প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১:০৭
'চাকরি ফেরানোর কথা বলে দেড় লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক’
শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সাবেক দপ্তরির লিখিত অভিযোগ

একদিকে চাকরি হারানোর যন্ত্রণা, অন্যদিকে ঋণের চাপ। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় ধার-দেনা করে দেড় লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন মো. সোহেল রানা। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও চাকরি ফেরেনি, উল্টো এখন ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে।
|আরো খবর
এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সোহেল রানা ওই বিদ্যালয়ের সাবেক দপ্তরি-কাম-প্রহরী।
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদ। তার দাবি, তিনি কোনো টাকা নেননি এবং এ বিষয়ে সোহেল রানার সঙ্গে তার কোনো কথাও হয়নি। ভুক্তভোগী সোহেল রানা জানান, ২০১৩ সাল থেকে তিনি মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি-কাম-প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৬ সালে একটি মামলায় ১৪ দিন কারাগারে থাকায় তিনি চাকরিচ্যুত হন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তর ও ব্যক্তির কাছে ধর্ণা দিতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি নিজ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
সোহেল রানার অভিযোগ, গত ২৩ আগস্ট প্রধান শিক্ষক তাকে জানান যে, শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলকে ‘ম্যানেজ’ করতে দুই লাখ টাকা প্রয়োজন। তিনি অসমর্থতা জানালে টাকার অঙ্ক কমিয়ে দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। শেষমেশ বাধ্য হয়ে ব্যাংক ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে স্ত্রীকে সাথে করে প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের বান্ডিলে মোট দেড় লাখ টাকা বুঝিয়ে দেন তিনি। কিন্তু টাকা দেওয়ার পর দিন-মাস গড়ালেও চাকরিতে পুনর্বহালের কোনো অগ্রগতি হয়নি। সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন, “হেড স্যার টাকা চাওয়ার পর বহু কষ্টে লোন তুলে দেড় লাখ টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা করেননি। এখন একদিকে চাকরি নেই, অন্যদিকে মাথার ওপর ঋণের বোঝা। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমি এই প্রতারণার বিচার চাই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদ অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, “সোহেল রানা আমাকে কোনো টাকা দেয়নি। এ বিষয়ে তার সঙ্গে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন বা কথাই হয়নি।” বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। সোহেল রানা আমাকে বিষয়টি আগে জানায়নি।”
এদিকে, মৌখিক অভিযোগের পর এবার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সোহেল রানা। লিখিত অভিযোগে তিনি প্রধান শিক্ষকের ঘুষ গ্রহণ ও প্রতারণার বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করে সুবিচার প্রার্থনা করেছেন।








