মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ০০:৩০

কুরবানির মাসয়ালা

মুফতি আবু বকর বিন ফারুক
কুরবানির মাসয়ালা

কুরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ নির্দিষ্ট কিছু পশুর মধ্য থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবেহ করাকে কুরবানি বলা হয়।

কুরবানির ফজিলত ও ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী

১. কুরবানির হুকুম : সামথর্যবান ব্যক্তির ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৩১২৩)।

২. কুরবানির নেকি: কুরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি লেখা হয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ১৯২৭৮)।

৩. নেসাব বা সামথের্যর পরিমাণ : জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের মধ্যে যার কাছে যাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদ (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা/ব্যবসায়িক পণ্য) নিজের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত থাকবে, তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব।

৪ . কুরবানির নেসাবে বছর অতিক্রান্ত হওয়া: যাকাতের মতো কুরবানির নেসাবের ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়; কুরবানির দিনগুলোতে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকাই যথেষ্ট।

৫. মুসাফিরের ওপর কুরবানি : মুসাফির বা সফর অবস্থায় (শরয়ী সফরে) থাকা ব্যক্তির ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।

৬. দরিদ্র ব্যক্তির কুরবানি : দরিদ্র ব্যক্তির ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। তবে সে যদি কুরবানির নিয়তে পশু কেনে, তবে তা জবেহ করা তার ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়। সওয়াবের নিয়তে কুরবানি করতে পারবে।

৭. নাবালেগের ওপর কুরবানি : নাবালেগ বা অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং পাগলের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়, তারা যতই ধনবান হোক না কেন।

৮. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কুরবানি: কারো ওপর ঋণ থাকলে এবং তা পরিশোধ করার পর যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে, তবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।

৯. টাকা ধার করে কুরবানি : সামথর্য না থাকলে ধার বা ঋণ করে কুরবানি দেওয়া জরুরি নয়। তবে পরিশোধের সুব্যবস্থা থাকলে ধার করে কুরবানি দিলে তা আদায় হয়ে যাবে।

১০. পরিবারের একাধিক সদস্যের কুরবানি: একই পরিবারে যদি একাধিক ব্যক্তি পৃথকভাবে নেসাবের মালিক হন (যেমন বাবা ও চাকরিজীবী ছেলে), তবে প্রত্যেকের ওপর আলাদা আলাদা কুরবানি ওয়াজিব।

কুরবানির সময়কাল

১১. কুরবানির দিনসমূহ: কুরবানির সময় তিন দিন ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ। এর মধ্যে ১০ জিলহজ কুরবানি করা সবচেয়ে উত্তম।

১২. কুরবানি শুরুর সময়: ঈদের নামাজ আদায়ের পূর্বে কুরবানি করা জায়েজ নয়। নামাজ শেষ হওয়ার পর কুরবানির সময় শুরু হয়। (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫৫৪৫)।

১৩. কুরবানির সময়: ১০ জিলহজ সুবহে সাদেকের পর ঈদের নামাজ পড়ে তারপর কুরবানি করা যায়।

১৪. রাতের বেলা কুরবানি: রাতে কুরবানি করা জায়েজ, তবে আলো স্বল্পতার কারণে রগ কাটার ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকলে রাতে জবেহ করা মাকরূহ।

১৫. সময় পার হয়ে গেলে করণীয় : যদি কেউ ওয়াজিব কুরবানি নির্দিষ্ট তিন দিনের মধ্যে দিতে না পারে, তবে একটি বকরির মূল্য সদকা করে দিতে হবে।

কুরবানির পশু সংক্রান্ত মাসয়ালা

১৬. কুরবানির উপযুক্ত পশু: উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দিয়ে কুরবানি করা জায়েজ। (সূরা হজ: ৩৪)।

১৭. অনুপযুক্ত পশু: হরিণ, নীলগাই বা কোনো বন্য পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ নয়।

১৮. পশুর বয়সসীমা: উট অন্তত ৫ বছর, গরু ও মহিষ অন্তত ২ বছর এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা অন্তত ১ বছর বয়সের হতে হবে।

১৯. এক বছর কম বয়সের দুম্বা : ভেড়া বা দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয় (নূন্যতম ৬ মাস), কিন্তু দেখতে ১ বছর বয়সী পশুর মতো মোটা তাজা লাগে, তবে তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ। কিন্তু ছাগলের ক্ষেত্রে ১ বছর পূর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।

