শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৪

পাঠক ফোরামের কবিতা

অনলাইন ডেস্ক
পাঠক ফোরামের কবিতা

ক্ষুদীরাম দাস অন্তরের প্রার্থনা: সহ্য করার শক্তি

যতই আসুক কঠিন বাধা, ভাঙুক সুখের ঘর,

তোমার শক্তিতে হই যেন প্রভু, পাহাড়ের মতো স্থির।

অন্ধকার এই জীবন পথে জ্বেলে রেখো তব আলো,

দুঃখের মাঝেও শিখিয়ে দিও বাসতে তোমায় ভালো।

ভেঙে পড়লে হাতটি ধরো, দিও মনে খুব বল,

মুছিয়ে দিও করুণা ভরে চোখের বিষাদ জল।

ধৈর্য যেন হারাই না গো, দিও অসীম শক্তি,

তোমার চরণে নিবেদন করি একবিন্দু মোর ভক্তি।

ঝড়-তুফানেও হাল না ছাড়ি, থমকে না যাই পথে,

পৌঁছে দিও আমায় তুমি বিজয়ের সেই রথে।

সহ্য করার ক্ষমতা দিও, এই তো মিনতি আমার,

তোমার দয়ায় ঘুচে যাক প্রভু, সব যাতনা আঁধার।

এম আর এম শোভন আপন

পৃথিবীর মায়ায় পড়ে

জীবনের দীর্ঘ পথে

কত মানুষের ভিড়,

কত আপন মানুষ আসে যায়Ñ

তবু হৃদয়ে থেকে যায়

কিছু মানুষ আপন।

আপন আপন করি যারে

সে তো আপন নয়

তবুও আপন হয়।

দুঃখের সময়

যারা নীরবে পাশে থাকে,

চোখের ভাষা বুঝে

মুছে দেয় অশ্রুর দাগÑ

তারাই তো সত্যিকারের আপন।

সুখের দিনে সবাই আসে,

হাসির স্রোতে ভেসে যায় সময়;

তারাই তো আপন হয়।

নাইমুর রহমান

হায়াতের খাতা

এক একটা মাস হাজার বছর দীর্ঘ,

কাঠফাটা দুপুর গড়ায় অন্তহীন।

কখন আসিবে পূর্ণিমার জোছনা?

আঁধার রাতের শেষে হবে কি দিন?

প্রতিদিন আয়ু ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়,

রথের চাকা তবু চলে ধীরে পায়।

গন্তব্য বেহিসেব দূরে পড়ে আছে,

নিদ্রা ও তন্দ্রায় হায়াত ফুরিয়ে যায়

বাকি যা আছে তার অর্ধেক যাবে

ঘুমের কোলেতে নিঃশব্দে মিলায়।

বার্ধক্য আসে ভরে শূন্য দু হাত,

সময় ফুরালে কী আর হয় সাধ?

মাবুদ, তুমি ভালো যদি বাসো,

তবে ক্যান এই সামান্য হায়াত দিলে?

সহস্র মানুষের ঋণ এখনো বাকি,

কত ফিরিস্তি কাগজেই রাখলে!

তোমার হায়াতের খাতা অফুরন্ত,

সময়তো তোমার কাছে কেবলি সংখ্যা।

আমার বুকেতে জ্বলে অনন্ত আগুন,

পূরণ হয় না মনের কোনো ইচ্ছা।

ষাট বছর আয়ু, দশ তার শৈশবে,

দশ যায় আবার বার্ধক্যের ভারে।

বিশটা কাটে নিদ্রার অন্ধকারে,

সংসার কেড়ে নেয় বাকিটুকু সারে।

তোমারে দিবার সময় কই, মাবুদ?

নিজের তরেও ভাবিবার ফুরসত?

ক্যান এতো ছোট এই জীবন দিলে?

ক্যান তুমি এতো বেখবর, হে রব?

তুমি কেন এতো বেখবর? তুমি কেন এতো বেখবর?

