প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৮
ফরিদগঞ্জে সরকারি খাল দখল : আদালতের নির্দেশের ৩৫ দিনেও জমা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন
২৯ জুলাই ছিল প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা; ১৮ আগস্টের মধ্যে জমা দিতে আদালতের পুনঃনির্দেশ

সরকারি খাল দখলমুক্ত করা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও ফরিদগঞ্জে সরকারি খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলে বিলম্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। গত ৮ জুলাই আদালতের নির্দেশনা জারির পর ১২ আগস্ট পর্যন্ত ৩৫ দিন অতিবাহিত হলেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে তা জমা দেয়ার জন্যে পুনরায় নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
|আরো খবর
ফরিদগঞ্জ উপজেলার চৌরাঙ্গী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে এলে গত ৭ জুলাই ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি বিবিধ মামলা (নং-০২/২০২৬, ফরিদগঞ্জ) গ্রহণ করেন। এরপর ৮ জুলাই আদালত থেকে নোটিশ জারি করা হয়। আদালতের নির্দেশানুযায়ী নোটিশ জারির পর ২১ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিলো। সেই হিসেবে ২৯ জুলাই ছিলো প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা।
তবে ২৯ জুলাই সময়সীমা পার হলেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। পরবর্তীতে ১২ আগস্ট পর্যন্তও প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায়—অর্থাৎ নোটিশ জারির পর ৩৫ দিন অতিবাহিত হলেও বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এ কারণে আদালত আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পুনরায় নির্দেশ দিয়েছেন বলে আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে সরকারি খাল, জলাশয় ও সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে এবং খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান, পুনঃখনন ও প্রবাহ সচল রাখার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রশাসনের এমন তৎপরতার মধ্যেই ফরিদগঞ্জের চৌরাঙ্গী বাজারের সরকারি খাল দখলের বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা গ্রহণ করেন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন। নির্দেশনায় খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণকারী ও সেখানে ব্যবসায় লিপ্ত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই এবং তদন্ত শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে খাল দখলমুক্ত করার বিষয়ে যখন জাতীয় পর্যায়ে নানা পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে, তখন আদালতের নির্দেশে পরিচালিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে এই বিলম্ব সচেতন মহলকে উদ্বিগ্ন করছে।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি খাল দখলের অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। একই সাথে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল হলে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হতো।
তবে প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্বের সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তদন্ত কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেনো তা জমা হয়নি—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই আদালতের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও পরবর্তী আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে দায়ী করা সমীচীন নয়।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এআরএম জাহিদ হোসেনের মন্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মন্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। এখন দেখার বিষয়, আদালতের পুনঃনির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয় কি না এবং প্রতিবেদনে সরকারি খাল দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে কী তথ্য উঠে আসে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ






