প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:২৪
জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের পাশে যখন সিভিল সার্জন

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় হতদরিদ্র রোগীদের আরো বেশি উন্নত সেবা নিশ্চিতে এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে উদ্যোগ নিচ্ছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের নির্দেশনায় রোগীদের হয়রানিমুক্ত আরো উন্নত সেবা দেয়া এবং কম খরচে ভালো সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়ার পর এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি দপ্তরটি। চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের এ হাসপাতাল ছাড়া অন্যত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হলে হ্রাসকৃত মূল্যে যেনো প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় সে লক্ষ্যে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের সাথে আলোচনা সভা করেছেন সিভিল সার্জন। সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় সিভিল সার্জন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলার নেতৃবৃন্দও বিশেষ ছাড়ে জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. নূরে আলম দ্বীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জেনারেল হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিতে আসে তাদের বেশিরভাগই হতদরিদ্র। নানা সীমাবদ্ধতা থাকার পরও সেবা দেয়া হচ্ছে। সেবার মান বাড়াতে এবং রোগীদের হয়রানি বন্ধে আমরা আরো সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছি। নানা সময় প্রয়োজনেই রোগীদের নানা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রাইভেট হসপিটাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করতে হয়, এতে বাড়তি টাকা গচ্ছা যায় রোগীদের। কম খরচে বা বিশেষ ছাড়ে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা যেনো সেবা পায় সে লক্ষ্যে প্রাইভেট হসপিটাল এবং ডায়াগনস্টিক মালিকদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, মানহীন কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার যেনো পরিচালিত না হয় সেদিকে আমাদের পাশাপাশি প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক মালিক অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্ব রয়েছে। আপনারা যেহেতু সেবার মনোভাব নিয়েই ব্যবসা করতে এসেছেন তাই একটু বেশি ছাড় দিতে হবে। সভায় জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের প্রাইভেট হসপিটাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা হলে একটা ভালো পার্সেন্টেজে ছাড় দেয়ার বিষয়ে সভায় ঐকমত্য হন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের হতদরিদ্র রোগীদের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় এমপির অভিপ্রায়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যে সভাটি করলেন, সেটি নিঃসন্দেহে মহৎ উদ্যোগ। তিনি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের কাছ থেকে মানবিকতার প্রতিশ্রুতিও আদায় করেছেন। এমনটি নিকট ও সুদূর অতীতে দেখা যায় নি বললেই চলে। সেজন্যে সিভিল সার্জনকে স্যালুট জানাতেই হয়। তাঁর এমন উদ্যোগে কমিশনভোগী কিছু চিকিৎসক ও দালাল যে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাতে সন্দেহ নেই। সেজন্যে তারা প্রকাশ্য-গোপনে এ মহৎ উদ্যোগটি বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। সে ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই পর্যবেক্ষকের মুখ্য ভূমিকায় সচেতন হতে হবে। এমপির সহযোগিতা নিয়ে কর্মরত আনসারদের কাজে লাগিয়ে হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার ব্যাপারে নিরাপস হতে হবে। দালালদের নিয়োগকর্তা কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়কে নিতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পদক্ষেপ। আর তাতেই প্রকৃত কাজ দেবে। মনে রাখতে হবে, সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠে না।




