শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:০০

পাঠক ফোরামের কবিতা

অনলাইন ডেস্ক
পাঠক ফোরামের কবিতা

ক্ষুদীরাম দাস আল্লাহর প্রশংসা করা উত্তম

নিখিল ভুবনে যাহা কিছু আছে,

মহিমা তাহার ফুটে ওঠে কাছে।

ভোরের সূর্য, রাতের তারা,

রব্বের প্রেমে জগত মাতোয়ারা।

সাগরের ঢেউ, বাতাসের সুর,

গায় হামদ তাঁর, পাপ করে দূর।

পাহাড়ের চূড়া, নদীর ধারা,

সৃষ্টিতে তাঁরই করুণা সারা।

বৃক্ষের পাতায় ফোটে যে প্রাণ,

সবে করে তাঁর মহিমা গান।

পাখিদের মিষ্টি সুরের তানে,

প্রভুর প্রশংসা বাজে হর ধ্যানে।

জীবন দিয়েছেন যে প্রভু মহান,

তাঁর নামে সঁপা আমাদের প্রাণ।

জিহ্বায় ফুটুক জিকিরের বাণী,

সত্য তো একÑতাঁর শ্রেষ্ঠত্ব জানি।

'আলহামদুলিল্লাহ' ধ্বনি অন্তরে,

শান্তি এনে দেয় জীবনের ঘরে।

সুখে তো তাঁহার শুকরিয়া করি,

দুঃখেও তাঁরই করুণা ধরি।

তিনি তো রহমান, তিনি তো রহিম,

দয়া ও মায়ায় তিনি যে অসীম।

পাপিষ্ঠ মোরা, ভুল করি কত,

তবুও তিনি তো ক্ষমাতে রত।

রিজিকদাতা তিনি সর্বজনীন,

কাটে তাঁরই দয়ায় আমাদের দিন।

বিপদের মাঝেও স্মরণ করি,

উদ্ধার করেন পরম আদরি।

অহংকার ছাড়ি সেজদায় নমি,

ধন্য করি যে এ দেহ-জমি।

অন্তরে জাগে ভক্তির জোয়ার,

খুলে যায় দ্বীন ও হিদায়াত-দুয়ার।

যে জন গাহে গো প্রভুর গান,

জুড়ায় তাহার আকুল প্রাণ।

প্রশংসা করিলে বাড়ে নিয়ামত,

সহজ হয়ে যায় জান্নাত-পথ।

জবান সতেজ রাখো হামদ গুনে,

ফেরেশতারা লেখে কান পেতে শুনে।

জীবন তো ক্ষণিকের এক মেলা,

রব্বকে ভুলিয়া কাটাইও না বেলা।

এসো সবে বলি হৃদয়ের মাঝে,

আল্লাহর প্রশংসাই সেরা সব কাজে।

আসাদুজ্জামান খান মুকুল

বর্ষার জলছবি

ঘন ঘোর মেঘমালা

গগণে যে ভাসিছে,

বিজলীর চমকেতে

চারিদিক হাসিছে।

রিমঝিম বারিধারা

অবিরাম ঝরিছে,

মাঠঘাট নদীনালা

জলে সব ভরিছে।

কদমের কুঁড়িগুলি

বৃষ্টিতে ফুটিছে,

ভ্রমরেরা গুঞ্জরি

ফুলপানে ছুটিছে।

ব্যাঙগুলো আনন্দে

একটানা ডাকিছে,

কৃষকেরা বারি পেয়ে

স্বপ্নকে আঁকিছে।

তটিনীর বুকে মাঝি

নায়ে পাল তুলিছে,

ভাটিয়ালি গানে তার

মনোব্যথা ভুলিছে।

মনির হোসেন খান

ফেরিওয়ালা

কেউতো আছেন লেইস ফিতা আর রেশমী চূড়ির ফেরিওয়ালা,

কেউবা আবার আইসক্রিম আর হাওয়াই মিঠাইর ফেরিওয়ালা,

কেউবা আবার ধ্যান ধারনার

জ্ঞান গরিমার ফেরিওয়ালা।

কেউবা আছেন অনেক নাচেন, নাচের ফেরিওয়ালা,

কেউবা আছেন বিন্দাস বাঁচেন, বাঁচার ফেরিওয়ালা

কেউবা আছেন ক্ষুদায় বাঁচেন, ক্ষুদার ফেরিওয়ালা।

আসলে ভাই বাঁচা মরার এমন খেলায় সবাই ফেরিওয়ালা,

কেউবা আছেন সহজ সরল

কেউবা আছেন প্যাচে গরল

প্যাচের ফেরিওয়ালা,

কেউবা আছেন বলছেন দারুন, আমি মানবতার ফেরিওয়ালা,

ফেরিওয়ালা, ফেরিওয়ালা

এ কি জটিল ফেরির খেলা

আসলে ভাই শুনছেন সবি, দেখছেন সবি ঐ যে উপরওয়ালা।

হোসেন বেপারী

বিলাসী বর্ষা

বর্ষা এলে

কারো জাগে বিলাসিতা

কারো ভাঙে ভিটেমাটি ঘর

আর্তনাদে কাঁপে নদীতীর

কেন আসে বর্ষা বছর-বছর?

বৃষ্টির পরশে ফেরে প্রকৃতির প্রাণ

কারো কারো জেগে ওঠে বেদনার গান

বিলাসী বর্ষায় ফোটে কেয়া কদম

জুড়ায় বিলাসী প্রাণ।

কারো ঝরে অশ্রু, বিষাদের বান।

দাবদাহে প্রকৃতি পুড়ে একাকার

শীতল পরশে ঝরে মেঘ বর্ষার

এ পরশের মাঝে আমাকে দাও ঠাঁই,

বর্ষায় শুধু প্রাণে প্রাণে স্নিগ্ধতা চাই।

ছবি-৩১

শেখ মোমতাজুল করিম শিপলু

বর্ষার ফুল

ফুলকে সবাই ভালোবাসে

স্বর্গের পরশ মাখা,

বৃক্ষ ডালে দোপাটি রূপ

যেনো স্রষ্টার আঁকা।

শাপলা পদ্ম হাওর বিলে

কী আকর্ষণ বনে,

কামিনীর ঘ্রাণ হৃদয় কাড়ে

ধবল প্রাঞ্জল মনে।

সাদা লালের রং বাহারি

জবার পাপড়ি মেলি,

গন্ধরাজের গন্ধ ছড়ায়

আরো সাদা বেলি।

বঁধুয়া ফুল মিষ্টি ভারী

মন রাঙ্গানো কেয়া,

স্রষ্টার সৃষ্টি অপূর্ব সব

বিধান মতো দেয়া।

মৌমাছি আর পাকপাখালি

মধু খায় যে মিলি,

বর্ষা ঋতুর আরেকটি ফুল

তিনটি রঙের লিলি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়