প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১০:৩৭
কচুয়া সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে

কচুয়ায় সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে সাংস্কৃতিক সংগঠন তেমন একটি গড়ে উঠে নি। দেশের প্রতিটি উপজেলায় সাংস্কৃতিক চর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি কাজ করার করার কথা থাকলেও কচুয়া উপজেলায় সে রকম কিছু পরিলক্ষিত হয়নি। যদিও উপজেলার মূল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে এটি সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক এবং চারুকলার চর্চা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করার কথা।
শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন জাতীয় দিবস যেমন একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, পহেলা বৈশাখে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে। নামমাত্র শিল্পীগণ নৃত্য, দেশাত্মবোধক গান ও লোকজ সংগীত পরিবেশন করে থাকে।
পূর্বের ব্যবহৃত উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনটি শিল্পকলার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে এই সংগঠনের এডহক কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সাধারণ সম্পাদক উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার। ৫ আগস্টের পর থেকে দু সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি দিয়েই চলছে শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম। উপজেলা প্রশাসনের আওতাধীন কচুয়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী রয়েছে। যার কার্যালয় উপজেলা পরিষদের পূর্বের ব্যবহৃত পরিষদ মিলনায়তন। ভবনটিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার ও বীজের গোডাউন হিসেবেও মাঝে মাঝে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কে এম সোহেল রানা জানান, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর মাধ্যমে বিভিন্ন দিবস যেমন স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, পহেলা বৈশাখে দেশাত্মবোধক , লোকজ সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে থাকে।
স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তিরা জানান, কচুয়া উপজেলা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছে। এ কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সেরকম উদ্যোগেও তেমন একটি দেখা যায়নি। প্রশাসনের তদারকি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কচুয়া উপজেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে কচুয়ার রহিমানগরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পদ্মা সাংস্কৃতিক সংগঠন নামে একটি সংগঠন ৮ মে ২০২৫ সাল থেকে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম করে আসছে। ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতি আকবর হোসেন মিন্টু। আত্মপ্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসনের স্বাধীনতা দিবসের একটি অনুষ্ঠানে তাদের শিল্পীগণ দেশাত্মবোধক ও মডার্ন ড্যান্স করেছে। এই সংগঠনের শিল্পীগণ মূলত ঝিলমিল সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীদের একটি সংগঠন। ঝিলমিল সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফরহাদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার কিছু অনুসারী পদ্মা সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া কচুয়ায় বেসরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে উঠেনি।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে পিছিয়ে থাকার কারণে যুব সমাজ মাদক বা ইভটিজিংয়ের জড়িয়ে পড়ছে। তাছাড়া সমগ্র উপজেলা জুড়ে কিশোর গ্যাং বেড়েই চলছে। কিশোর বয়সে ছেলেমেয়েদেরকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিং অনেকাংশে হ্রাস পেতো বলে সচেতন নাগরিকগণ মনে করেন।
উপজেলার সাচারে বাংলাদেশ বেতার কুমিল্লা অঞ্চলের সংগীত প্রশিক্ষক বাবুল কৃষ্ণ বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠিত গীতিগুঞ্জ একাডেমী নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। তিনি স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের সপ্তাহে একদিন সংগীত বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
কচুয়ার এ সংগীত প্রশিক্ষক বাবুল কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কচুয়ার সাংস্কৃতিক জগতকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
সাচার এলাকার শুয়ারুলে পুলিন বিহারী দাসের প্রতিষ্ঠিত মৌমিতা একাডেমী নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। যার কার্যক্রম সীমিত।
কচুয়ায় চারুকলার চর্চা ও নাটক বিলীন হতে চলছে। কচুয়ায় গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাউল সংগীত পরিবেশন করেন বাউল শিল্পী তাজুল ইসলাম।
কচুয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড দিনে দিনে পিছিয়ে পড়ছে। বিদ্যমান সংগঠনগুলোর গতিশীল কার্যক্রমের অভাবে শিল্পীও তৈরি হচ্ছে না। কচুয়ার একসময়কার নাট্যাকার ও নাট্যাভিনেতা জাফরুল হাসান খোকন ও মজিবুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর কচুয়ায় যে পরিমাণ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে তা দিনে দিনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সাংস্কৃতিক সংগঠনও গড়ে ওঠেনি তেমন।
তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহ থাকলেও সংগঠনের অভাবে গড়ে উঠছে না শিল্পী। ফলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকশিত না হওয়ায় সমাজ ব্যবস্থাও আধুনিকতা থেকে পিছিয়ে পড়ছে।