রবিউল আলম মিজি

নয়না

পুরো পৃথিবীতে করেছি ভ্রমণ

কিছুই নেই স্মরণ

তবে ভুলতে পারিনি তোমার ঐ দু নয়ন।

চোখ তোমার সূর্য

কাজল সমুদ্রের শেষ সীমানা

তুমিহীনা আমি কিছুই না।

আমি ক্রয় করিনি ফুল তোমার চোখের দিকে তাকানোটাই ছিল আমার ভুল।

তোমার চোখেল পলক

সূর্যের ঝলক

তোমার চোখের পাপড়ির জাদু

করেছে আমার কাঁবু

তারার আলো রাতের ঝলক

কাজল তোমার আমার পলক।

নয়ন তাহার সুখ আমার

চন্দ্র তাহার উপমা

তুমি নও কল্পনা

তবে কেন আমার না।

কাজল তাহার নক্ষত্রের হাহাকার আল্লাহ তাহার রূপকার।

তোমার দু নয়নে আছে ভয়ঙ্কর নেশা আর সেই নেশায় আসক্ত হওয়াই আমার পেশা।

বিধাতার সৃষ্টি চোখের কাজল

আমায় করেছে পাগল

সারাজীবন থাকবো আমি তোমার দু নয়নের

প্রেমে অটল।

তোমার চোখে হারিয়েছি নিজেকে

কী দোষ দেবো এই পৃথিবীকে

আমি তোমার প্রেমের পাগল

কারণ অসম্ভব সুন্দর তোমার চোখের কাজল।

যদি তুমি বল,

যখন তোমার দেহে রবে কাফন

তখন করিবে আমায় আপন।

তখন আমি বলব,

তুমি আমার দাফনে কাফন হয়ে এসো

আমি আমার জীবনের শেষ ঘুম

তোমাকে আলিঙ্গন করে ঘুমাবো।

নার্গিস আক্তারের দুটি কবিতা এলো বসন্ত

এসো হে ফাগুন এসো

বসন্তের বাগিচায়

গাছে গাছে ফুটেছে লাল

পলাশ শিমুল রাজ।

মুক্ত বাতাস খোলা আকাশ

রাঙিয়েছো প্রাণ

তোমায় নিয়ে লিখে কবি

কবিতা আর গান।

ফাগুন এলো ফুলের সমাগম

মুগ্ধ হয় কবি মন

হে বসন্ত ধুয়ে মুছে নেয়

ফাগুন হৃদয় আগুন।

নববর্ষ এলো ফিরে

দিন দিন করে বছর ঘুরে এলো নববর্ষ।

নতুনের আগমনে নতুন করে

আনন্দ বইছে সবার মনে ।

পুরাতনকে ঠেলে, নতুনের আগমনে দুঃখ-কষ্ট ভুলে।

নতুন দিনের নতুন আশায় যাচ্ছে সবার দিন।

নববর্ষের প্রথম দিনে বাজবে নতুন আশার বিণ।

সুখের আশায় দুঃখ ভুলে বাঁধবে কত আশা।

নতুনের জয়গানে পুরাতনকে ভুলে বাঁধবে সুখের বাসা।

নববর্ষ প্রস্ফুটিত হোক থাকুক ভালোবাসা।

পিকলো সরকার হোস্টেল জীবন

আজ সময়টা খুব মনে করিয়ে দেয়, মনে পড়ে দীর্ঘদিনের হোস্টেলের জীবন।

রোজকার কম তেলে বাজি করা সবজি, আলুর ভর্তা,

কম মশলার তরকারিগুলো বড্ড বেশি মনে পড়ে

হুট করে রান্না করে খেতে ইচ্ছে করে

কিন্তু,

তা আর হয়ে ওঠে না।

ডাইনিংয়ের তরকারির মাছের মাথা আর লেজ

এটা সেটা নিয়ে আর কাড়াকাড়ি

হয়তো আর হবে না।

গোসলের জন্য আর সিরিয়াল দিতে হয় না

আমি দ্বিতীয় সিরিয়ালে ছিলাম

তা নিয়ে চিল্লাচিল্লি আর হয় না।

সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা আর ক্লাস করার জন্য কোনো তাগা জড়ো নেই।

সময়টা আজ মনে করিয়ে দেয় সেই হোস্টেল জীবনের কথা।

ডিম বাজি আর ব্রয়লারের মুরগির মাংস

আর

বন্ধুদের জন্য রান্না করতে হয়ে ওঠে না।

এক পোয়া ডালে সাড়ে সাত পোয়া পানি দেয়া ডাল আজ খেতে খুব ইচ্ছে করে।

প্রেমে ছ্যাঁকা খেলে চোখের পানি মুছে দিয়ে আর কেউ বলবে না একটা গেছে আরেকটা হবে।

সময় আজ শুধু স্মরণের ঘুরপাকে ফেলে দিল।

হোস্টেলে বাজার করার মত জঘন্যতম কাজটি

আজও বারে বারে মনে পড়ে;

টিভির রিমোট আর কাপড় শুকানো নিয়ে

ঝগড়া করাটা আর হয়ে ওঠে না।

রাত বিরাতে বন্ধুদের নিয়ে আর চা-সিগারেট খাওয়া হয়ে ওঠে না।

হোস্টেলের কাটানো দিনগুলোর কথা মনে হলে,

চোখের কোনায় জল নেমে আসে,

বড্ড বেশি ইচ্ছে করে ফিরে পেতে

হোস্টেল জীবন।

আজ আমি ভদ্র হয়ে গেছি, শান্ত হয়ে গেছি বাজে অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এসেছি।

আজ আমি আমিতেই মত্ত থাকি ‘আমাদের’ শব্দটা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়