শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬

৪৫ কোটি টাকার বার্ষিক মেরামত প্রকল্প

নতুন রূপ পাচ্ছে বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই ও চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সড়ক

আব্দুল্লাহ আল মামুন
নতুন রূপ পাচ্ছে বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই ও চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সড়ক

দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে চাঁদপুরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক। প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বার্ষিক মেরামত প্রকল্পের আওতায় বাগাদী চৌরাস্তা থেকে বর্ডার বাজার পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার এবং বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়ক ও মতলব বাইপাসসহ মোট ২৩ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রাথমিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হবে। এরপর দরপত্র মূল্যায়ন শেষে অনুমোদনের জন্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু করার প্রস্তুতি রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের।

প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে প্রয়োজনীয় রিপেয়ারিং, কার্পেটিং এবং ডেন্স বিটুমিনাস সার্ফেসিং (ডিবিএস) করা হবে। প্রায় ৪০ মিলিমিটার (দেড় ইঞ্চি) পুরু বিটুমিন স্তর প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কের স্থায়িত্ব ও বহনক্ষমতা বাড়ানো হবে, যাতে যান চলাচল আরও নিরাপদ, মসৃণ ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর রহমান জানান, “আগামী দুই মাসের মধ্যেই দুটি সড়কের বার্ষিক মেরামত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাগাদী চৌরাস্তা থেকে বর্ডার বাজার পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়কের জন্যে ২৫ কোটি টাকা এবং বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়ক ও মতলব বাইপাসের জন্যে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪৫ কোটি টাকা।”

তিনি আরও বলেন, “এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সড়ক দুটির চলাচল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভাঙাচুরা অবস্থাযান চলাচলের দুর্ভোগ অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে সড়কের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বও নিশ্চিত হবে।”

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়ক এবং চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের বাগাদী-বর্ডার বাজার অংশ চাঁদপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক যোগাযোগপথ। প্রতিদিন সড়ক দুটি দিয়ে হাজারো যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। সড়ক দুটির উন্নয়ন সম্পন্ন হলে ঢাকার সঙ্গে চাঁদপুরের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। পাশাপাশি নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও চট্টগ্রামমুখী আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর ও গতিশীল হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও চালকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ, কার্পেটিং উঠে যাওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিযানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

তাদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে যাতায়াতের সময় কমবে, যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে চাঁদপুর জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়