বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬

দু দশকের সংগীত জীবনের অবসান

গিটারের তারে আর উঠবে না সুর, পড়বে না সাদ্দামের হাতের ছোঁয়া

কবির হোসেন মিজি
গিটারের তারে আর উঠবে না সুর, পড়বে না সাদ্দামের হাতের ছোঁয়া

চঁাদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ, গিটারিস্ট ও সংগীতশিল্পী সাদ্দাম হোসেন রণির আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ দু দশকেরও বেশি সময় ধরে গিটারের সুরে তিনি চঁাদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন। বিভিন্ন ব্যান্ড ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে মঞ্চে গিটার বাজানোর পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করেছেন তিনি। তঁার অকাল প্রয়াণে চঁাদপুরের সংগীতাঙ্গনে তৈরি হয়েছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।

সাদ্দাম হোসেন রণির সাংস্কৃতিক পথচলার শুরু ২০০৪ সালে। ওই বছর তিনি চঁাদপুরের জনপ্রিয় ‘প্যারাডাইস’ ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর থেকেই চঁাদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনে তঁার নিয়মিত পদচারণা শুরু হয়। গিটার বাজানোর পাশাপাশি সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অল্প সময়েই তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্যারাডাইস ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেন। পরে ২০০৭ সালে তিনি ‘কুয়াশা’ ব্যান্ডে গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত হন। একই সময়ে চঁাদপুরের ‘চতুরঙ্গ’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন। চতুরঙ্গের কণ্ঠশিল্পী ও গিটারিস্ট হিসেবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিয়ে তিনি সংগঠনটির কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সংগীতের প্রতি তঁার ভালোবাসা ও নতুন কিছু করার প্রত্যয়ে ২০১৮ সালের দিকে কয়েকজন সংগীতশিল্পীকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘এ মাইনর ব্যান্ড’। ব্যান্ডটির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিটার বাজানো ও সংগীত পরিবেশন অব্যাহত রাখেন তিনি।

চঁাদপুরের ঐতিহ্যবাহী মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা, জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ ছিলো সাদ্দাম হোসেন রণির। এছাড়া চঁাদপুরের বিভিন্ন উপজেলা এবং জেলার বাইরের নানা সাংস্কৃতিক ও ব্যান্ড সংগীতের অনুষ্ঠানেও তিনি গিটার বাজিয়েছেন এবং সংগীত পরিবেশন করেছেন। দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক পথচলায় তিনি সহশিল্পী, আয়োজক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন আন্তরিক সম্পর্ক।

করোনা মহামারির পর কর্মজীবনের প্রয়োজনে তিনি ঢাকার ৩০০ ফুট এলাকায় একটি বড় চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। তবে কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সংগীত থেকে দূরে থাকেননি। ঢাকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সংগীত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নানা স্থানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড পরিবেশনায় গিটার বাজানো এবং সংগীত পরিবেশন অব্যাহত রাখেন।

চলতি বছরের ২৪ জুলাই ছিলো চঁাদপুরের মঞ্চে তঁার সর্বশেষ পরিবেশনা। ওই দিন মেসার্স আজিজ ব্রাদার্সের আয়োজনে চঁাদপুর এলিট চাইনিজ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি গিটার বাজান এবং সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি ঢাকায় ফিরে যান।

এর মাত্র দুদিন পর, ২৬ জুলাই ভোর রাত আনুমানিক ৪টায় ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তঁার আকস্মিক মৃত্যুতে চঁাদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনের শিল্পী, সংগঠক ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘ সাংস্কৃতিক জীবনে সাদ্দাম হোসেন রণি ছিলেন চঁাদপুরের সংগীতাঙ্গনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। মঞ্চের আলো, গিটারের তারে তোলা সুর আর সহশিল্পীদের সঙ্গে তঁার পথচলার স্মৃতি চঁাদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে। গিটারের সুর থেমে গেলেও সংস্কৃতির মঞ্চে তঁার রেখে যাওয়া স্মৃতি ও অবদান বেঁচে থাকবে শিল্পপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়