বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:২১

নিজগাছতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশের পথ বন্ধ, বর্জ্য ও পানিতে নিমজ্জিত মাঠ

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঘুম ভাঙবে কবে?

সোহাঈদ খান জিয়া
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঘুম ভাঙবে কবে?
পানিতে ও বর্জ্যে নিমজ্জিত নিজগাছতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এবং প্রবেশ পথ। অগত্যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পার্শ্ববর্তী অন্য মানুষের বাড়ির উপর দিয়ে এই টয়লেটের ট্যাংকির উপর দিয়ে স্কুলে যেতে হয়।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮নং বাগাদী ইউনিয়নের ১৬২নং নিজগাছতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থা এখন যেন চরম অভিভাবকহীন। বর্ষা মৌসুম এলেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পানিতে তলিয়ে যায়, আর স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শিক্ষা কার্যক্রম। শুধু তা-ই নয়, পাশের একটি ডেইরি ফার্মের বিষাক্ত বর্জ্য ও ময়লা পানি সরাসরি বিদ্যালয় মাঠে এসে পড়ায় পুরো পরিবেশ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশের জমি ও সড়কের তুলনায় বিদ্যালয়টির মাঠ বেশ নিচু। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই চারপাশের পানি এসে মাঠে জমে যায়। পাশাপাশি, বিদ্যালয়ের ঠিক পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি গরুর খামার থেকে গোবর মিশ্রিত পানি ও বর্জ্য গড়িয়ে পড়ছে মাঠে। দুর্গন্ধ ও ময়লা পানিতে মাঠ ডুবে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটি একটি সচল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক ও ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের অন্তত ২ থেকে ৩ মাস বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পানিতে ডুবে থাকে। প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের কোনো উপায় না থাকায়, শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ির ওপর দিয়ে এবং টয়লেটের ট্যাংকির ময়লা পানি ডিঙিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে যে কোনো সময় কোমলমতি শিশুরা পানিতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা ও নিয়মিত সংস্কার কাজ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। বিদ্যালয়টির মাঠ ভরাটের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ২০২৫ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর পরপর দুটি লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হাফছা বেগম জানান, "বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করা অত্যন্ত জরুরি। প্রবেশের নিজস্ব কোনো পথ না থাকায় অন্যের জায়গার ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে আসা- যাওয়া করতে হচ্ছে। মাঠ ভরাটের জন্য আমরা ইউএনও স্যারের কাছে দুটি আবেদন জমা দিয়েছি।"

যোগাযোগ করা হলে চাঁদপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, "আমি অতি দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে মাঠ ভরাটের ব্যবস্থাগ্রহণ করবো, যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে।"

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়