মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:২২

বালিয়ায় গভীর রাতে প্রবাসীর ঘরে ডাকাতি

স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট।। মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার।।
বালিয়ায় গভীর রাতে প্রবাসীর ঘরে ডাকাতি

চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া (বেপারী বাড়ি) এলাকায় গভীর রাতে এক প্রবাসীর বসতঘরে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ডাকাতরা প্রায় ১৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। ডাকাতদের মারধরে প্রবাসীর স্ত্রী (গৃহবধূ) আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক ৩টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে। এ ঘটনায় চাঁদপুর কোর্টে একটি (ধারা-৩৯৭/৪০৩/৫০৬/(২)৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদী প্রবাসীর (স্ত্রী) মোসা. হাছিনা আক্তার (৩২), পিতা-ইউছুফ বেপারী, সাং-বালিয়া (বেপারী বাড়ি), ডাকঘর-বহরিয়া বাজার, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে খাবার শেষে বাদী ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা প্রবাসীর স্ত্রী (বাদী) হাছিনার ঘরের জানালায় বার বার শব্দ করতে থাকে এবং প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে আসামী তার ঘরে ঢুকেছে এই কথা বলে দরজা খুলতে অনুরোধ করে।

একপর্যায়ে বিশ্বাস করে বাদী দরজা খুলে দিলে আসামিরা ৫/৬ জন মিলে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে আলমারির চাবি দিতে বাধ্য করে। পরে আলমারি থেকে ৩.৫০ ভরি ওজনের স্বর্ণের গলার নেকলেস (মূল্য ৭,৫০,০০০ টাকা), ২ ভরি ওজনের স্বর্ণের হাতের বালা (মূল্য ৪,৫০,০০০ টাকা), ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের এক জোড়া কানের দুল (মূল্য ১,১০,০০০ টাকা), নগদ ৩,৫০,০০০ টাকা, একটি দুই-পাটের বিদেশি কম্বল (মূল্য ৭,০০০ টাকা), চারটি থ্রি-পিস ও একটি বিছানার চাদর (মূল্য আনুমানিক ৬,০০০ টাকা) লুট করে নেয়।

সবমিলিয়ে লুটকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। মালামাল নিয়ে পালানোর সময় বাদী বাধা দিলে ছিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী ও নিশান পাটোয়ারী তাকে বুকে, পিঠে ও মুখে এবং স্তনে এলোপাতাড়ি চর-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারধর করে গুরুতর আহত করে। বাদীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনার সময় বাদী ডাকাত ছিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী ও সীমা আক্তারকে চিনতে সক্ষম হন। চলে যাওয়ার সময় আসামিরা বাদী ও সাক্ষীদের উদ্দেশে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, এ বিষয়ে কাউকে জানালে বা মামলা করলে বাদীসহ সাক্ষীদের হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে।

এ ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মায়মুনা বেগম, মেহেদী হাসান, আমেনা বেগম, রোকেয়া বেগমসহ আরও অনেককে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে আরও সাক্ষীর নাম সংযুক্ত করা হবে বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর কোর্ট থেকে সিআইডিকে মামলা তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়