প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১৬:৫৭
ভোটের মতো কমিটি নির্বাচনে ভুল করলে ‘আমও যাবে ছালাও যাবে’

ভালো নেই ২৬৩ চাঁদপুর ৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের বিএনপি। দীর্ঘ ৪ দশক পর বিএনপি নির্বাচনে হেরেছে। কিছু ভুল এই পরাজয়ের কারণ। বর্তমানে উপজেলা বিএনপির কমিটি নেই। কমিটি নির্বাচনে দক্ষতার পরিচয় দিতে না পারলে, ভুল মানুষকে সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচন করলে দ্বিতীয় ভুল করবে দল। আর এই ভুলের মাশুল দলকে দিতে হবে দীর্ঘ সময় ধরে। পুরো দেশ জানে এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। কেউ কেউ দুর্গ বলেও উল্লেখ করেন। ঘাঁটি এবং দুর্গ দুটোই সামরিক শব্দ। আস্তে আস্তে শব্দ দুটি রাজনৈতিক শব্দ ভাণ্ডারে স্থান করে নিয়েছে। তবে শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ঘাঁটি থেকে দুর্গ অধিক শক্তিশালী।
সামরিক ভাষায় ঘাঁটি সাধারণত সৈন্যদের থাকার ও প্রশিক্ষণের অস্থায়ী বা আধা-স্থায়ী স্থান, অন্যদিকে দুর্গ হলো শত্রু আক্রমণ ঠেকানোর জন্যে নির্মিত অত্যন্ত মজবুত ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাঠামো। দুর্গ হলো পাথরের বা শক্ত দেয়াল দিয়ে ঘেরা সুদৃঢ় স্থাপনা, যা দীর্ঘকাল টিকে থাকে। ঘাঁটিতে নিরাপত্তার জন্যে বেড়া বা চেকপয়েন্ট থাকতে পারে। দুর্গে থাকে দুর্ভেদ্য প্রাচীর। সহজ কথায়, সব দুর্গই এক ধরনের সামরিক ঘাঁটি, কিন্তু সব ঘাঁটি দুর্গ নয়। ঘাঁটি হলো কার্যক্রমের কেন্দ্র, আর দুর্গ হলো প্রতিরক্ষার সর্বোচ্চ স্তর। সে হিসেবে ফরিদগঞ্জকে আমরা বিএনপির দুর্গের তকমা দিতে পারি না। অন্তত ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল দেখার পর। তবে ফরিদগঞ্জ বিএনপির ঘাঁটি এটা নির্ধায় বলতে পারি।
১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এমপি ছিলেন এম. সফিউল্লা (আওয়ামীলীগ), ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এম. এ. মান্নান (বিএনপি), ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এম. এ. মান্নান (জাতীয় পার্টি), ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আলমগীর হায়দার খান (বিএনপি), ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আলমগীর হায়দার খান (বিএনপি), ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আরেকটি নির্বাচন (নিয়ম রক্ষার) হয় সে নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন আমলগীর হায়দার খান (বিএনপি), ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আলমগীর হায়দার খান (বিএনপি), ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মো. হারুনুর রশিদ (বিএনপি), ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র), ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত শফিকুর রাহমান (আওয়ামী লীগ), ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত শফিকুর রাহমান (আওয়ামী লীগ) ও ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন এম. এ. হান্নান (স্বতন্ত্র)।
ভোটের ফলাফলে দেখা যায় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ৩ বার, বিএনপি ৬ বার, স্বতন্ত্র ২ বার, জাতীয় পার্টি ১ বার এমপি নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া। মোটামুটি যে ক'টি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক কম হয়েছে তার অধিকাংশটিতে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া স্বতন্ত্র থেকে এমপি হলেও তিনি আওয়ামী লীগের লোক ছিলেন। যদিও তিনি ভোটের মাধ্যমে এমপি হননি। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও এম. এ. হান্নান স্বতন্ত্র হিসেবে এম. পি. নির্বাচিত হলেও তিনি ছিলেন বিএনপিরই লোক। ২০০৮ সালে সারাদেশে বিএনপির ভরাডুবি হয়। সে নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পায়, এর মধ্যে ফরিদগঞ্জের আসনটিও ছিলো। সে সময় এমপি নির্বাচিত হন হারুনুর রশিদ।
নির্বাচনী ফলাফলই বলে দেয় ফরিদগঞ্জ বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু সেই ঘাঁটি দিন দিন জৌলুস হারাচ্ছে। কাজ ছাড়া উপজেলা বিএনপি যে বিশাল জনসমর্থন অর্জন করেছে সেটাকে কেন কাজে লাগাতে পারছে না? অনুকূল পরিবেশ থাকার পরও কেন উপজেলা বিএনপি ঘাঁটিকে দুর্গ বানাতে পারলো না? এর দায় কার? ২০০৮ সালে প্রতিকূল পরিবেশে যেখানে বিএনপি বিজয় অর্জন করেছে, সেখানে ২০২৬ সালে শতভাগ অনুকূল পরিবেশ থাকার পরও বিএনপির পরাজয় হলো কেন?
