প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৫
স্মৃতিতে প্রয়াত কর্নেল (অব.) দেলোয়ার হোসেন

শাহরাস্তি উপজেলার নিজমেহার গ্রামের পাটোয়ারী বাড়িতে এখনও বয়ে চলে এক বেদনাময় স্মৃতি। পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত লে. কর্নেল (অব.) দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রশনী ফাতেমার স্মৃতি আজও পরিবার ও এলাকাবাসীর মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেনের মা জুলেখা বেগম কয়েক বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন। জীবদ্দশায় তিনি ছেলে ও পুত্রবধূকে হারানোর শোক কখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। শেষ বয়স পর্যন্ত ছেলের স্মৃতি মনে করে অশ্রুসিক্ত হতেন।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান লে. কর্নেল (অব.) দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রশনী ফাতেমা। বিডিআর বিদ্রোহের সময় ঢাকায় অবস্থানকালে তারা নিহত হন। ওই ঘটনায় বহু সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে তিনিও প্রাণ হারান, যা দেশের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
নিহতের বড় ভাই হাজী আমীর হোসেন পাটোয়ারী বলেন, দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও পরিবারের শোক আজও কাটেনি। ছোট ভাই ও তাঁর স্ত্রীর স্মৃতি এখনও সবার হৃদয়ে দগদগে ক্ষত হয়ে রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, দেলোয়ার হোসেনের দু কন্যা রয়েছে। বড়ো মেয়ে শারমিন ফাইরুজ পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে চট্টগ্রামে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন। ছোট মেয়ে নাজিফা ইশমাম যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন।
শারমিন ফাইরুজ বলেন, একসঙ্গে বাবা-মাকে হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সময়ের সঙ্গে জীবন এগিয়ে গেলেও সেই শোক আজও তাড়া করে ফেরে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
স্থানীয়দের কাছে দেলোয়ার হোসেন একজন সৎ, দক্ষ ও আদর্শ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যু শুধু পরিবার নয়, পুরো শাহরাস্তিবাসীর জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে আছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেলোয়ার হোসেনকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে বাবার চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামে। নিজ এলাকার সন্তান হিসেবে শাহরাস্তি উপজেলায়। পারিবারিক আত্মীয়তার বন্ধনের কারণে সম্পর্ক ছিলো এই পরিবারের সাথে অনেক গভীর। পিলখানার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী দুজনই শহীদ হয়েছেন। মনের মাঝে রক্তের যে দাগ রয়েছে তা শুকাবার নয়। সেদিনের সেই স্মৃতি মনে হলে আজও চোখে পানি চলে আসে। পিলখানার ঘটনায় নিহত সবাইকে মহান আল্লাহ জান্নাতবাসী করুন, আমিন।






