প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ০১:০৫
মতলবে ধানের চারা লাগিয়ে কৃষকরা সর্বস্বান্ত
৭০ একর জমিতে ধানের সবই চিটা

মতলব দক্ষিণে নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের ৪ গ্রামের প্রায় অর্ধশত কৃষক জমিতে ধান চাষ করে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন।
|আরো খবর
মতলব দক্ষিণ ও দাউদকান্দির সীমান্তবর্তী এলাকার গোবিন্দপুর, নন্দীখোলা, কাচিয়ারা ও বকচর গ্রামের কৃষকরা এবার তাদের জমিতে নতুন জাতের পিএনআর হাইব্রিড মোটা ধান চাষ করেন। তারা স্থানীয় এক ডিলারের কাছ থেকে প্রতি কেজি বীজ ধান সাড়ে পাঁচশ' টাকা দরে ক্রয় করে বীজতলা তৈরি করেন এবং যথানিয়মে ধানের চারা রোপণ করেন।
ধানের চারা রোপণের পর যথানিয়ম অনুসরণ করা হলেও ফলন আসার সময় দেখা যায় কোনো প্রকার ধান হচ্ছে না। কিছু জমিতে সামান্য ধান দেখা দিলেও সবই চিটা হয়ে আছে। কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে এখন দিশেহারা।
নন্দীখোলার আয়েশা বেগম জানান, তিনি আড়াই একর জমিতে এ ধান চাষ করেন। চার মাস হয়ে গেলেও ধানে ফলন আসেনি, সব চিটা। অথচ বীজ ধান সরবরাহকারী কোম্পানির লোকজন রোপণের আগে বলেছিলো, একরে একশ' মণ ধান উৎপাদন হবে। জমির কিনারে বসে বিলাপ করে তিনি বলেন, আমি এখন কী নিয়ে বাঁচবো।
একই এলাকার কৃষক মাসুদ আলম, গোলাম মোস্তফা, জামাল হাজী, মিজানুর রহমান, আবুল কালামসহ অন্য কৃষকরা যথানিয়মে ধানের চারা রোপণ ও সকল পরিচর্যা করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও ধানে ফুল আসেনি। কোনো কোনো জমিতে ফুল এলেও ধান চিটা হয়ে আছে। তারা জানান, এই ধান চাষে একরপ্রতি খরচ হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা। প্রায় ৭০ একর জমিতে তারা এবার এই ধান চাষ করেছিলেন।
ওই এলাকার অধিকাংশ জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ধানহীন গাছ দাঁড়িয়ে আছে। কৃষকরা এবার সেসব জমির খড়ও কাটছেন না। তারা জানান, খড় কাটতে খরচ দিয়ে কারো পোষাচ্ছে না। এমনিতেই সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন, তাই আর নিঃশেষ হতে চান না।
এ বিষয়ে বায়ার পিএনআর কোম্পানির মার্কেটিং কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেছি। কৃষকরা আলু উঠানোর পর ধানের চারা রোপণ করেছেন, সেখান থেকেই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানি বিষয়টি অবগত এবং কৃষকদের যতোটুকু সহযোগিতা দেওয়া দরকার তা করা হবে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা কৃষি অফিসার চৈতন্য পাল বলেন, বিষয়টি আমি জানি। কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। বায়ার কোম্পানির কর্মকর্তারা আমার কাছে এসেছিলেন। কেন এমনটি হলো তা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। কোম্পানি কৃষকদের কিছু ক্ষতিপূরণ দেবে বলে আমাকে জানিয়েছে, তবে কত শতাংশ দেবে তার জন্যে সময় নিচ্ছেন।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








