বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩৮

সড়কে ঝরে গেলো এক সজ্জন মানুষের প্রাণ

বাবুরহাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব কাজী ফারুক আর নেই

আব্দুল্লাহ আল মামুন।।
বাবুরহাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব কাজী ফারুক আর নেই
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কাজী ফারুক

মাত্র কয়েক মুহূর্তের একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিলো বাবুরহাটের সুপরিচিত ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মো. কাজী ফারুকের জীবন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, ব্যবসায়ী সমাজ এবং এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

জানা যায়, গত ১৮ জুলাই ২০২৬ (শনিবার) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুরহাটস্থ ভূঁইয়ার প্রাচীরের পশ্চিম প্রান্ত এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশা ও অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি। দুর্ঘটনায় তার মাথা, কাঁধ ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন তিনি। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি তিন পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বাবুরহাট পশ্চিমবাজার, তরপুরচন্ডী এবং আশপাশের এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই তার স্মৃতিচারণ করে শোক প্রকাশ করেন।

আলহাজ্ব কাজী ফারুক ছিলেন তরপুরচন্ডী কাজী বাড়ির একজন সম্মানিত সন্তান। কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় তিনি সৌদি আরবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চাকরি করেছেন। দেশে ফিরে বাবুরহাট পশ্চিমবাজারে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মক্কা হার্ডওয়ার’। অল্প সময়েই তিনি একজন সফল ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, কাজী ফারুক ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও ধর্মপরায়ণ মানুষ। কারও বিপদ-আপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে কখনও পিছপা হতেন না। এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে নীরবে দাঁড়ানোর অসংখ্য নজির রয়েছে তাঁর জীবনে। এজন্যে ব্যবসায়ী পরিচয়ের বাইরে একজন মানবিক মানুষ হিসেবেই তিনি অধিক পরিচিত ছিলেন।

মরহুমের চাচাতো ভাই ও তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের সদস্য মো. রাসেল কাজী বলেন, “ফারুক অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলো। মানুষের উপকার করতে সে সবসময় আনন্দ পেতো। আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে এলাকার যে কেউ বিপদে পড়লে সে সাধ্যমতো সহযোগিতা করত। তার মৃত্যু আমাদের পরিবারের জন্যে অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা এখনও এই শোক মেনে নিতে পারছি না। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।”

মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) বাবুরহাটে তার কর্মস্থলে প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ এশা তার নিজ বাড়ি তরপুরচন্ডী কাঠেরপুল সংলগ্ন কাজী বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

একজন সফল ব্যবসায়ী, সৎ মানুষ ও সমাজসেবকের বিদায়ে শোকাহত পুরো এলাকা। তার কর্ম, সততা ও মানবিকতার স্মৃতি দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়