প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ১৮:১৪
মেহের ডিগ্রি কলেজ সফল হলেও বঞ্চিত কেন নিজ মেহের মডেল উচ্চ বিদ্যালয়?

শাহরাস্তির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নিজ মেহের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এটি উপজেলার একমাত্র মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় । পৌরসভা ও উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে মেহের কালীবাড়িতে অবস্থিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির রয়েছে ব্যাপক সাফল্য। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠান। এরশাদ সরকারের আমলে সর্বপ্রথম মডেল প্রকল্পের আওতায় আসে বিদ্যালয়টি।
|আরো খবর
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জোর দাবি ওঠে। জাতীয়করণের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহরাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে তৎকালীন সময়ে শাহরাস্তিতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় আসেনি। দুটি প্রতিষ্ঠানের এই টানাপোড়েনে বঞ্চিত হয় শাহরাস্তিবাসী। অনেকের ধারণা, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে কেউই সফল হতে পারে নি।
২০১৪ সালে তৎকালীন সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সেই সময় জাতীয়করণের অন্যতম দাবিদার ছিলো নিজ মেহের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। জাতীয়করণের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেনের বিষয়টি নিয়েও তোলপাড় শুরু হয়। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত শাহরাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণে সফলতা অর্জন করে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে সংসদ সদস্যের দূরত্ব, অদক্ষতা ও দূরদর্শিতার অভাবের কারণে নিজ মেহের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টিকে বঞ্চিত হতে হয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি নিয়ে এমন আলোচনা-সমালোচনা প্রায় সবসময়ই লেগে থাকে।
বর্তমান সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফরকে কেন্দ্র করে নিজেদের উদ্যোগে প্রস্তুতি গ্রহণ করে মেহের ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ। কাউকে না জানিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্বয়ং অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের দৃশ্য দেখে প্রধানমন্ত্রী নিজেই মেহের ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের আশ্বাস দেন।
এখন জনমনে প্রশ্ন উঠছে, মেহের ডিগ্রি কলেজ যদি দাবি আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে যেতে পারে, তাহলে নিজ মেহের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সমস্যা কোথায় ছিলো? দাবি আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিত হতে দেওয়া হয়নি কেন? যুগ যুগ ধরে অব্যবস্থাপনার মধ্যে গড়ে ওঠা এই বিদ্যালয়টি সবাইকে হতাশ করেছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বারবার প্রতারিত হয়েছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নিজ মেহের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সবসময় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কারণে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। অনেকেই জানান, বিগত সরকারের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। অনেকের মতে, দাবি আদায় না হলেও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হওয়া উচিত ছিলো— এতে মেহের ডিগ্রি কলেজের মতো একটি সুযোগ নেওয়া যেতো, এমনকি জাতীয়করণের ঘোষণাও আসতে পারতো।
এক্ষেত্রে মেহের ডিগ্রি কলেজ যতোটা অভিনন্দন পাচ্ছে, ঠিক ততোটাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে নিজ মেহের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন— এটাই সকলের প্রত্যাশা।








