প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩১
ফরিদগঞ্জে ফারইস্ট ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ দাবির টাকা প্রদানে গ্রাহকদের মানববন্ধন॥ কর্মী কর্তৃক বাধাদানের অভিযোগ

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মেয়াদোত্তীর্ণ বীমা দাবির টাকা প্রদানের দাবিতে এবং ওই কোম্পানীর কর্মীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। এদিকে মানববন্ধন চলাকালে ওই বীমা কোম্পানির কর্মীর বিরুদ্ধে মানববন্ধনে বাধাদান এবং ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহের অভিযোগে পুলিশের সামনেই বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা। শুক্রবার (২১ অগাস্ট ২০২৬) সকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের চরমুঘুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
|আরো খবর
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বীমাকর্মী চরমুঘুয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম এই এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নারী পুরুষদের মাসিক সঞ্চয় বীমাসহ বিভিন্ন মেয়াদের পলিসি করান। কিন্তু বীমা গ্রাহকদের মেয়াদপূর্তির কয়েক বছর পার হয়ে গেলেও কোম্পানি তাদের বীমা দাবির টাকা পরিশোধ করছে না। একই সাথে বীমা কর্মী সাইফুল ইসলাম বীমা করানোর সময়ে তাদের টাকা উত্তোলনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও সে তা না করে উল্টো হয়রানি করছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে সাইফুল ইসলামের বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেছেন। ইতঃপূর্বে কয়েক দফা তারা তার কাছে আসলেও তাদের পাত্তা দেয়নি সাইফুল।
মানববন্ধনে উপস্থিত হওয়া বীমা গ্রাহক চরমুঘুয়া গ্রামের লিপি আক্তার, চরপোয়া গ্রামের শেফালি বেগম, সাহেবগঞ্জ গ্রামের বিউটি আক্তার, কাউনিয়া গ্রামের হোসনেয়ারা বেগমসহ অনেকেই ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বই ও দলিল দেখিয়ে বলেন, বীমা কর্মী সাইফুল আমাদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে একেকটি পরিবারে ২/৩টি করে বীমা করায়। কিন্তু এখন মেয়াদ শেষ হলেও কোনো সহযোগিতা করছে না। বরং নানা খরচের কথা বলে বাড়তি টাকা নিচ্ছে। গৃদকালিন্দিয়া বাজারে আগে অফিস থাকলেও এখন নেই। ফরিদগঞ্জে গিয়েও আমরা খোঁজ খবর পাইনি।
এদিকে মানববন্ধনের শেষ পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একটি অংশ সাইফুলের বাড়ির সামনে ও ভেতরে অবস্থান করার সময়ে সাইফুল ইসলাম বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে তাদের বাধা প্রদান করে বলে অভিযোগ করেন গ্রাহকরা। এ সময় তাদের সাথে সাইফুল তর্কে জড়ান। ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশ নিয়ে এসে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
গ্রাহকদের স্বজন আনোয়ার হোসেন জানান, সাইফুল গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে। সে এতোদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও আজ গ্রাহকদের মানববন্ধনে এসে বাধার সৃষ্টি করে এবং পুলিশকে খবর দিয়ে ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা চাই সে যেভাবে গ্রাহকদের কথা দিয়েছে, সেভাবে যেনো গ্রাহকদের আমানত পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।
স্থানীয় সেলিম নামে আরেকজন জানান, সাইফুল এখন যা বলছে, মূলত সে পালানোর কৌশল খুঁজছে। সে এতোদিন গ্রাহকদের হয়রানি করেছে। অফিসে নেয়ার নাম করে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ হাজার/২ হাজার টাকা হাতিয়েছে। সে যেখানে তার নিজের হাতে করা গ্রাহকদের সহযোগিতা করবে, সেখানে উল্টো নানা কথা বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। গ্রাহকরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ ব্যাপারে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সেুরেন্স কোম্পানির বীমা কর্মী সাইফুল ইসলাম জানান, এখানে উপস্থিত অনেকেই আমার গ্রাহক নয়। তাছাড়া অনেকেরই মেয়াদ শেষ হয়নি। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অভ্যন্তরীণ অবস্থা খারাপ হওয়ায় কোম্পানি এই মুহূর্তে টাকা দিতে পারছে না। এতে আমার কী করার আছে, আমি এসব বিষয়ে জানি না।
এদিকে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই বেলায়েত বলেন, সাইফুল ৯৯৯-এ কল করলে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। আমরা গ্রাহকদের শান্ত করি এবং সাইফুলকে বীমা দাবি পেতে সহযোগিতার করার জন্যে বলে সকলকে বাড়ি পাঠিয়ে দেই।