আওমীলীগ ছাড়া যেখানে বিশাল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করার কথা, সেখানে বিএনপির পরাজয় প্রমাণ করে ফরিদগঞ্জ বিএনপি সাংগঠনিকভাবে কতোটা দুর্বল। পরাজয় শুধুমাত্র সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই হয় না, অন্যান্য বিষয়ও থাকে। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সর্বপ্রথম লক্ষ্য রাখতে হয় সেটা হলো ব্যক্তি নির্বাচন। সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি : ব্যক্তি নির্বাচন ভুল করলে তার খেসারত দিতে হয় পদে পদে। আবার দেখা যায় ব্যক্তি ঠিক থাকলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেও দলীয় প্রার্থী পরাজিত হন। সমাজে মজা করে যেটাকে বলে ‘রাজনীতির ভিতর পিলিটিক্স ঢুকে গেছে’। একটা সময় ফরিদগঞ্জ বিএনপিতে ‘কলা গাছ তত্ত্ব’ প্রচলিত এবং প্রতিষ্ঠিত ছিলো। মানে হলো, বিএনপি থেকে ফরিদগঞ্জে কলা গাছ প্রার্থী হলেও সে জিতবে। কথাটি রূপক অর্থে ব্যবহার হতো। এর সরল অর্থ হলো, এখানে একেবারে সাধারণ, অপরিচিত, যোগ্যতাবিহীন কাউকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দিলেও সে বিজয় অর্জন করবে। একটা সময়ের জন্যে এ তত্ত্বটি সঠিক হলেও বর্তমানের জন্যে একেবারে সঠিক নয়। বর্তমানে যে প্রজন্ম রয়েছে তারা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। অনেকেই বর্তমান প্রজন্মের পালস বুঝতে পারেন না। নতুন প্রজন্মের চিন্তাধারা, আকাঙ্ক্ষা এবং রুচির যে পরিবর্তন হয়েছে সেটা বুঝতে না পারার কারণে অনেকের ভরাডুবি হচ্ছে। বর্তমানে ফরিদগঞ্জ বিএনপিতে কলা গাছ তত্ত্ব যে আর চলবে না, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে ২০২৬-এর নির্বাচনে। এখানে বিজয়ী হতে হলে যেমন লাগবে যোগ্যতা, তেমনি থাকতে হবে জনগণের সাথে সম্পর্ক। আবার এ দুটি থাকার পরও আপনি পরাজিত হতে পারেন যদি দলের শৃঙ্খলা না থাকে।
ফরিদগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী দিন দিন ভালো করছে, কিন্তু এমপি হওয়ার জন্যে তাদের সেই ভোট ব্যাংক এখানে নেই। যদিও বিগত দু’টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের প্রার্থী খুবই ভালো করেছে। ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী পারভেজ মোত্তালেব ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল কুদ্দস প্রায় জিতেই যাচ্ছিলেন। রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে না পড়লে তিনিও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আর জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক না হলেও ২০২৬-এর নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বিস্ময়কর ফলাফল অর্জন করেছে। তবে উক্ত ফলাফলে তাদের (জামায়াত) দলীয় কাজে যতটা না সাফল্য এসেছে, তার চেয়ে বড়ো ভূমিকা রেখেছে উপজেলা বিএনপির দলীয় বিশৃঙ্খলায়। তাহলে বিএনপির ভুল কোথায়? সে এক বিরাট প্রশ্ন। প্রশ্ন বিরাট হলেও এর কারণ তৃণমূল পর্যায়ের একজন সাধারণ কর্মী বুঝতে পারলেও, বুঝতে পারেননি হাই কমান্ড। অথবা তারা এই আসনকে আগের মতো কলা গাছ তত্ত্বের ওপর বিশ্বাস করে বসে ছিলেন। অথবা চিন্তা করেছেন ফরিদগঞ্জ আসন বাদ গেলে তেমন একটা ক্ষতি হবে না।
