বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ২১:২১

স্বাস্থ্যখাতে বিগত দু বছরে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প না থাকায় সেবা প্রদানে মারাত্মক বিঘ্ন হচ্ছে

------ তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমান

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট।।
স্বাস্থ্যখাতে বিগত দু বছরে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প না থাকায় সেবা প্রদানে মারাত্মক বিঘ্ন হচ্ছে
ক্যাপশন : সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও এসিজি চাঁদপুরের সাথে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমান।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চাঁদপুর ও এসিজি গ্রপের সাথে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় সভা বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। 'স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিতকরণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করণীয় ও আমাদের প্রত্যাশা' শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সনাক, চাঁদপুরের সভাপতি মো. আলমগীর পাটওয়ারী। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমান।

প্রধান অতিথি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বিগত দু বছরে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নেই। যার কারণে ঔষধ থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে সমস্যা হচ্ছে এবং সেবা প্রদানে মারাত্মক বিঘ্ন হচ্ছে। ঔষধের ঘাটতি কিছুটা কমলেও জনগণের চাহিদা অনুযায়ী প্রত্যাশিত নয়। হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স, পরিচ্ছন্নতা কর্মী থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে জনবলের ঘাটতি রয়েছে ব্যাপক। হাসপাতালে এখনো ২৩জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে। ২৫০ জনের জন্যে হাসপাতালটি হলেও আরও ১০০জন রোগী অর্থাৎ ৩৫০জন রাখা যেতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন প্রায় ৫০০জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকে। তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় অনেক ভালো। প্রতিদিন মনিটরিং করে থাকি। একজন রোগীর সাথে অধিক সংখ্যক লোকজন আসার কারণে হাসপাতালের পরিবেশ অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। সীমিত বাজেট দিয়ে খাবারের মান কখনোই রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী সন্তোষজনক করা যাবে না। হাসপাতালটির সেবার মানোন্নয়নে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। জনগণের চাহিদার শেষ নেই। কিন্তু আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জনসংখ্যা অনুযায়ী হাসপাতালটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, সনাক ও এসিজির পক্ষ থেকে সে সমস্যাগুলোই উত্থাপন করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আমাকে জানাবেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। জনগণের আরও বেশি সচেতনতাতেই হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন। হাপাতালের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বা সেবা নিশ্চিত করতে হলে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ও জনবল সংকট দূর করতে হবে।

তিনি এসিজি ও ইয়েস সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা হাসপাতালে মনিটরিংয়ে এসে যে সকল সমস্যা পান সেগুলো তাৎক্ষণিক আমাকে জানাবেন। তাহলে সমস্যাগুলো তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারবো। হাসপাতাল সম্পর্কিত সনাক ও এসিজি’র পর্যবেক্ষণসমূহ পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। সনাকের পক্ষ থেকে সুপারিশগুলো হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। মতবিনিময় সভা আয়োজন করার জন্যে তিনি সনাক-টিআইবিকে ধন্যবাদ জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সনাকের সভাপতি মো আলমগীর পাটওয়ারী বলেন, সনাক ও এসিজি’র পক্ষ থেকে হাসপাতালের বেশ কিছু সমস্যা উত্থাপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ ক'টি সমস্যার সমাধানও হয়েছে। আশা করছি পর্যায়ক্রমে বাকিগুলোরও সমাধান হবে। আমরা দেখছি, হাসপাতালের সেবার মানের অনেক পরিবর্তন এসেছে। অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়ক খুবই আন্তরিকতার সাথে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, সনাক ও টিআইবি’র কাজ মূলত সেবাদাতা ও গ্রহীতাদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করে সেবার মানোন্নয়ন করা। তিনি মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

টিআইবি'র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. মাসুদ রানার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আশরাফ আহমেদ চৌধুরী এবং সনাকের সাবেক সভাপতি ও সদস্য ডা. পীযূষ কান্তি বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য মো. খোরশেদ আলম পাটওয়ারী কাঞ্চন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের আরএমও ডা. আসিবুল আহসান, এসিজি সদস্য আয়েশা আক্তার রুপা, সুমি আক্তার, মো. আল আমিন হোসাইন, তানভীর আহমেদ, সুলতানা আক্তার এবং ইয়েস সদস্য তানভীর আহমেদ।

হাসপাতালে সেবাদাতাগণের সময়ানুবর্তিতা, প্রত্যাশিত জনবল নিশ্চিতকরণ, দৈনিক ঔষধ সরবরাহের তালিকার আধুনিকায়ন ও হালনাগাদকরণ, হাসপাতালের ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদকরণ, সেবা প্রদানে আন্তরিকতা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, চাহিদার তুলনায় ঔষধের অপর্যাপ্ততা, হুইল চেয়ার ও ট্রলির স্বল্পতা, জনগণের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা না নেয়া, জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে তথ্য প্রদান, খাবারের মান, হাসপাতালের সিটিজেন চার্টার হালনাগাদকরণ, তথ্যের উন্মুক্ত প্রকাশ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়