সোমবার, ০৫ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:২১

চাঁদপুর রামকৃষ্ণ আশ্রমে 'স্বর্গীয় মনোরঞ্জন পাল শিক্ষাবৃত্তি' প্রদান

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট।।
চাঁদপুর রামকৃষ্ণ আশ্রমে 'স্বর্গীয় মনোরঞ্জন পাল শিক্ষাবৃত্তি' প্রদান
শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৫) চাঁদপুর রামকৃষ্ণ আশ্রমে 'স্বর্গীয় মনোরঞ্জন পাল শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার উচ্চঙ্গা গ্রামে ১৮ কার্তিক ১৩৪২ বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণকারী ও ২০ মাঘ ১৪১২ বঙ্গাব্দে প্রয়াত হওয়া মনোরঞ্জন পাল ছিলেন একজন সৎ, ধর্মপ্রাণ ও মানবিক গুণসম্পন্ন ব্যক্তি। সারা জীবন তিনি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবসেবাকে আদর্শ হিসেবে ধারণ করেছেন। তাঁর জীবনাচরণ, সততা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ পরিবার ও সমাজের জন্যে অনুকরণীয় হয়ে আছে। তাঁর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে তাঁর নামে শিক্ষার্থীদের জন্যে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র, আমেরিকা প্রবাসী প্রফেসর ড. অরুন চন্দ্র পাল ।

এই মহৎ উদ্যোগের অংশ হিসেবে শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) চাঁদপুর রামকৃষ্ণ মিশনে এক অর্থবহ ও ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে 'স্বর্গীয় মনোরঞ্জন পাল শিক্ষা বৃত্তি' নামে শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। বৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন চাঁদপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী স্থিরাত্মানন্দজী মহারাজ।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় প্রার্থনা ও সংক্ষিপ্ত ধ্যানের মাধ্যমে। এরপর স্বামী স্থিরাত্মানন্দজী মহারাজ তাঁর বক্তব্যে প্রয়াত ব্যক্তির জীবনাদর্শ, ধর্মনিষ্ঠা ও সমাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর কর্ম ও মূল্যবোধের মধ্যেই প্রকাশ পায়, আর শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে সেই মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলো। তাদের মধ্যে অনেকেই আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষাজীবনে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছিল। এই শিক্ষাবৃত্তি তাদের পড়াশোনায় নতুন আশার আলো জ্বালাবে এবং ভবিষ্যতে তারা আত্মনির্ভরশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও এই উদ্যোগের জন্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও আশীর্বাদ প্রদান করা হয়। স্বামীজী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষা কেবল জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং মানুষ হওয়ার পথ। তিনি সকলকে সততা, মানবিকতা ও আত্মসংযমের সঙ্গে জীবন গড়ার আহ্বান জানান।

সার্বিকভাবে এই শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানটি ছিলো একটি স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। প্রয়াত পিতার স্মৃতিকে সম্মান জানানো এবং তাঁর আদর্শকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ। এই ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড সমাজে শিক্ষা ও নৈতিকতার আলো আরও বিস্তৃত করবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা যায় বলে বক্তারা মনে করেন।

অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন স্বামী অপূর্ব মহারাজ (অপু মহারাজ)।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়