২০. পশুর দঁাত ওঠা: সাধারণত বয়স পূর্ণ হলে দঁাত ওঠে। তবে নিশ্চিতভাবে বয়স পূর্ণ হয়েছে জানা গেলে দঁাত না উঠলেও কুরবানি জায়েজ।

২১. খাসি বা খাসিকৃত পশুর কুরবানি: খাসিকৃত ছাগল বা ভেড়া দিয়ে কুরবানি করা উত্তম। রাসূলুল্লাহ (সা.) খাসি করা দুম্বা কুরবানি করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ)।

২২. বন্ধ্যা পশুর কুরবানি : বন্ধ্যা পশু (যা বাচ্চা দেয় না) দিয়ে কুরবানি করা জায়েজ।

২৩. কুরবানি পশুর বাচ্চা হলে: পশু কুরবানির করার পর যদি পেট থেকে জীবিত বাচ্চা বের হয়, তবে সে বাচ্চাও জবেহ করতে হবে। আর মৃত বের হলে তা ফেলে দিতে হবে।

পশুর ত্রুটি ও কুরবানির যোগ্যতা

২৪. অন্ধ পশুর কুরবানি: যে পশুর দুটি চোখ বা একটি চোখ পুরোপুরি অন্ধ, তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ নয়।

২৫. লেংড়া পশুর কুরবানি: যে পশু তিন পায়ে হঁাটে, চতুর্থ পা মাটিতে রাখতেই পারে না বা তার ওপর ভর দিতে পারে না, তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ নয়।

২৬. কান বা লেজ কাটা পশু: যে পশুর কান বা লেজের এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) বা তার বেশি অংশ কেটে গেছে, তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ নয়।

২৭. শিং ভাঙা পশু: পশুর শিং যদি গোড়া থেকে ভেঙে যায় এবং মগজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তা দিয়ে কুরবানি হবে না। তবে জন্মগতভাবে শিং না থাকলে বা আংশিক ভাঙলে কুরবানি জায়েজ।

২৮. দঁাতহীন পশু: যে পশুর একটি দঁাতও নেই বা বেশির ভাগ দঁাত পড়ে গেছে, যার ফলে ঘাস-খড় খেতে পারে না, তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ নয়।

২৯. অত্যন্ত দুর্বল পশু: যে পশু এতই দুর্বল ও জীর্ণ যে জবেহ করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার শক্তি রাখে না, তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ নয়।

শরিকানা কুরবানির নিয়মাবলী

৩০. পশুতে সর্বোচ্চ শরিক : ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কেবল ১ জনের পক্ষ থেকে আদায় হয়। উট, গরু ও মহিষে সর্বোচ্চ ৭ জন শরিক হতে পারে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৩১৮)।

৩১. শরিকদের নিয়ত: শরিকানার কুরবানিতে প্রত্যেক শরিকের নিয়ত আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কুরবানি হওয়া আবশ্যক। কোনো একজনের নিয়ত যদি শুধু গোশত খাওয়া বা লোকদেখানো হয়, তবে কারোর কুরবানিই হবে না।

৩২. বেজোড় শরিকের শর্ত: বড় পশুতে শরিকের সংখ্যা বেজোড় (যেমন ৩, ৫ বা ৭) হওয়া জরুরি নয়; জোড় সংখ্যায় (যেমন ২, ৪ বা ৬ জন) শরিক হলেও কুরবানি সহীহ হবে।

৩৩. অংশ সমান হওয়া: শরিকানা কুরবানিতে সবার অংশ সমান হতে হবে। যেমন কারো অর্ধেক আর কারো চার ভাগের এক ভাগ হলে হবে না। (কমপক্ষে সাত ভাগের এক ভাগ হতে হবে)।

৩৪. আকিকা ও কুরবানি একসাথে : কুরবানির গরুতে আকিকার নিয়তে শরিক হওয়া জায়েজ। এতে কুরবানি ও আকিকা দুটোই আদায় হয়ে যাবে।

৩৫. মৃত ব্যক্তির নামে শরিকানা: মৃত ব্যক্তির নামে বা তার সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরবানির পশুতে শরিক হওয়া জায়েজ।

