প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৪
একাকীত্বেই শেষ হলো বৃদ্ধের জীবন প্রদীপ

মো. ইউসুফ আলী মাস্টার (৬০)। স্ত্রী মারা গেছেন প্রায় দু বছর আগে। তিন মেয়ে থাকেন স্বামীর বাড়িতে। একমাত্র ছেলে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে মেজো বোনের বাড়ি থেকে। ফলে পুরো বাড়িজুড়ে তিনি একাই বসবাস করেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালে সমবয়সী বন্ধুদের সাথে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে দোকানঘরে চা খেয়েছেন। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজখবর মিলেনি। অবশেষে প্রায় ৩০ ঘন্টা পর ঘরের পাশে উপুড় হয়ে পড়ে থাকাবস্থায় তার নিথর দেহের খোঁজ মিলে। স্ট্রোক করে মারা গিয়েছেন বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবারের স্বজনরা।
|আরো খবর
শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম বদরপুর আনিছ ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
নিহতের ভাই খোকন ভূঁইয়া জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) সকালে আমরা এক সাথে হারুনের দোকানে চা খেয়েছি। এরপর ভাই বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকে ভাইয়ের আর দেখা মিলেনি। ভাবী মারা যাওয়ার পর থেকে ভাই বাড়িতে একাই থাকতেন। তিন মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন, তারা তাদের স্বামীর বাড়িতে থাকে। মেজো মেয়ের কাছে থেকে ছেলেটা মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আজ জুমার নামাজের পূর্বে বাড়ির দু ছেলে তাকে নিথর অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের মেজো মেয়ে রেহানা আক্তার বলেন, আমার বাবা উচ্চ রক্ত চাপ ও হার্টের রোগী ছিলেন। আমার একমাত্র ভাই আমার কাছে থেকেই মাদ্রাসায় যায়। ভাইকে দিয়ে আমি আমার বাড়ি থেকে খাবার পাঠাই। গতকাল খাবার পাঠাতে পারিনি। বাবাকে একাধিকবার ফোন করেছি, বাবা ফোন রিসিভ করেননি। তাই মনে করেছিলাম আজ বাড়িতে আসবো। আজ ঠিকই এসেছি, কিন্তু বাবাকে জীবিত অবস্থায় পাইনি, বাবার মৃতদেহ পেলাম। দুদিন যাবত কোনো খবর নিতে পারিনি।
দু কিশোর সোহান ও শাহাদাত জানান, তারা মো. ইউসুফ আলী মাস্টারের কাছ থেকে লেবু কিনেন। বৃহস্পতিবার এসে খোঁজ নিয়ে না পেয়ে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তারা পুনরায় আসেন। একপর্যায়ে ডাক দিয়ে সাড়াশব্দ না পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দেখে, ঘরের পিছনের দিকে ছোট উঠানে গাছের পাশে উপুড় হয়ে পড়ে আছেন। পরে তারা বেরিয়ে এসে লোকজনকে জানান।
থানার অফিসার ইনচার্জ মো. এরশাদ উল্লাহ জানান, বৃদ্ধের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন আমাদের খবর দেয়। তাৎক্ষণিক আমিসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়না তদন্তে মৃতদেহ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।








