প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৫
চাঁদপুর সেতু হতে টোল আদায় চালুর বিষয়ে অংশীজন সভা
সওজ ও ইজারাদার বনাম পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী সাধারণ বিপরীতমুখী অবস্থানে

চাঁদপুর সড়ক বিভাগের অধীন 'চাঁদপুর সেতু' হতে টোল আদায় চালুর বিষয়ে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান।
গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগ থেকে চাঁদপুর শহরতলীর ইসলামপুর গাছতলাস্থ ডাকাতিয়া নদীর উপর চাঁদপুর সেতুর টোল আদায় বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনের মুখে এই সেতুর টোল আদায় সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে টোল আদায় পুনরায় চালু বা বন্ধ রাখা নিয়ে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়।
এই সভার মূল উদ্দেশ্য হলো : স্থানীয়দের ক্ষোভ নিরসন করে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেতুর টোল পুনরায় চালু করার পথ খোঁজা, একই সাথে টোল আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে অংশীজনদের মতবিনিময়।
সভার শুরুতে চাঁদপুর সেতুর ইজারা দেয়া সত্ত্বেও নির্দিষ্ট মেয়াদে টোল আদায় বন্ধ এবং পুনরায় টোল আদায় সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন
সওজ সড়ক বিভাগ, চাঁদপুর-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (চ. দা.) মোহা. ইউনুস আলী।
অংশীজনদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এমএ লতিফ, শিক্ষক প্রতিনিধি চাঁদপুর সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আলমগীর হোসেন (বাহার), চাঁদপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফেরদৌস আলম বাবু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শোয়েব আহমেদ, চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাবুল মিজি, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী ওমর ফারুক, ইজারাদার প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বাদল প্রমুখ।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. শামসুল ইসলাম মন্টু, চাঁদপুর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহিনুর রহমান, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডিএম শাহজাহানসহ অন্যরা এবং সওজ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সেতুর টোল আদায় সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় উঠে আসে, টোল আদায় বন্ধ হয়ে গেলে সরকার রাজস্ব হারাবে এবং বর্তমান ইজারাদার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে এর বিপরীতে পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ টোল আদায় সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানান।
সভায় আরও প্রস্তাব করা হয়, বর্তমান ইজারাদারের মেয়াদ শেষ হলে পুনরায় ইজারা না দেয়া এবং আপাতত টোল আদায় চালু থাকলে প্রতিটি যানবাহন থেকে দিনে একবারের বেশি টোল না নেয়া এবং সিএনজি অটোরিকশার বিষয়ে ছাড় দেয়া।
পাশাপাশি প্রাইভেট ও যাত্রীবাহী যানবাহনের জন্যে নির্ধারিত টোল হার নির্দিষ্ট করে দেয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে চাঁদপুর-৩ ও চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করার প্রস্তাব করা হয়।
সভায় গৃহীত মতামত প্রেরণ এবং পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানানো হয়।
এদিকে চাঁদপুর সেতুর টোল আদায়কারী ইজারাদার আমিনুল ইসলাম বাদল জানান, চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জের এমপি মহোদয়ের উপস্থিতিতে সমন্বয় সভা করে আমাদেরকে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত দিতে হবে। তা না হলে আমাদের ইজারার যে তিন কোটি চৌষট্টি লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা আছে, ক্ষতিপূরণসহ আমাদের সে টাকা ফেরত দিতে হবে।
অপরদিকে সওজ চাঁদপুর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ২০২৪ সালের জুন মাসে তিন বছরের জন্যে চাঁদপুর সেতু ৯ কোটি টাকা ইজারা দেয়া হয়।৩০/৬/২০২৭ পর্যন্ত এর মেয়াদ রয়েছে। সরকারি আইনে আছে, রাজস্ব আদায় বন্ধ করা যাবে না। ইজারাদার তার নির্দিষ্ট মেয়াদে যাতে টোল আদায় কার্যক্রম করতে পারে, সেজন্যে অংশীজনদের নিয়ে আমাদের এই সভা। টোল বন্ধ থাকার ফলে সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
সভায় পরিবহন শ্রমিক, স্থানীয় ব্যবসায়ী, এলাকাবাসী এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা টোল বন্ধের পক্ষে বা টোলের হার কমানোর দাবিতে মতামত তুলে ধরেন।