৩৬. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামে কুরবানি: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে কুরবানি করা একটি উত্তম আমল। আলী (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে কুরবানি করতেন। (সুনানে আবু দাউদ)।

জবেহ করার সঠিক পদ্ধতি

৩৭. নিজে জবেহ করা : কুরবানি নিজের হাতে জবেহ করা মোস্তাহাব। নিজে না পারলে অন্যকে দিয়ে জবেহ করানো জায়েজ, তবে সামনে উপস্থিত থাকা উত্তম।

৩৮. জবেহ করার দোয়া: জবেহ করার সময় মুখে উচ্চস্বরে “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলা ওয়াজিব।

৩৯. শরীয়তসম্মত রগসমূহ কাটা : জবেহ করার সময় পশুর ৪টি রগ (শ্বাসনালী, খাদ্যনালী এবং দুপাশের দুটি রক্তনালী) কাটতে হয়। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩টি কাটা জরুরি।

৪০. ছুরি ধারালো করা: জবেহ করার আগে ছুরি ভালোভাবে ধার দিয়ে নেওয়া ওয়াজিব, যাতে পশুর কষ্ট কম হয়। (সহীহ মুসলিম)।

৪১. পশুর সামনে ছুরি ধার দেওয়া: পশুকে শোয়ানোর পর তার সামনে ছুরি ধার দেওয়া মাকরূহে তাহরীমী।

৪২. কিবলামুখী করা: পশুকে বাম কাতে শোয়ানো এবং জবেহ করার সময় পশুর মুখ কিবলার দিকে রাখা সুন্নাত।

৪৩. প্রাণ বের হওয়ার আগে চামড়া ছড়ানো : পশু পুরোপুরি নিস্তেজ হওয়ার বা প্রাণ বের হওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো বা পা কাটা গুনাহ ও মাকরূহে তাহরীমী।

গোশত বন্টন ও ব্যবহার

৪৪. গোশত বন্টনের মুস্তাহাব নিয়ম: কুরবানির গোশত তিন ভাগে বন্টন করা মুস্তাহাব: এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং এক ভাগ গরীব-মিসকিনদের জন্য। (সূরা হজ: ২৮, ৩৬)।

৪৫. ব্যুরো গোশত নিজে রাখা: পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে বা নিজের প্রয়োজন থাকলে পুরো গোশত নিজে রেখে দেওয়া জায়েজ।

৪৬. শরিকানা গোশত বন্টন: শরিকানা কুরবানির ক্ষেত্রে গোশত আন্দাজে ভাগ করা জায়েজ নয়, অবশ্যই দঁাড়িপাল্লায় মেপে সমানভাবে বন্টন করতে হবে।

৪৭. জবেহকারী বা কসাইয়ের মজুরি: কসাই বা জবেহকারীকে কুরবানির পশুর গোশত, চামড়া, মাথা বা চর্বি মজুরি হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়। মজুরি পৃথক টাকা বা অর্থ দিয়ে পরিশোধ করতে হবে। (সহীহ বুখারী)।

৪৮. মানতের কুরবানির গোশত: মানতের কুরবানির গোশত মানতকারী বা তার পরিবারের ধনী সদস্যরা খেতে পারবে না। এর পুরো গোশত গরীবদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে।

পশুর চামড়া ও অন্যান্য অংশের মাসয়ালা

৪৯. চামড়া নিজের ব্যবহারে রাখা: কুরবানির পশুর চামড়া নিজে প্রক্রিয়াজাত করে জায়নামাজ, চামড়ার ব্যাগ বা কোনো পাত্র বানিয়ে ব্যবহার করা জায়েজ।

৫০. চামড়া বিক্রি করলে তার টাকা: চামড়া যদি নগদ টাকায় বিক্রি করা হয়, তবে সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ নিজে ভোগ করা হারাম। তা সম্পূর্ণ টাকা গরীব-মিসকিনকে সদকা করে দিতে হবে।

৫১. চামড়ার টাকা মসজিদের নির্মাণকাজে: কুরবানির চামড়ার টাকা মসজিদের নির্মাণকাজ, ইমামের বেতন বা কোনো কল্যাণমূলক কাজে দেওয়া জায়েজ নয়। তা সরাসরি যাকাতের হকদার গরীব মানুষকে দিতে হবে।

