প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ০১:৩৯
ময়লার ভাগাড় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে হাসপাতাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ঠ জনজীবন
|আরো খবর
চাঁদপুর-রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে ময়লার ভাগাড়ের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধ পাশে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খাবারের দোকান এবং বিপরীত পাশে থাকা হাসপাতালগুলোতে ছড়াচ্ছে। যা বড়ো ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের সামিল। আর এর কারণে বেড়েছে মশার উপদ্রব। এসব মশা কয়েল, স্প্রে, কিংবা অন্য কোনো উপায়ে দমন করা যাচ্ছে না।
জানা যায়, ২০০৫ সালে গঠিত ১৯.৭৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণির ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভা হলেও নেই কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। এছাড়া অপরিষ্কার ড্রেন মশার প্রজনন বাড়িয়ে দিয়েছে।
আবর্জনা ও দুর্দশাগ্রস্ত ড্রেনের কারণে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি বাড়ছে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়াবাহী মশার প্রকোপ। অন্যদিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনের জায়গায় লোকজন প্রতিনিয়ত ময়লা ফেলছে। অথচ ময়লা ফেলার পাশে কে আর আইডিয়েল স্কুল এন্ড কলেজ, বিভিন্ন বিপণী বিতান, খাবার হোটেল, বিপরীত পাশে ইসলামিয়া হাসপাতাল ও সেন্ট্রাল হাসপাতাল বিদ্যমান।
এছাড়া ময়লার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে চাঁদপুর- ফরিদগঞ্জ-রায়পুর- লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত গাড়ি চলাচল ও লোকজন যাতায়াত করছে।
বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘বাসার সামনের সড়কের ময়লার স্তূপ থেকে সারাদিন মশা-মাছি উড়ছে, পোকামাকড় হাঁটছে। সেগুলো ঘরেও ঢুকছে। মাসের পর মাস এই অবস্থা চললেও কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের নজর নেই।’
স্কুলে নিজের সন্তানকে দিতে আসা একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিভাবক বলেন, ময়লার ভাগাড়টি পার হবার সময় মনে হয় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থী ও পাশ দিয়ে চলাচল করা লোকজন নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তরুণ রাজনীতিবিদ, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম এম টুটুল পাটওয়ারী বলেন, আমরা প্রায়শই ময়লার ভাগাড়ের পাশের মাঠে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করি। সমাবেশ চলাকালে ময়লার দুর্গন্ধের কারণে মানুষ দাঁড়াতে পারে না। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কয়েকবার কেরোসিন দিয়ে ময়লাগুলো পুড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু লোকজন আবারো ওই স্থানে ময়লা ফেলছেই, ফলে দুর্গন্ধ কমছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, মহাসড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ময়লার ভাগাড় পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্যে বিপজ্জনক। বিষয়টি ভেবে দেখা প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, আমরা গত কয়েক বছর ধরেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্যে জমি খুঁজছি। কিন্তু কোনো স্থান নির্বাচন করলেও স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে তা হচ্ছে না। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ময়লা না ফেলার জন্যে পৌরবাসীকে বারংবার সতর্ক করা হচ্ছে।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








