সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৬-২৫ মার্চ নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১০:০৪

মতলব উত্তরে কিশোর গ্যাংয়ের এতোটা দৌরাত্ম্য!

অনলাইন ডেস্ক
মতলব উত্তরে কিশোর গ্যাংয়ের এতোটা দৌরাত্ম্য!

মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের রায়েরকান্দি গ্রামের নমপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় বরের বাবা, ভাই ও জেঠাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তারা থানায় মামলা করবেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়েরকান্দি গ্রামের জীবন চন্দ্র দাসের বাড়িতে বাবু লাল বিশ্বাসের ছেলে শম্ভু নাথের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিলো। এ সময় পার্শ্ববর্তী এলাকার নবীর হোসেনের ছেলে মহন (২৫)-এর নেতৃত্বে আল আমিনের ছেলে আরমান (১৮), বারেক বকাউলের ছেলে আবির হোসেন (১৬) ও জিসান (১৮)সহ ক’জন অনুষ্ঠানে এসে প্রথমে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে তারা ৩০ হাজার টাকায় নেমে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আয়োজক পক্ষ তিন হাজার টাকা দিলেও তারা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। এক পর্যায়ে তারা হামলা চালিয়ে বরের পিতা বাবু লাল বিশ্বাস ও ভাই ত্রিনাথ বিশ্বাসকে মারধর করে টেবিল-চেয়ার ভাংচুর ও আশপাশের বাড়িঘরে হামলা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। আহত ত্রিনাথ বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, আমরা প্রবাসে থাকি। ভাইয়ের বিয়েতে দেশে এসেছি। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে অনুষ্ঠান চলছিলো, আমরা ক্যারাম খেলছিলাম। তখন একদল কিশোর গ্যাং এসে হামলা চালায়। আমার গলার স্বর্ণের চেইন এবং ছোট ভাইয়ের গলার চেইন ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আমার মাথা ফেটে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা রঘুনাথ বিশ্বাস ও জীবনকৃষ্ণ সরকার বলেন, বিয়ে বাড়িতে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমরা আতঙ্কে আছি। প্রশাসনের কাছে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম মোল্লা বলেন, ঘটনার সময় আমরা তারাবীহের নামাজে ছিলাম। পরে খবর পেয়ে পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমিও পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের চাঁদাবাজি বা সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। স্মর্তব্য, মতলব উত্তর ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিলো। এখানকার অনেক সন্ত্রাসের ঘটনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রকাশের মতো সাহস কারো ছিলো না বললেই চলে। স্থলভাগের পাশাপাশি নদীতে বালু সন্ত্রাস তো ছিলো দুর্দমনীয়। ফ্যাসিবাদী সরকারের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে মতলব উত্তরের সন্ত্রাস-পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই ছিলো। সদ্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের ১০ দিনের মধ্যে মতলব উত্তরে টেন্ডারবাজিতে সরকারি দলের কিছু লোক এবং হিন্দু বিয়ের অনুষ্ঠানে কিশোর গ্যাং যতো দৌরাত্ম্য দেখালো, সেটা ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তো ঘটেনি, এমনকি তার পূর্বে ঘটেছে বলে কারো মনে পড়ছে না তথা স্মরণকালে ঘটে নি। চাঁদপুর জেলার অন্য কোথাও ঘটে নি। তবে এ দুটি ঘটনার চেয়ে আরো বড়ো ঘটনা মতলব উত্তরে ও অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। মতলবের সাম্প্রতিক ঘটনার মধ্যে হিন্দু বিয়ের অনুষ্ঠানে কিশোর গ্যাংয়র হামলাকে খুবই উদ্বেগজনক ও সাবোটাজমূলক ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। এই মতলব উত্তরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে বিএনপির মনোনয়নে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি), মতলব উত্তরের কৃতী সন্তান ড. জালাল উদ্দিনের প্রতি যে সমর্থন ব্যক্ত করেছে, দলে দলে বিএনপিতে যোগদান করেছে, জেলার অন্য কোথাও সেটা এতোটা প্রকাশ্যভাবে দেখা যায় নি। অথচ বিএনপি সরকার গঠনের ১০ দিনের মধ্যে এ হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে কিশোর গ্যাংয়ের স্বল্প ক’জন সদস্য যে দৌরাত্ম্য দেখালো, সেটা চরম দুঃখজনক। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন কী করে সেটা যেমন দেখার বিষয়, তেমনি এমপি মহোদয় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে কতোটা সংবেদনশীলতার সাথে দাঁড়ান সেটাও দেখার বিষয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়