বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১০:০৫

উচ্ছেদের পর পুনঃদখলকালে আবার উচ্ছেদ করা হয় না কেন?

অনলাইন ডেস্ক
উচ্ছেদের পর পুনঃদখলকালে আবার উচ্ছেদ করা হয় না কেন?

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের দু পাশে সওজের উচ্ছেদের পর বাধাহীন পুনঃদখলের মহোৎসব যে চলছে, সেটা নিয়ে চাঁদপুর কণ্ঠে কামরুজ্জামান টুটুল সচিত্র সংবাদ পরিবেশন করেছেন। সংবাদটিতে তিনি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে গেলো মে মাসে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বেদখলে থাকা সম্পত্তিতে উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করে সড়ক ও জনপথ (সওজ)। ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদকৃত সকল সম্পত্তি বাধাহীনভাবে ফের বেদখলে চলে যাচ্ছে। অনেকটা খুব দ্রুত গতিতে দখল হচ্ছে সওজের উচ্ছেদকৃত সকল সম্পত্তি। এ নিয়ে সওজ কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এমনটাই দেখা যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সড়কের দুপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে গত মে মাসের প্রথমদিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশে সওজের বেদখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধারে নামে সওজ বিভাগ, চাঁদপুর। তারই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর শহরের তালতলা থেকে শুরু করে ষোলঘর, ওয়্যারলেস বাজার, বাবুরহাট, মিয়ার বাজার, মহামায়া, দেবপুর, বাকিলা, বলাখাল, ধেররাসহ কুমিল্লা সড়ক বিভাগের সীমানা পর্যন্ত ব্যাপক উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে সওজ বিভাগ। সেই উচ্ছেদের সপ্তাহ না পার হতেই ফের দখল কার্যক্রমে নামে সেই পুরানো দখলদাররা। তবে অতীতের সকল দখলকে ছাড়িয়ে এবারের দখল খুব দ্রুত গতিতে চলছে। গত ক’দিনে বলাখাল, বাকিলাসহ ছোট-বড় বাজারগুলোতে সওজের উচ্ছেদকৃত অংশের ৫০ ভাগ বেদখলে চলে গেছে। বলাখাল বাজারের জাহাঙ্গীর নামের একজন হাসির ছলে বলেন, এবারের দখল ডিজিটালভাবে হচ্ছে। সবাই তাদের দোকানগুলো খুলে নেবার সময় ভাঁজে ভাঁজে খুলে নিয়ে দূরে সরিয়ে রাখে। সপ্তাহ পার না হতে সেই ঘরগুলো পুরানো জায়গায় ভাঁজে ভাঁজে এনে বসিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে দখলদারদের সময় আর অর্থ দুটোই বেঁচে গেছে। বাকিলা বাজারের নাম প্রকাশ না করা একজন দখলদার জানান, কী করবো ভাই, কিছু তো একটা করে খেতে হবে। মাঝ বয়সে কই যাবো, কী করবো? এখানে বসছি ভাড়া একটু কম, এডভান্স একটু কম। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কাকে ভাড়া দিচ্ছে? কাকে এডভান্স দিচ্ছে? মহামায়া বাজারের সিফন নামের একজন জানান, সবার দোকান নাটের ওপরে করা হয়েছে। উচ্ছেদের সময় নাট খুলে ভাঁজ ভাঁজ করে এক স্থানে জমিয়ে রাখা হয়। উচ্ছেদ শেষ হলে জায়গা মতো এনে বসিয়ে ভাঁজে ভাঁজে নাট লাগিয়ে দিলে পুরো ঘর তৈরি হয়ে যায়। সড়ক ও জনপথের উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সড়ক শাখা ১) আবু হানিফের নিকট উচ্ছেদকৃত সম্পত্তিতে ফের দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে জানান, আমরা যেখানে দেখছি সেখানে নিষেধ করছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন স্যারেরা সিদ্ধান্ত নেবেন। চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কসহ যে কোনো সড়কের দুপাশে অবৈধ দখল, উচ্ছেদ ও পুনঃদখল যেনো রুটিন চিত্র। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ একেকবার বড়ো ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালালে কিছু দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী বা স্থাপনা নির্মাণকারী উচ্ছেদ-পরবর্তীতে সওজ-এর জায়গা সামনে খালি রেখে টেকসই স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে মনোযোগী হয়। এর নমুনা বাবুরহাট, মহামায়া, বাকিলা, বলাখাল, ধেররা, হাজীগঞ্জ, ওয়ারুক, দোয়াভাঙ্গা, কালিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে বিদ্যমান আছে। এমন স্থাপনার সামনের জায়গাতেই বেয়াড়া প্রকৃতির কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে কিংবা স্থানীয় প্রভাব বলয়ে বারবার দখল করে। এরা কিন্তু চিহ্নিত। এরা উচ্ছেদের নোটিস পেলে কিংবা টের পেলে নিজেদের অবৈধ স্থাপনা বড়ো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই সরিয়ে নেয়। এদের বিরুদ্ধে মামলা করলে বা এদেরকে শায়েস্তা করলেই সড়কের পাশে পুনঃদখলের প্রবণতা অনেকাংশেই কমবে। আর একটি উচ্ছেদের পর বাধাহীনভাবে পুনঃদখল চলাকালে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার উচ্ছেদ চালানো হলেও অবৈধ দখল টেকসইভাবে বন্ধ হতে পারে। কথা হলো, সেটি হয় না কেন? এক্ষেত্রে কি অদৃশ্য সুতার টান থাকে? না লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও অর্থবহ দীর্ঘসূত্রিতার দায় থাকে? কে দেবে তার জবাব?

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়