সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৭

চিকিৎসাবিজ্ঞানে অপ্টোজেনেটিক্স ও আলোর গুরুত্ব

ডা. পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
চিকিৎসাবিজ্ঞানে অপ্টোজেনেটিক্স ও আলোর গুরুত্ব

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে নানাভাবে এগিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞান। একসময় ঝাড়ফুঁকে আটকে থাকা চিকিৎসা আজ আলোর হাতে অর্পিত হয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের গবেষণায়। আলো ব্যবহার করে চিকিৎসার নতুন দ্বার উন্মোচনকারী এ শাস্ত্রের নাম ‘অপ্টোজেনেটিক্স’। সম্প্রতি সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা একাডেমি হতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঘোষিত নোবেলে স্বীকৃত হলো অপ্টোজেনেটিক্সের গুরুত্ব। ২০২৬ সালে অপ্টোজেনেটিক্স নিয়ে গবেষণার কারণে চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী: কার্ল ডেইসেরথ (যুক্তরাষ্ট্র), পিটার হেগেম্যান (জার্মানি) এবং গেয়র্গ নাগেল (জার্মানি)। তাঁরা এককোষী শৈবালে ‘চ্যানেলরোডপসিন’ (ঈযধহহবষৎযড়ফড়ঢ়ংরহ) নামক একটি বিশেষ প্রোটিন আবিষ্কার করেন, যা আলোর প্রতি সংবেদনশীল। এই প্রোটিনটি যেকোনো কোষে প্রবেশ করালে সেই কোষ আলোর প্রতি সাড়া দিতে সক্ষম হয়।

অপ্টোজেনেটিক্স কী

অপ্টোজেনেটিক্স হলো একধরনের জীববিজ্ঞানসম্মত বিশেষ কৌশল যা দ্বারা স্নায়ুকোষ এবং অন্যান্য কোষের চরিত্র ও কার্যাবলী আলোর সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটা সম্ভব হয় উদ্দিষ্ট ব্রেনকোষে আলোক সংবেদনশীল আয়ন চ্যানেল, পাম্প বা উৎসেচকের উপস্থিতির কারণে। এ শাস্ত্রের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের নাম হলো ন্যানো অপ্টোজেনেটিক্স।

অপ্টোজেনেটিক্সের মাধ্যমে ব্যক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শিক্ষণ, ভীতির স্মৃতি, সঙ্গ, আসক্তি, আহার গ্রহণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অন্ধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার দৃষ্টিশক্তিও ফিরে পাওয়া যায়। অপ্টোজেনেটিক্স ব্যবহার করে ব্রেনের কার্যকর সংযোগের মানচিত্র পাওয়া যায়।

ক্লিনিক্যালি অপ্টোজেনেটিক্সের মাধ্যমে পার্কিনসন্স ডিজিজ, বিষণ্নতা, সিজোফ্রেনিয়া, মাদকাসক্তি, অটিজম, উদ্বেগ ইত্যাদি রোগ নিরাময় করা সম্ভব।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে আলোর গুরুত্ব

অপ্টোজেনেটিক্সের বাইরেও চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয়ে আলোর ব্যবহার অতীব গুরুত্বপূর্ণ। যেমন :

১. ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি : সূর্যের আলো ব্যবহার করে আমাদের ত্বক প্রো-ভিটামিন ডি থেকে ভিটামিন ডি এর অ্যাক্টিভ ফর্ম তৈরি করে।

২. নবজাতক শিশুদের ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিসের চিকিৎসায় নীল আলোর থেরাপি দরকার হয়। এর দ্বারা জন্ডিসের জন্যে দায়ী বিলিরুবিনকে ভেঙে ফেলা হয়।

৩. ভিটিলিগো বা শ্বেতী রোগের চিকিৎসায় সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রমাণিত। কিছু কিছু ক্রিম মুখে লাগিয়ে অতিবেগনি রশ্মির সংস্পর্শে আসলে শ্বেতী রোগ নিরাময় হয়।

৪. ক্ষত নিরাময়ে লাল আলোর ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর।

৫. চোখের কর্নিয়া ঠিক করতে এবং মায়োপিয়া দূর করতে ল্যাসিক (খঅঝওক) সার্জারিতে লেজার আলো ব্যবহার করা হয়।

৬. উচ্চ ক্ষমতার লেজার রশ্মি দিয়ে রক্তপাতহীনভাবে শরীরের ভেতরের টিউমার বা অস্বাভাবিক টিস্যু কেটে ফেলা বা পুড়িয়ে ফেলা যায়।

৭. ত্বকের দাগ, ব্রণের চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয় চুল সরাতে লেজার রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

চিকিৎসাকার্যের যন্ত্রপাতি বীজাণুমুক্ত রাখতে আলোর ব্যবহার

জীবাণুনাশক হিসেবে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কার্যকারিতা সর্বজন বিদিত।

১. নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অতিবেগুনি রশ্মি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণুর ডিএনএ ধ্বংস করতে পারে।

২. অপারেশন থিয়েটার, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বাতাস জীবাণুমুক্ত রাখতে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি ব্যবহার করা হয়।

ডায়াগনস্টিক বা রোগ নির্ণয়ের কাজে আলোর ব্যবহার

১. রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা নিরূপণে পাল্স অক্সিমেট্রি ব্যবহৃত হয়। এতে ত্বকের ওপর বিশেষ আলোর বিম ফেললে সহজেই অক্সিজেনের মাত্রা জানা যায়।

২. এন্ডোস্কোপি ও ব্রঙ্কোস্কোপির মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে ফুসফুসের টিউমার সনাক্ত করা যায়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়