বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ১৯:৫৮

ধীরগতির উন্নয়ন এখন 'মরণ ফাঁদ': ঈদ উদযাপনে ঘরে ফেরা লাখো মানুষের চরম দুর্ভোগ!

পলাশ দে
ধীরগতির উন্নয়ন এখন 'মরণ ফাঁদ': ঈদ উদযাপনে ঘরে ফেরা লাখো মানুষের চরম দুর্ভোগ!
ছবির ক্যাপশন: বাবুরহাট অভয় বাবুর দিঘীরপাড় থেকে দশআনি দিঘীরপাড় পর্যন্ত নির্মাণাধীন রাস্তার কাজ ধীরগতিতে চলায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ধসে গেছে বিভিন্ন অংশ।

আর মাত্র একদিন পরেই সারা দেশে উদযাপিত হবে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশ-বিদেশ ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। তবে চাঁদপুর পৌরসভার ১৪ নং ওয়ার্ডের একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল দশার কারণে ঘরে ফেরা মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঈদ আনন্দ এখন চরম দুর্ভোগে বিষাদে পরিণত হয়েছে।

​বাবুরহাট অভয় বাবুর দিঘীরপাড় থেকে দশআনি দিঘিরপাড় হয়ে কল্যাণপুর ইউনিয়নের দেওয়ানবাড়ী, খান ও প্রধানিয়া বাড়ি পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা পাকা করণের কাজটি শুরু থেকেই অত্যন্ত ঢিলেঢালা ও ধীরগতিতে চলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ওপর গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নির্মাণাধীন এই রাস্তার বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটি যেন ছোটখাটো পুকুরে পরিণত হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, এই রাস্তা দিয়ে প্রায় এক থেকে দুই লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু হলে এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গত ৩/৪ মাসে কাজের অগ্রগতি এতটাই ধীর যে, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর আক্ষেপ—রাস্তা মেরামতের ফলে উপকারের চেয়ে এখন ক্ষতিই বেশি হচ্ছে।

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এবং স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে চাঁদপুর কণ্ঠ-কে জানান, রাস্তা জুড়ে খানাখন্দ আর জমে থাকা কর্দমাক্ত পানির কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

​পথচারীদের অভিযোগ, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী দশআনি দিঘীরপাড় এবং রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি পুকুরের পাড়ে কোনো শক্তিশালী গাইডওয়াল (প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল) নির্মাণ করেননি। ফলে ভরা বর্ষা মৌসুম শুরু হলে সামান্য বৃষ্টির পানির স্রোতেই পুরো রাস্তা ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরে ফেরা সাধারণ মানুষ, চাকরীজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এখন দিশাহারা। এই অবর্ণনীয় কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে তারা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, প্রকৌশলী এবং চাঁদপুর পৌর কর্তৃপক্ষসহ ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। বর্ষা পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই এবং ঈদের এই সময়ে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কার করে মানুষের নিরাপদ চলাচলের উপযোগী করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মহল।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়