রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৪

পর্যটকদের মন কেড়েছে তিন নদীর মিলনস্থল

বিশেষ প্রতিনিধি
পর্যটকদের মন কেড়েছে তিন নদীর মিলনস্থল

প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে চাঁদপুরের পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া—এ তিন নদীর মিলনস্থল 'মোলহেডে'। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের মন কেড়ে নিয়েছে। এ তিন নদীর মিলনস্থলের প্রাকৃতিক দৃশ্য একবার দেখলে বারবার আসতে ইচ্ছে করে। এর সৌন্দর্য ভুলতে পারেন না দর্শনার্থীরা। ঈদ-পার্বণে ভিড় জমে ওঠে এখানে। শুধু তাই নয়, ইলিশেরও স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পান দর্শনার্থীরা। তাই পর্যটকেরা বারবার ছুটে আসেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এ স্থানে।

ঈদসহ বছরের সব খুশির দিনে এ

মোলহেডে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি । এখানে মেঘনার পানির খরস্রোত আর তিন নদীর মিলিত স্রোত মিলে তৈরি হয় এক অভূতপূর্ব মিলনমেলা। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ভ্রমণপিপাসু মানুষ এসব আনন্দের ভাগ নিতে ছুটে আসেন।

পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে প্রবেশে কোনো টিকিট লাগে না। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখার দৃশ্য মন জুড়িয়ে যায়। ট্রলার বা স্পিডবোটে ঘুরে বেড়ানো, শিশুদের খেলার ব্যবস্থা এবং খাবারের নানা আয়োজন রয়েছে। চারদিকে নদী আর মাঝখানে বিস্তীর্ণ বালুচর দেখতে যেন সমুদ্রসৈকতের মতো। শীতকালে সরিষা ফুলের হলুদে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা, যা ভ্রমণে এনে দেয় বাড়তি রোমাঞ্চ। মেঘনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এ পর্যটনকেন্দ্র বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় ভরপুর। নৌভ্রমণ এবং সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত উপভোগ মিলিয়ে এটি একটি আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র। নিকটবর্তী ইলিশ অবতরণকেন্দ্রে তাজা ইলিশ ভাজা খাওয়ার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। প্রাকৃতিক দৃশ্য আর ছবি তোলার জন্যেও জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়।

শুধু এ মোলহেড নয়, ফরিদগঞ্জের প্রাচীন রূপসা জমিদার বাড়ি চাঁদপুরের অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এর প্রতিষ্ঠাতা তনু রাজা চৌধুরীর নাম। অল্প সময় ঘুরলেও জায়গাটির ঐতিহাসিক আবহ সহজে মন ছুঁয়ে যায়।

ফরিদগঞ্জে অবস্থিত প্রায় আড়াইশ' বছরের পুরোনো এই জমিদার বাড়ি এখনো সংরক্ষিত। অন্যান্য জমিদার বাড়ি ভগ্নপ্রায় হলেও এটি এখনো তার পুরোনো সৌন্দর্য ধরে রেখেছে।

২০০ বছরের পুরোনো ফরিদগঞ্জের লোহাগড় মঠ জমিদারদের অত্যাচারের ইতিহাস বহন করে। তিনটি ভিন্ন উচ্চতার মঠ, ধ্বংসাবশেষ এবং নানা লোককথা—সব মিলিয়ে জায়গাটি বেশ রহস্যময় ও আকর্ষণীয়।

হাজীগঞ্জসহ জেলার বৃহৎ মসজিদ হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ। জুমাতুল বিদার বিশাল জামাতসহ ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে সারা দেশ থেকে মানুষ এখানে আসেন। চাঁদপুর সদর উপজেলার

শাহ মাহমুদপুরের আলুমূড়ায় অবস্থিত ফারিসা রিসোর্ট আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক চমৎকার মিশেল। সবুজ বাগান, লেক, রঙিন আলো, শিশুদের খেলার জায়গা—সব মিলিয়ে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর আদর্শ স্থান।

চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন বলেন, চাঁদপুরের তিন নদীর মিলনস্থল এবং 'মিনি কক্সবাজার' ইতোমধ্যে দেশব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এবারের ঈদে এতো পর্যটক এসেছে যে, তাদের বিভিন্নভাবে আমরা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

প্রশাসক বলেন, পর্যটকদের জন্যে তিন নদীর মিলনস্থলে এবং মিনি কক্সবাজারে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে আমরা প্রয়োজনীয় চাহিদা পাঠানোর চিন্তা করছি। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন থেকে আর্থিক বরাদ্দ পেলে চাঁদপুরের সব পর্যটন স্পট নান্দনিকভাবে গড়ে তোলা হবে।

চাঁদপুর সদরের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, আমার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্যে পর্যটন খাত গুরুত্বের সঙ্গে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি সহসাই একটি প্রজেক্ট প্রোফাইল দেওয়ার চেষ্টা করবো। এ কাজ পৌর কর্তৃপক্ষসহ যৌথভাবে করবো।

তিনি আরো বলেন, চাঁদপুর নতুন বাজার-পুরাণবাজার সেতুর থেকে তিন নদীর মিলনস্থল হয়ে লঞ্চ ঘাট পর্যন্ত একটি ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। পর্যটকদের জন্যে বেশ ক'টি নান্দনিক আবাসিক হোটেল এবং একাধিক রেস্টুরেন্ট তৈরি করা হবে। আরো থাকবে ক্যাবল কার, ভাসমান রেস্টুরেন্টসহ বিনোদনের একাধিক আধুনিক রাইডস। তাঁর মতে, পর্যটন এলাকায় ভালো আয়োজন থাকলে দর্শনার্থীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়বে। সূত্র : আমার দেশ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়