প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ২১:৪৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৫৮
আমার স্বপ্ন আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব গজরা ইউনিয়ন গড়ে তোলা
-----মো. শাহ আলম লস্কর

ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সুরুজ আলী লস্করের ছেলে মো. শাহ আলম লস্কর। মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের রাজুরকান্দি তাঁদের গ্রাম। ছেংগারচর বাজার সংলগ্ন তাঁর পৈত্রিক বাড়ি। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। দেশে ও বিদেশে তাঁর ব্যবসা রয়েছে। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি মতলব উত্তর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী সংগ্রামী দলের চাঁদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি, চেতনা জেডফোর্স মতলব উত্তর উপজেলার অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, রাজুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি, মানবাধিকার সমিতি মতলব উত্তর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি, গজরা ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা।
|আরো খবর
মো. শাহ আলম লস্কর বিএনপির রাজনীতিতে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের সেবা করা এবং ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। তিনি বলেন, আমার স্বপ্ন একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলা—যেখানে নাগরিকরা হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পাবেন এবং উন্নয়নের সুফল প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে তাঁর কথোপকথন প্রশ্নোত্তর আকারে নিচে তুলে ধরা হলো।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কোন্ পরিচয়, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান? আপনার মূল লক্ষ্য ও জনগণের জন্যে আপনার স্বপ্ন কী?
শাহ আলম লস্কর : আমি দীর্ঘদিন ধরে গজরা ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তাদের সুখ-দুঃখ ও প্রত্যাশাগুলো কাছ থেকে দেখেছি। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষের পাশে থাকার সুযোগ হয়েছে। আমি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, মতলব উত্তর উপজেলা ছাত্রদল হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার মূল উদ্দেশ্য হলো, জনগণের সেবা করা এবং ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। আমার স্বপ্ন একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলা—যেখানে নাগরিকরা হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পাবেন এবং উন্নয়নের সুফল প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। নির্বাচিত হলে পরিষদ থেকে আমার জন্যে বরাদ্দকৃত সম্মানী ভাতা মানুষের সেবায় ব্যবহৃত হবে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কোনো দলীয় সমর্থনের আশায় নির্বাচন করতে চান, না নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন করবেন? দলীয় সমর্থনে, না নির্দলীয়—কীভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন?
শাহ আলম লস্কর :
আমি যেহেতু বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত, তাই শতভাগ আশাবাদী দল আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিবে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও চেয়ারম্যান হিসেবে আমার কাছে ইউনিয়নের সব মানুষ সমান গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে যে পদ্ধতিতেই অংশগ্রহণ করি না কেনো, জনগণের আস্থা ও সমর্থনই আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। আমি চাই দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের জন্যে কাজ করতে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী বলে মনে করেন? ছোট-বড় সকল সমস্যার সমাধানে আপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী?
শাহ আলম লস্কর :
একটি ইউনিয়নের সমস্যা একেক এলাকায় একেক রকম। তাই দায়িত্ব পেলে প্রথমে ওয়ার্ডভিত্তিক জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করে সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার অনুযায়ী চিহ্নিত করতে চাই। রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বেকারত্ব—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হবে। সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার ও প্রয়োজনভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে এমন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলা, যেখানে উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রয়োজনকে সমান গুরুত্ব দেয়া হবে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সরকারি সেবার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আপনি কী পদক্ষেপ নেবেন?
শাহ আলম লস্কর :
জনগণের অর্থে পরিচালিত ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা জরুরি। দায়িত্ব পেলে সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। পরিষদের কার্যক্রমে নিয়মনীতি অনুসরণ, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়াকে গুরুত্ব দেবো।
আমি মনে করি, জনপ্রতিনিধির কাছে জনগণের প্রশ্ন করার অধিকার আছে। তাই জনগণের কাছে জবাবদিহি করেই ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করতে চাই।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি নির্বাচিত না হলেও কি জনগণের পাশে থাকবেন? জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ কীভাবে বজায় রাখবেন?
শাহ আলম লস্কর :
অবশ্যই। মানুষের পাশে থাকার জন্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। নির্বাচন একটি নির্দিষ্ট সময়ের বিষয়, কিন্তু মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নির্বাচনে ফলাফল যা-ই হোক, আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবে। এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং প্রয়োজনের সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে এই সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। জনগণের সমস্যা শুনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা তুলে ধরাও আমার দায়িত্ব মনে করি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় ভোটাররা কেনো আপনাকেই ভোট দেবেন? তাদের উদ্দেশে আপনার সংক্ষিপ্ত বার্তা কী?
শাহ আলম লস্কর :
আমি কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছোট করতে চাই না। প্রত্যেক প্রার্থীই জনগণের কাছে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরবেন, আর জনগণ তাদের বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই—আমাকে যদি জনগণ তাদের সেবার সুযোগ দেন, তাহলে আমি সেই আস্থার মর্যাদা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।আমার কাছে চেয়ারম্যানের পদ কোনো ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়; এটি জনগণের দায়িত্ব নেয়ার একটি সুযোগ। তাই আমি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে চাই।
চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোক্ত প্রশ্নসমূহের বাইরে আপনার অন্য কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা তুলে ধরতে পারেন।
শাহ আলম লস্কর: গজরা ইউনিয়ন আমার কাছে শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়; এটি আমার আপনজন, আমার ভালোবাসার জায়গা। আমি বিশ্বাস করি, বিভাজন নয়—ঐক্যই উন্নয়নের প্রধান শক্তি। আমি প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়াতে চাই না। আমি চাই বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন করতে। আমার দরজা সবসময় সাধারণ মানুষের জন্যে খোলা থাকবে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা আমার লক্ষ্য।