২০০৮ সালে অনেক নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন হারুনুর রশিদ। যদিও দল থেকে প্রথমে মো. আব্দুল হান্নানকে মনোনয়ন দেওয়া হয় বা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের মামলা করে তার মনোনয়ন নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অবৈধ ঘোষণা করা হয়। তারপরের প্রেক্ষাপটে হারুনুর রশিদ চলে আসেন। রাগে ক্ষোভে তিনি (বর্তমান এমপি মহোদয়) সে নির্বাচনে এলাকাতেই আসেননি। সে সময় বিএনপি ৪/৫ দিন নির্বাচনী কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মী বিএনপির জন্যে কাজ করেন এবং আওয়ামীলীগের প্রার্থী শফিকুর রহমানকে প্রায় ৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এতো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, কাজের সীমাবন্ধতা, রাজনৈতিক বৈরী পরিবেশ, দলের প্রার্থীর টানাপোড়েন সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে সে কঠিন সময়ে ফরিদগঞ্জে ধানের শীষ হারেনি। বা সে সময়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ধানের শীষকে হারাতে দেননি। অথচ প্রার্থী একেবারে নতুন, উপজেলা বিএনপিতে ছিলো না কোনো পদ পদবী। সে সময় সাংবাদিকরা পত্রিকায় শিরোনাম করেছেন- ‘লায়ন হারুন আসলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন’। তাহলে ২০২৬- এ কেন হলেন না?
নাতিদীর্ঘ বিরতির পর এম. এ. হান্নান আবার ফরিদগঞ্জের রাজনীতিতে ফিরে আসেন এবং কাজ করেন। উপজেলার প্রায় সবগুলো কমিটি তিনি নিয়তন্ত্রণ করতেন। সর্বশেষ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কেরও দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন। দলীয় প্রার্থীর বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সে আদেশ এখানো বহাল রয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ এবং বর্তমান সংসদ সদস্য এম.এ. হান্নান দুজনই উপজেলায় সমাজ সেবক, শিল্পপতি হিসেবে অধিক পরিচিত। হয়তো সামাজিক কাজের ক্ষেত্রে কারো অবদান বেশি, কারো অবদান তুলনামূলক কম। অবকাঠামো এবং সামাজিক কাজে তুলনামূলক বর্তমান এমপি মহোদয় কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। বিশেষ করে তিনি কিছু কিছু সামাজিক কাজ করেছেন, যা তাকে একেবারে অসচ্ছল, গরীব অসহায় মানুষের কাছে নিয়ে গেছে। তাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিতে পারছেন বলেই তার আলাদা একটা ভোট ব্যাংক তৈরি হয়েছে। দলের দায়িত্ব ছিলো বলে সাংগঠনিক কাজে তিনি প্রায় সময়ই ফরিদগঞ্জে ছিলেন। ২০০৮ সালে তাকেই দল প্রথম মনোনয়ন দেয়। সব মিলিয়ে তিনি আশাবাদী ছিলেন এবারও দল তাকে ধানের শীষ দেবেন।
২০০৮ সালে সমগ্র বাংলাদেশে বিএনপির ভরাডুবি হয়। তারা মাত্র ৩০টি আসন পায়। সে ৩০টির মধ্যে হারুনুর রশিদও ছিলেন। তাই তার বিশ্বাস ছিলো তিনি মনোনয়ন পাবেন। শেষের দিকে এম. এ. হান্নান ওপেন বলেছেন উনাকে (হারুনুর রশিদ) ছাড়া যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয় আমি মেনে নিবো। আমি সবাইকে নিয়ে তার নির্বাচন করবো, কিন্তু এর ব্যতিক্রম হলে আমাকে নির্বাচন থেকে কেউ সরাতে পারবে না। মাঠে এ দুজনের বিরোধ চরমে। প্রতিদিনই নির্বাচনী মাঠে তাদের তির্যক মন্তব্যে নির্বাচনী হাওয়া উতপ্ত হয়ে উঠতো। এদিকে তাদের এই মুখোমুখির বিপরীতে বিএনপির একটি অংশ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী