ‘শাহরাস্তি রোড’ নামে রেল স্টেশন প্রতিষ্ঠায় ড. এম এ সাত্তারের ভূমিকা ছিলো আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। কাছাকাছি সময়ে শাহরাস্তি নামক পৃথক থানা প্রতিষ্ঠায় শাহরাস্তির আরেক কৃতী সন্তান আইজিপি হোসেন আহমেদের সাথে ড. এম এ সাত্তারের যুগপৎ ভূমিকা ছিলো বেশ আলোচিত। সেই থানা থেকেই শাহরাস্তি উপজেলা পৃথক প্রশাসনিক সত্তায় আবির্ভূত হয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের সচিব হিসেবে ড. এম এ সাত্তারের ঐতিহাসিক ভূমিকা ওয়াকিবহাল মহল মাত্রই জানেন। কথা হলো, বর্তমান প্রজন্ম কি সেটা জানে? সেটা জানানোর চেষ্টা কি শাহরাস্তির সচেতন কোনো অংশের আছে?

গত ২৬ মে ২০২৬ তারিখে ড. এম এ সাত্তারের ৩২ তম জন্মবার্ষিকী নীরবেই কেটে। চাঁদপুর কণ্ঠেই একটি সংবাদ প্রকাশ করে তাঁকে স্মরণ করা হলো। এ ছাড়া আর কেউ তাঁকে স্মরণ করে নি। চাঁদপুর কণ্ঠের সংবাদটিতে লিখা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) শাহরাস্তি উপজেলার কৃতী সন্তান, সাবেক সচিব, ‘বেইস’-এর প্রতিষ্ঠাতা, ছাত্রী উপবৃত্তির রূপকার ড. এমএ সাত্তারের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি নারী শিক্ষা প্রসারে বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেন, যা আজ জাতীয়ভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের এইদিনে ড. এমএ সাত্তারের আকস্মিক মৃত্যু ছিলো শাহরাস্তিবাসীর জন্যে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। পুরো উপজেলাবাসী এ মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে যায়। চারদিকে কান্নার রোল পড়ে যায়। শাহরাস্তির উন্নয়নে তিনি অনেক কিছুই করেছেন। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, ড. এমএ সাত্তারকে শাহরাস্তিতে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে পারিবারিকভাবে কিংবা অন্য কোনোভাবে যথার্থ মর্যাদায় স্মরণ করা হয় না।

১৯৩২ সালের ১ জুন শাহরাস্তির নাওড়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী ড. এম এ সাত্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও পাকিস্তানের করাচী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। আর বিদেশের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তিনি সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) অফিসার হিসেবে যোগদান করাটাও ছিলো তাঁর সমকালে খুবই উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তিনি পর্যায়ক্রমে সচিব হয়ে নিজ এলাকার উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সড়ক বানাতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। মেহের ডিগ্রি কলেজ ও করফুলেননেছা মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষার উন্নয়নে আরো কিছু প্রতিষ্ঠান গড়া ও সমাজ উন্নয়নে বহুবিধ উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করেছেন, যা ছিলো পুরো দেশের জন্যে দৃষ্টান্ত। সেই আলোকিত মানুষটি আজ বিস্মৃতির ধূলোয় আক্রান্ত। সেই ধূলো সরাবার দায়িত্ব কি শাহরাস্তির কারো নেই? ‘স্মরণের আভরণে মরণেরে যত্নে ঢেকে রাখি’ এ মানসিকতা লালন না করলে শাহরাস্তিতে ড. এম এ সাত্তারের মতো কালজয়ী মানুষের জন্ম আর হবে কিনা সন্দেহ। আমরা নিরন্তর এই গুণী মানুষটির বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়