সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩৬

২৫ হাজার মানুষের ভরসা লাউতলী স্বাস্থ্যকেন্দ্র আজ নিজেই ‘অসুস্থ'

শামীম হাসান
ডাক্তার-ওষুধ শূন্য, চোর-মাদকসেবীদের দখলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্যে পূর্ব লাউতলী গ্রামে গড়ে ওঠা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি এখন শুধু নামের মাঝেই সীমাবদ্ধ। নেই কোনো জনবল, নেই ওষুধ, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। এটি যেনো পরিত্যক্ত কোনো ভবন। এই সুযোগে কেন্দ্রের আসবাবপত্র চুরি হয়েছে, রাতে জমে মাদকসেবীদের আড্ডা। ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির অচলাবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় দরিদ্র মানুষ, বাড়ছে গর্ভবতী মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি।

প্রান্তিক পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কেন্দ্রটি চালু হয়েছিলো। প্রথমদিকে এলাকার দরিদ্র মানুষের মুখে

ফুটেছিলো হাসি--নিজ এলাকায় মিলবে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা। কিছুদিন তারা সেই সেবাও পেয়েছিলেন।

কিন্তু গত প্রায় তিনবছর ধরে ওষুধ ও জনবল সংকটে বন্ধ রয়েছে নরমাল ডেলিভারি, প্রসূতি সেবা, কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্যসেবা ও সাধারণ চিকিৎসাসেবা। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চিকিৎসায় ভরসা করতে হচ্ছে গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তারদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন পিয়নের পদ থাকলেও বর্তমানে সেখানে কোনো জনবল নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় কেন্দ্রের দরজা ভেঙ্গে বৈদ্যুতিক পাখা ও আসবাবপত্র চুরি হয়েছে। সন্ধ্যার পর পরিত্যক্ত ভবনটি নিয়মিত মাদকের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ১০৫ বছর বয়সী বশির উল্যা মিজি বলেন, আমাদের অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গড়ে উঠেছিলো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এখানে ডাক্তার-ওষুধ কিছুই নেই। এখানকার প্রাথমিক সেবা না পেয়ে সাধারণ মানুষ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এখানে দ্রুত ওষুধ ও ডাক্তার দেয়া জরুরি।

সেবাপ্রার্থী ফিরোজা বেগম (৬০), আমিন উল্যাহ (৫৫), সিরাজুল ইসলাম (৫৭)সহ আরও কয়েকজন জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে নানা রোগ। দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। এ হাসপাতালে ডাক্তার, ওষুধ কিছুই নেই। জরুরি চিকিৎসার জন্যে ভাঙ্গাচুরা সড়ক পেরিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা হাসপাতালে যেতে হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

আজগর আলী (৭০) নামের এক বৃদ্ধ বলেন, আমরা উপজেলা থেকে দূরে গ্রামগঞ্জের মানুষ হওয়াই যেনো বড়ো পাপ করে ফেলেছি। রাষ্ট্রের নাগরিক সেবার অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত। আমাদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র খাতা-কলমে আছে, কিন্তু সেবার ক্ষেত্রে শূন্য। এটি এখন চুরি ও মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ, সেবা দেবে কে?

স্থানীয় ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। জনবল ও ওষুধ সংকট রয়েছে। এগুলো দিলে কিছুটা হলেও স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সম্ভব হবে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ। স্থানীয় মাদকসেবী ও চোরচক্র ইতোমধ্যে অনেক কিছু লুট করেছে। চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে সাধারণ মানুষ ও মা-শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত এই কেন্দ্র সচল করা প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, লাউতলী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিস্থিতি শুনে খারাপ লেগেছে। সরকারের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার বিভাগ এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এগুলো দেখে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করবো। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়