সিআইপি মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর সম্ভাবনা দেখেছেন। যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করেছেন। উপজেলা বিএনপির আঁতুড়ঘর বা বিএনপি পরিবার বা যাদের হাত ধরে উপজেলা বিএনপির শক্ত অবস্থান সেই নুরুল ইসলাম কোম্পানীর ছোট ভাই মো. মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী। রাজনীতির ভদ্র মানুষ হিসেবে পরিচিত মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর কেন্দ্রেও ভালো অবস্থান বলে আলোচনা রয়েছে। উনার প্রতিষ্ঠিত ‘আম্বিয়া-ইউনুছ ফাউন্ডেশনে'র বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিএনপির অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ফরিদগঞ্জে এসেছেন। বিশেষ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আনম এহসানুল হক মিলনসহ অনেকেই। আলোচনা রয়েছে তার সাথে ভালো সম্পর্ক রয়েছে ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর। দীর্ঘদিন ধরে ফরিদগঞ্জে শিক্ষার উন্নয়নে গভীরভাবে কাজ করায় ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে তার বিশেষ একটি মর্যাদা রয়েছে। এম.এ. হান্নানের মতো তারও একটি আলাদা ভোট ব্যাংক রয়েছে। দু জনের বিরোধ মিটানো এবং সহজে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্যে অনেকেই ধরে রেখেছেন মনোনয়ন তাকেই দেবেন। কিন্তু শেষ হাসিটা সাবেক এমপি হারুনুর রশিদই হেসেছেন। কিন্তু তাঁর হাসিটা শেষ পর্যন্ত সংসদ ভবন পর্যন্ত যায়নি। ধানের শিষ পেয়ে এমপি না হতে পারার জন্যে লোকজন তার আশপাশের ৪/৫ জনকে দোষারপ করছেন। কেউ কেউ তাদেরকে ৪ খলিফা বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। মানুষের আলোচনার মূল বিষয় ছিলো : এই ৪/৫ জন লোক হারুনুর রশিদ সাহেবকে নেতাদের কাছে যেতে দেননি। অন্যরা আসলে হয়তো তাদের গুরুত্ব কমে যেতো। হয়তো তাদের যুক্তি ছিলো- ‘ধানের শীষ পেয়েছেন অতএব আপনি এমপি।’ কিন্তু উনি যদি প্রতীক পাওয়ার সাথে সাথে সিনিয়র নেতাদের সাথে বসতে পারতেন তাহলে নির্বাচনের ভিন্ন চিত্র দেখা যেতো।
বর্তমানে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি এবং অঙ্গ- সহযোগী সংগঠনের কোনো কমিটি নেই। দলকে সুসংগঠিত করতে হলে কমিটির বিকল্প নেই। কমিটি গঠনে যত দেরি করবে ততোই দলের ক্ষতি হবে। আজ হোক কাল হোক কমিটি তো হবেই। সংসদ নির্বাচনের মতো সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনেও যদি হাই কমান্ড ভুল করে তাহলে এর খেসারত দিতে হবে দীর্ঘ সময়ের জন্যে। এমন দুজনের হাতে উপজেলা বিএনপিকে তুলে দিতে হবে। যাদের দলের জন্যে অনেক অবদান আছে, শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে, বিরোধ মিটানোর সক্ষমতা রয়েছে, তুলনামূলক বিরোধ কম হবে, সবার কাছে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্যতা বেশি রয়েছে। ঠাণ্ডা মাথায় দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ঘাঁটিকে দুর্গে পরিণত করার সক্ষমতা রয়েছে। এমন ব্যক্তিদ্বয়ের হাতে উপজেলা বিএনপির দায়িত্ব তুলে দিলে দলের জন্য মঙ্গল হবে।
লেখক পরিচিতি :
সাধারণ সম্পাদক, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব;
নির্বাহী সদস্য : সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর।








