প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩
পাঠক ফোরামের কবিতা

এম আর এম শোভন গরিবের স্বপ্নের কোরবানি
রঙ চায়ের দোকানে ধোঁয়া ওঠা গ্লাসে,
দিন কাটে রহিমের, ব্যস্ততা আশপাশে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা, চুলার আঁচ,
স্বপ্ন বুণে সে মনে মনে।
সামনে ঈদ এল বলে অন্তরে ভারী উত্তেজনা,
সারা বছর জমানো টাকা হিসাবের কী যে চেনা!
রহিমের চোখে আজ স্বপ্নরা অনেক অচেনা।
সে ভাবে, এবার সে কিনবে ভাগে কোরবানির গরু,
কোরবানির হাটে গিয়ে যেন এক নতুন অনুভূতি।
ঈদের খুশিতে হবে ছেলে-মেয়েদের আনন্দের শুরু।
বিত্তের মাপজোখ তার তো নেই জানা,
সাধ্যের সীমানায় স্বপ্নটা খুব করে আগলে রাখা।
রঙ চায়ের ধোঁয়াতেই আঁকা তার সেই ছবি,
গরিবের ইবাদতে হয় আল্লাহও যেন খুশি।
স্বাদহীন চায়েও তার স্বপ্নরা পায় প্রাণ,
কোরবানির ত্যাগে সে খুঁজে পায় জীবনমান।
পকেট তো শূন্যই, তবু মনভরা এক আশা,
সৃষ্টিকর্তার নামে অর্পণে মিশে থাকে ভালোবাসা,ছোট্ট মেয়েটি বলে
সবাই তো কোরবানি দিবে, দেবে না তুমি বাবা?
ছেলেটির মনে কী যে আনন্দ কোরবানির কথা শুনে।
জীবনের হিসাব মিলে না
তবুও হিসাব মিলিয়ে দেখি শূন্য পকেট
শূন্য চারদিক ভরা
শূন্য জমা কীভাবে দেবো কোরবানি
তবু আশা নাহি ছাড়ি চোখের পানিতে ভিজে যায় এ বুক,
কোরবানির গরুর পরিবর্তে
বাবার লাশ নিয়ে কারা যেন আসছে ধীরে ধীরে
তাদের মধ্যে একজন বলল
‘তোমার বাবার দেহটা পেয়েছি ছিন্নভিন্ন অবস্থায়
রাস্তার পাশে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েছিল’।দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যু যেন নাহি মানা যায়
ছেলে মেয়েগুলো চিৎকার করে বলছে
‘কোরবানি লাগবে না বাবা...
বাবা তুমি ফিরে এসো’।সুনির্মল দেউরী
ইউরেকার গল্পঐ যে জাহাজ পানির উপর
ভেসে থাকে কেন?
কেমন করে পণ্য ধরে
তোমরা কি তা জানো?টুকরো লোহা ডুবে যায়
ভাসে লোহার জাহাজ!
না জানলে একে অন্যে
করবে তোমরা বাহাস।কোথায় জাহাজ চালনা সহজ
দু’য়ের মধ্যে বলো,
সাগর নাকি নদীর বুকে?
জ্ঞানের ডানা মেল।আর্কিমিডিস দিয়ে গেছেন
প্লাবতার নীতি,
ইউরেকা ইউরেকার গল্প থেকে
চলো আমরা শিখি।জল অপসারণ করে তার
নিজের ওজনের বেশি,
তাই তো জাহাজ ভেসে রয়
জেনে হবে খুশি!নিজের ওজনের কম জল
করলে অপসারণ
যেকোনো কিছু ডুবে যাবে
সহজ সমীকরণ।সাগর জলে লবণ থাকায়
বেশি হয় ঘনত্ব
সাঁতার ও জাহাজ চালনা সহজ
এটাই মূল তত্ত্ব।








