সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ২০:০০

মতলব উত্তরের দশানীতে মেঘনার ভাঙন! স্থানীয়দের মেরামতে শেষ রক্ষা হচ্ছে না

মতলব উত্তর ব্যুরো।।
মতলব উত্তরের দশানীতে মেঘনার ভাঙন! স্থানীয়দের মেরামতে শেষ রক্ষা হচ্ছে না

মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের মধ্য দশানী গ্রামটি। ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের মেরামতে শেষ রক্ষা হচ্ছে না। বর্ষার পানি নামতে শুরু করলে ভাঙন মারাত্মক আকার ধারনের আশঙ্কায় বাসিন্দারা আতঙ্কিত।

সরজমিনে দেখা যায়, মেঘনা নদীর তীরে ভাঙনের শিকার মধ্য দশানী গ্রামটি। ইতিমধ্যে গ্রামের অংশসহ আবাদি জমি এবং রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। বর্ষার পানির স্রোতে ভাঙছে। বর্ষা শেষে নদীর পানি কমতে থাকলে ভাঙনের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পাবে বলছেন স্থানীয়রা।

নদী ভাঙ্গনের সন্নিকটে রয়েছে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ, দশানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দশানী বাজারসহ মধ্য দশানী গ্রাম। নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে এ প্রতিষ্ঠানগুলোও ভাঙনের শিকার হবে।

নদী ভাঙনরোধে স্থানীয় বাসিন্দারা নষ্ট সিমেন্টের বস্তা ও বালুর বস্তা দিয়ে রোধ করার চেষ্টা করেও পারছে না। তাদের নিজস্ব চেষ্টায় তাদের ঘর বাড়ির শেষ রক্ষা হচ্ছে না। সরকারিভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা না হলে গ্রামটিসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

সমাজসেবক রায়হান হোসেন (বাতেন মোল্লা) জানান, বর্ষার পানি নামার সাথে সাথে এ এলাকায় নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। ভাঙনে অনেক জায়গায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতি বছরই গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙনরোধের চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। সরকারিভাবে ব্যবস্থা না নিলে গ্রামটি বিলীন হয়ে যাবে।

মধ্য দশানী গ্রামের বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, মো. ফারুক বেপারী, আলাউদ্দিন ও রাহিমা বেগম বলেন, "নদী আমাগো জমি, ঘর-বাড়ি ভাইঙ্গা নিয়া যায়। অনেকে সব হারাইয়া অন্য জায়গায় চইলা গেছে। আমরা নিজেরা অনেক চেষ্টা কইরো রক্ষা করতে পারছি না। সরকার নদী ভাঙন বন্ধের ব্যবস্থা না করলে আমাগো সব নদীতে চইলা যাইবো। আমাগো দাবি সরকার যাতে নদী ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেয়।"

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, নদী ভাঙন রোধে সরকার জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। মধ্য দশানী এলাকা পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে স্থানীয়দের নিজ উদ্যোগে বাঁশ বা গাছ, নষ্ট সিমেন্টের বস্তা দিয়ে রক্ষার চেষ্টা টিকছে না। নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে এ এলাকাটি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ফলে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধসহ আশপাশের জনপদ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

ছবি: মতলব উত্তরের দশানীতে মেঘনার ভাঙনে স্থানীয়দের মেরামতে শেষ রক্ষা হচ্ছে না।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়