৫২. মাদ্রাসার এতিমখানায় চামড়া দেওয়া: মাদ্রাসার লিল্লাহ ফান্ড বা এতিমখানায় কুরবানির চামড়া বা তার টাকা দেওয়া জায়েজ ও সওয়াবের কাজ।

৫৩. পশুর চর্বি ও হাড় বিক্রি: কুরবানির পশুর গোশত, চর্বি, হাড় বা রশি বিক্রি করা জায়েজ নয়। বিক্রি করলে সেই টাকা সদকা করে দিতে হবে।

বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা

৫৪. নখ ও চুল কাটা থেকে বিরত থাকা: জিলহজ মাসের চঁাদ দেখার পর থেকে কুরবানি করা পর্যন্ত কুরবানিদাতার জন্য নখ, চুল, গেঁাফ বা শরীরের কোনো পশম না কাটা মুস্তাহাব। (সহীহ মুসলিম)।

৫৫. কুরবানির দিন প্রথম খাবার: কুরবানির দিন সকাল থেকে কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং ঈদের নামাজের পর নিজের কুরবানির গোশত দিয়ে দিনের প্রথম খাবার খাওয়া সুন্নাত।

৫৬. হারিয়ে যাওয়া পশুর হুকুম: ধনী ব্যক্তির কুরবানির পশু হারিয়ে গেলে আরেকটি কেনা ওয়াজিব। পরে যদি প্রথম পশুটি পাওয়া যায়, তবে যেকোনো একটি কুরবানি করলেই হবে। দরিদ্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে দুটিই কুরবানি করতে হবে।

৫৭. কুরবানির পশু দিয়ে হালচাষ: কুরবানির জন্য নির্ধারিত পশু দিয়ে হালচাষ করা, তার ওপর চড়া বা দুধ বিক্রি করা জায়েজ নয়। দুধ দোহন করলে তা সদকা করে দিতে হবে।

৫৮. ঋণমুক্তির নিয়তে কুরবানি: কুরবানি একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। ঋণ থেকে মুক্তির জন্য কুরবানির সাথে বিশেষ কোনো নিয়তের সম্পর্ক নেই।

৫৯. বিদেশে কুরবানি দেওয়া: নিজের দেশে বা নিজের এলাকায় কুরবানি দেওয়া উত্তম। তবে দ্বীনি বা মানবিক প্রয়োজনে অন্য কোনো দেশে বা গরীব এলাকায় টাকা পাঠিয়ে কুরবানি করানো জায়েজ।

৬০. কুরবানির পশু জবাইয়ের স্থান পরিষ্কার করা: কুরবানি করার পর রক্ত, বজর্য ও ময়লা আবর্জনা দ্রুত পরিষ্কার করা এবং মাটিতে পুঁতে ফেলা কুরবানিদাতার নৈতিক ও দ্বীনি দায়িত্ব।

৬১. কুরবানির পশুর হারাম অংশ: পশুর ৭টি অংশ খাওয়া হারাম বা মাকরূহে তাহরীমী। যেমন: প্রবাহিত রক্ত, পিত্তথলি, মূত্রথলি, নর ও মাদী পশুর লিঙ্গ বা যৌনাঙ্গ, অণ্ডকোষ এবং টিউমার বা মাংসের গ্রন্থি।

৬২. শরিকের মৃত্যু হলে: পশু কেনার পর কোনো শরিকের মৃত্যু হলে, তার ওয়ারিশরা যদি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি করার অনুমতি দেয়, তবে কুরবানি সহীহ হবে।

৬৩. টাকা দিলে কি কুরবানি আদায় হয়: কুরবানির দিনগুলোতে পশুর রক্ত প্রবাহিত করাই মূল ইবাদত। কেউ কুরবানি না করে পশুর সমপরিমাণ টাকা দান করে দিলে ওয়াজিব কুরবানি আদায় হবে না।

৬৪. নিয়তের শুদ্ধতা: কুরবানির একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। লোকদেখানো বা সুনাম অর্জনের উদ্দেশ্যে কুরবানি করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। (সূরা হজ: ৩৭)।

মুফতি আবু বকর বিন ফারুক : খতিব, মদিনা বাজার বাইতুল আমিন জামে মসজিদ, ১নং বিষ্ণুপুর,

চঁাদপুর সদর, চঁাদপুর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়