প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩
দেবদাস কর্মকারের কবিতা
মিশে আছি অনৃত আঁধারে
অনৃত আঁধার ঠেলে দাঁড়িয়ে আছি একটি ভাঙা কালভার্টের উপর
এইমাত্র গ্রামীণ সন্ধ্যা নেমেছে, দুদিকে
সুদূরপ্রসারী বিল
জলের উপর আকাশ এসেছে নেমে, কী উজ্জ্বল শুকতারাটির মুখ
মাঝে মাঝে আকাশকে গিলে খায় মেঘের আকাল
গাঢ় অন্ধকারে যেন অদ্ভুত লাবণ্যময় নিঃসঙ্গতা
দূরে কালো কালো গাছপালা সাঁঝ বাতি জ্বলে ওঠে ঘরে
কতোদিন পর ব্যাঙের প্রেমের শব্দ ডাহুকের ডাক।কে যেন কোথায় ডেকে এনেছে এখানে
যখোন ভাবনারা গভীর অন্ধকারে নিমগ্ন আমি
হঠাৎ একটি চারুহাত ছুঁয়ে যায় ধীরে
চেয়ে দেখি সুবর্ণ কঙ্কণের সাথে আঙুলের ভাঁজে
একটি পদ্মাবতী কলি ধরে আছে সম্মুখে আমার,
এই প্রদোষ কালে
মুষ্টিতে নেই তুলে তাকে কী অপূর্ব শিহরিত ঋণে।
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২০ ভাদ্র ১৪৩৩কাকভোরে যাচ্ছি দূরের ট্রেনে
আদিত্য নগর ছেড়ে যাচ্ছি দূরের ট্রেনে
আমার ব্যাকুলতাগুলি নির্মোহ শূন্যে ভাসে
জলভরা মেঘ সূর্য সুতায় ঝুলে আছে
বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর ছুঁয়ে ছুটে চলেছি
গন্তব্যহীন পথে।চারদিকে অসংখ্য অচেনা মানুষের নানা প্রশ্নবিদ্ধ ভীড়
বিভিন্ন মুখের গড়ন ক্লান্তি আশা নিরাশার ছবি
নারী পুরুষে একসাথে গাদাগাদি কস্পার্টমেন্ট
ফেরীআলা, ভিক্ষুক, টিকিট চেকার, উদ্ভ্রান্ত যুবক,
নতুন স্টেশন ধাক্কাধাক্কি, নেমে যায় মানুষ
আবার নতুন যাত্রীতে ভরে ওঠে শূন্যস্থান ।ক্ষীণোজ্জ্বল আকাশ থেকে ঢেকে যায় আলো
গম্ভীর মেঘের খেয়ায় ভর করে ঝেঁকে আসে বৃষ্টি
মনের ভিতর অতীত অদৃশ্য হয়, ঠেলাঠেলি করে থাকে অদ্ভুত বর্তমান
ট্রেনের হুইসেল বেজে ওঠে যখোন বিরক্ত মনে স্টেশনে নামি
চেয় দেখি দারুণ মিত্রতা নিয়ে অনিরুদ্ধ ভর করে আছে পথে।
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, আখাউড়া, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩।








