মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৩৫

মতলবের মেঘনায় পুরোপুরি মানা হচ্ছে না নিষেধাজ্ঞা

চরাঞ্চলে অভিযান নেই, প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মা ইলিশ

মাহবুব আলম লাভলু।।
চরাঞ্চলে অভিযান নেই, প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মা ইলিশ

মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলেও তা তোয়াক্কা করছেন না এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে নদীতে মাছ শিকারের ফলে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিয়ে চরম শঙ্কা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী, মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশের মতো মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত নিষিদ্ধ এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে চলছে ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্যে বেচাকেনা। বিশেষ করে মোহনপুরের কুমারখোলা, নয়াকান্দি বটতলা ও একলাশপুর লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়মিত বসছে ইলিশের হাট ও আড়ত। এ ছাড়া নদীর পূর্ব পাড়ের কয়েকটি বাজারেও চলছে ইলিশ বিক্রি। অন্যদিকে, পশ্চিম পাড়ের চরউমেদ, বোরোচর, চরকাশিম, বাহেরচর ও চরওয়েস্টারসহ দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে ইলিশ শিকার ও আড়ত পরিচালনার অভিযোগ থাকলেও সেখানে প্রশাসনের অভিযান কার্যত সীমিত রয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ২ লাখ ৭০ হাজার মিটার অবৈধ জাল ও ৮টি নৌকা জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ২৪টি মামলায় ৭টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৯ জনকে কারাদণ্ড ও ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি নৌ পুলিশের নিয়মিত মামলায় ৫৯ জনকে আসামি করা এবং ৯১ জনকে আটক করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় জেলে জানান, কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামছেন। স্থানীয় নৌ পুলিশের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ বা রফাদফা করেই তারা এই অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে নদীর পাড়ের কয়েকটি স্থান ও গ্রামাঞ্চলে প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রির বিষয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে বর্তমানে সরবরাহ কম থাকায় এবং কিছুটা কম দামে পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের অনেকেই গোপনে বা খোঁজখবর নিয়ে ইলিশ কিনছেন।

জেলেদের একাংশের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সঙ্গে রফাদফার অভিযোগের বিষয়ে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমীন বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি সঠিক। আমরা নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছি।”

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। তবে পর্যাপ্ত দ্রুতগতির ট্রলার ও স্পিডবোটের সংকটের কারণে অনেক সময় দূরবর্তী চরাঞ্চলে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমরা নিয়মিত নদীতে অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছি। মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের এই অভিযান কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) ছেংগারচর পৌর পাঠাগারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, “মা ইলিশ রক্ষায় আমরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছি। আমি নিজেও সরাসরি অভিযানে অংশ নিয়েছি। নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তা আমি জেনেছি এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়