রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ২১:৩১

হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধে গণ্যমান্যদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া

হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধে গণ্যমান্যদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া

হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধের সূত্র ধরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মমিনুল হক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে অশালীন বাক্য প্রয়োগকারীদের বিচার চেয়েছেন স্থানীয়রা। শনিবার (৬ জুন ২০২৬) দুপুরে হাজীগঞ্জের দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের কাপাইকাপ এলাকায় এমন অভিযোগ করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্তরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করেন ওই এলাকার আলী আকবর মিজি, মুছাব্বর মিজি, বিল্লাল হোসেন ও এমদাদ মিজির পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচিত হলে পরে তিনি লাইভটি ডিলিট করে দেন বলে অভিযোগ করেন ওই সম্পত্তির বিক্রেতা করিম মিজি, খালেদা আক্তার ও ক্রেতা রিজনের পরিবারের সদস্যরা।

এলাকাতে ঘুরে জানা যায়, স্থানীয় করিম মিজির কাছ থেকে সাবেক ১৬৮নং কাপাইকাপ মৌজার সিএস ৮১, এসএ ৭৫, বিএস ৮০নং খতিয়ানভুক্ত সিএস ৩১৭, বিএস ৬৭৮ দাগে মোট ৪৪.৫০ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন একই এলাকার মো. সফিকুল ইসলাম। পরবর্তীতে সফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী মোসা. খালেদা বেগম একই এলাকার রিজন হোসেন, মিজানুর রহমান, হানিফ প্রধানীয়া ও শফিক প্রধানীয়ার কাছে ওই সম্পত্তি বিক্রি করে দেন।

এই সম্পত্তি নিয়ে আলী আকবর মিজি, মুছাব্বর মিজি, বিল্লাল হোসেন ও এমদাদ মিজির পরিবারের সদস্যদের সাথে বিরোধ চলে আসছে মৃত সফিকুল ইসলামের পরিবারের।বিষয়টি নিয়ে ১৪৫ সহ একাধিক মামলা এবং মামলায় তাদেরকে বিবাদী/প্রতিপক্ষ করা হয়। এর মধ্যে ১৪৫-এর রায় এবং আপিলে খালেদা আক্তারের মালিকানা ও বৈধ দখলদার হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। যার মিস মামলা নং-১৬/২০১৯, দরখাস্ত ন-৪৮৭/২০১৮।

উক্ত সম্পত্তির বর্তমান ক্রেতা রিজন হোসেন, মিজানুর রহমান, হানিফ প্রধানীয়া ও শফিক প্রধানীয়া শুক্রবার ওই সম্পত্তিতে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে ১৪৫’ মামলার প্রতিপক্ষ আলী আকবর মিজি, মুছাব্বর মিজি, বিল্লাল হোসেন ও এমদাদ মিজির পরিবারের সদস্যরা ওই ভূমিতে গিয়ে সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলেন এবং সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মমিনুল হক ও মিজানুর রহমান কমলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করেন।

হাসানাত মজুমদার নামের অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, আমাদের ১৩ শতক জমি রয়েছে এবং যার দাগ ও খতিয়ান আলাদা। অথচ তারা (আলী আকবর মিজি, মুছাব্বর মিজি, বিল্লাল হোসেন ও এমদাদ মিজির পরিবারের সদস্যরা) আমাদের জমিও জোরপূর্বক দখল করে হয়রানি করে যাচ্ছে।

এদিকে নূর আলম নামের একজন ফেসবুক লাইভে স্থানীয় এমপি ইঞ্জি. মমিনুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য না করলেও স্থানীয় মিজানুর রহমান কমলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন বলে লাইভের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ সময় স্থানীয় বহুজনে তাৎক্ষণিক উপস্থিত হয়ে জানান, সম্পত্তিগত বিরোধ তাদের দু পরিবারের পারিবারিক বিষয়। এখানে ইঞ্জি. মমিনুল হক এমপি মহোদয় ও মিজানুর রহমান কমলের কী দোষ। তাদের নামে মিথ্যা ও অশালীন মন্তব্য এবং অপপ্রচার কেন? আমরা এর প্রতিবাদ জানাই এবং তাদের বিচার চাই। নূর আলম ফ্যাসিস্টের দোসর। সে আওয়ামী লীগের ব্যানারে মেম্বার (ইউপি) নির্বাচন করেছিলেন।

এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা মুছাব্বর মিজির স্ত্রী শাহিদা বেগম জানান, এই সম্পত্তি নিয়ে ৩টি মামলা হয়েছে। আমরা ৭ বছর মামলা চালিয়ে রায় পেয়েছি। এরপর তারা আবার একটি মামলা দিয়েছে, আমরাও মামলা দিয়েছি এবং পরে তারা আবার ঢাকায় রিট করেছে। ওই রিটও আমরা পেয়েছি। এখন তারা আমাদের গাছপালা কেটে এবং সাইনবোর্ড ভেঙ্গে দিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপিয়েছে।

এদিকে মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে নুর আলম বলেন, এমপি মহোদয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু লোক আমাদের সম্পত্তি দখল করতে গেলে আমরা বাধা দেই। এখানে আমরা এমপি সাহেবসহ কাউকে খারাপ কিছু বলিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমে আলমগীর ফেসবুকে লাইভ করেছে। পরে সে তাদের চাপ সৃষ্টিতে লাইভ কেটে দিয়েছে। ওই লাইভে সে কী বলেছে না বলেছে তা আমি বলতে পারবো না।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়