প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১১:০৯
হৃদয়ে ষষ্ঠ শিরোপা, মস্তিষ্কে নান্দনিক শিল্পের পরিতৃপ্তি

চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে দলগুলো শিরোপা জয়ের জন্যে আঁটঘাট বেঁধে নামলেও দর্শকদের চোখে সব সময় শিরোপাজয়ী দলই যে সমর্থন পায় তা নয়। একজন ফুটবলপ্রেমী সমর্থক হিসেবে আমার কাছে সবসময় খেলার মাঠের শিল্প এবং দর্শকদের সেই শিল্পের জাদুতে মাতিয়ে রাখার কালজয়ী কুশীলব হিসেবে ব্রাজিল দলটাই সবসময় পছন্দের। খেলোয়াড় কে থাকলো তা নয়, বরং খেলার মাঠে ব্রাজিল আছে; এ সত্যটাই আমার কাছে যথেষ্ট। তারা গোল খেলো কি দিলো সে হিসেব আমার কাছে বিবেচ্য নয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘এডসন অঁরাতেস দো নাসিমেনতো’ তথা পেলে বা কালোমানিকের জীবনের গল্প শুনেই ব্রাজিলকে আমি ভালোবেসেছি। সেই ভালোবাসা প্রগাঢ় হয়েছে ঊনিশশো বিরাশি সালে স্পেন বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের খেলা দেখে। সাদা পেলে জিকো, মাঝমাঠের জাদুকর সক্রেটিস, ফ্যালকাও, জুনিয়রদের দেখে যে দলকে ভালোবেসেছি তা আজও হৃদয়ে জীবন্ত হয়ে আছে।
থমাস ডনোহিউয়ের বদৌলতে মাঠে গড়ানো ফুটবলের দেশ ব্রাজিল হলো ‘সেলেসাও’ বা সেরা বাছাইয়ের দল, যারা মাঠে ‘জোগো বোনিতো’ বা ছন্দময় সুন্দর ফুটবল খেলে। তাদের খেলায় ‘জিঞ্জা’ বা ছন্দের নিপুণতা থাকে। হোক তা বলসহ কিংবা বল ছাড়া। তাদের মাঠে উপস্থিতি মানেই সাম্বানৃত্যের নান্দনিকতা আর তাতে শিল্পের জাদুমাখা। ৪-৩-৩ কিংবা ৪-২-৩-১-এর সমন্বয়ে যে ক্রীড়াশৈলী, তাতে থাকে আক্রমণের ধার আর গতির সমন্বয়। জেতার জন্যে গোল না খাওয়ার যান্ত্রিক মন্ত্রে তারা বিশ্বাসী নয়। বরং তারা রক্ষণসহ আক্রমণে উঠে খেলাকে নকশি কাঁথার মাঠ বানিয়ে নেয়।
যদিও এবার তারা ফিফা র্যাংকিংয়ে ষষ্ঠ এবং বাছাই পর্বে বেশ কয়েকটা খেলায় হেরে পঞ্চম হয়ে চূড়ান্ত পর্বের টিকেট হাসিল করেছে, তারপরেও মূলপর্বে ‘সি’-গ্রুপে থাকা দলটি বরাবরের মতো এবারও ফেভারিট। ষষ্ঠ শিরোপা ঘরে নিক বা না নিক, কেউ তাদের বাদ দিয়ে ফেভারিট তালিকা বানানোর সুযোগ নেই। নেইমার থাকবে কি থাকবে না তা নিয়ে দোলাচলে থাকলেও নেইমারের সংযুক্তি অবশ্যই ব্রাজিল দলের শক্তি ও মনোবলকে চাঙ্গা করেছে।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, দলগত সংহতি, ফুটবল অন্তপ্রাণ সংস্কৃতি আর অকল্পনীয় মেধার জোরে ব্রাজিল এখনও যে কোনো আসরে রেসের ঘোড়া হিসেবে অগ্রভাগে থাকবে। হৃদয় দিয়ে চাইবো, এবারের এ দলটি শিরোপা জিতুক আর না জিতুক অন্তত খেলার নান্দনিকতা দিয়ে মন ভরাক।







