প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ২১:২৫
ট্রলি চালককে হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

মতলব উত্তর উপজেলার শিকিরচর গ্রামে সম্পত্তিগত বিরোধে ট্রলি চালক ওয়াসিম বেপারী (২৬)কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরিফ হোসেন বেপারী (৪৩) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দু বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
|আরো খবর
সোমবার (১৮ মে ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) মো. কামাল হোসাইন এই রায় দেন।আসামির উপস্থিতিতে এই রায় দেয়া হয়।
হত্যার শিকার ওয়াসিম উপজেলার শিকিরচর গ্রামের বেপারী বাড়ির মৃত সাহেব আলী বেপারীর ছেলে। তিনি পেশায় ট্রলি চালক ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আরিফ হোসেন বেপারী একই বাড়ির তৈয়ব আলী বেপারীর ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, মিজানুর রহমান ওরফে বালু মিজান পরিবারের সাথে হত্যার শিকার ওয়াসিম পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। এই বিরোধের জের ধরে ২০২০ সালের ২৯ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মিজানুর রহমান ফোন করে ওয়াসিমকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে রাতের কোনো এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ বাড়ির পাশের সেচ প্রকল্পের বাঁধের পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। পরদিন সকালে তার মরদেহের সন্ধান পায় পরিবার।
এ ঘটনায় ৩০ জুন মতলব উত্তর থানায় ওয়াসিমের মা জাহানারা বেগম (৬০) বাদী হয়ে ৬জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা ছিলো : তৈয়ব আলী বেপারীর ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে বালু মিজান (৪৫), আরিফ হোসেন বেপারী (৪৩), মো. আজাদ বেপারী (৪০), মো. করিম বেপারী (৩৮), মেয়ে সালমা বেগম (২৭) ও একই বাড়ির মোশারফ বেপারীর ছেলে মো. কুদ্দুছ বেপারী (২৫)।
মামলাটির তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয় তৎকালীন মতলব উত্তর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল আউয়ালকে। তিনি মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩১ মে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
মামলার রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী কামাল উদ্দিন ও অ্যাড. হারুনুর রশিদ বলেন, মামলাটি আদালতে চলমান অবস্থায় ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য প্রমাণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামি তার অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক তার উপস্থিতিতে এই রায় দেন। অপর আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. জাবির হোসাইন।








