প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১০:২২
ইতালি প্রবাসী বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন মিম
লন্ডনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল

বাংলাদেশি দম্পতি ইতালীয় নাগরিক শাহীন খলিল কাউসার ও আঁখি সীমা কাউসারের দ্বিতীয় সন্তান শাওরিন কাউসার মিম অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন লন্ডনের একটা ইউনিভার্সিটিতে। লন্ডনের বিখ্যাত কিংস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২৪ সালে এয়ারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে অবাক করে দেন বাংলা ভাষাভাষীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীকে। দীর্ঘ স্বপ্নের তরী বেয়ে লন্ডনে গিয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন মিম। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। অদম্য মনোবলে নারীদের সাফল্যের উদাহরণ মিম।
জানা গেছে, মিম ইতালিতেই জন্মগ্রহণ করেন। ইতালির স্কুল-কলেজের পড়াশোনা শেষ করে স্কলারশিপ নিয়ে চলে যান সুদূর লন্ডনে। সেখানে কিংস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২৪-এ এয়ারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করে সফলতার সাথে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে বাংলাদেশকে তুলে ধরেন।
সম্প্রতি মিমকে যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য কিংস্টোন ইউনিভার্সিটি, লন্ডনে তাঁর সফলতার জন্যে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্নকরণ অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ সাদর সম্ভাষণ জানায়। এ সময় তাঁর বাবা-মা ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মিমের এই অর্জনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা দার্শনিক, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সদ্য মাস্টার্স সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী শাওরিন কাউসার মিম বলেন, তিনি আগামী দিনে পিএইচডি সম্পন্ন করতে আগ্রহী এবং গবেষণার মাধ্যমে বিশ্বমানের জ্ঞানচর্চায় নিজেকে গড়ে তুলতে চান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মিম লন্ডনে এয়ারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাঁর মেধা, অধ্যবসায় ও আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতার এক উদাহরণ।
তাঁর পরিবার বলে, মিমের এই যাত্রা প্রমাণ করে বাংলাদেশি সন্তানরা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে থেকেও সঠিক দিকনির্দেশনা, পারিবারিক সমর্থন, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে বিশ্বপরিমণ্ডলে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা কঠিন কোনো কাজ নয়। মিমের এই সাফল্য শুধু একটি পরিবারের সাফল্যের গল্পে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাংলাদেশের অগণিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্যে একটি অনুপ্রেরণার বার্তা।
মিমের বাবা-মা শাহীন ও আঁখি সীমা কাউসার বলেন, সন্তানদের স্বপ্ন দেখতে দিন, তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান, নৈতিকতা ও শিক্ষার মূল্যবোধ শেখান। বিশ্বাস লালন করুন--ইনশাআল্লাহ, নিশ্চয়ই সাফল্য একদিন ধরা দেবে।
তাঁরা বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি পরিচয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এমন প্রতিটি সাফল্যই আমাদের আগামী প্রজন্মের পথচলাকে আরও আলোকিত করবে। অন্যদিকে এই দম্পতির বড়ো কন্যা সন্তান শাধমা কাওসার পূর্ণতা (মিমের বড়ো বোন) ডাক্তারিতে পড়াশোনা করছেন। খুব শীঘ্রই একজন ডাক্তার হিসেবে দেখা যাবে ইতালিতে। তাঁর পরিবার জানায়, তিনি পড়ালেখা শেষ করবেন আগামী বছর। তাঁর ইচ্ছা তিনি নিউরো সার্জন হবেন। শাধমা কাওসার পূর্ণতা ২০২১ সালে কেমিস্ট্রিতে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন রোমের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ লা’সাপিয়েন্সা ইউনিভার্সিটি থেকে।








