প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৯
তীব্র শৈত্য প্রবাহে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু রোগী
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনদিনে একশ'র বেশি শিশু রোগী ভর্তি

তীব্র শৈত্য প্রবাহে চাঁদপুরে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনদিনে একশো'র বেশি শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। এসব রোগী জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপে শিশু ওয়ার্ডে বেড ছাড়িয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে নার্স ও চিকিৎসকদের। গাদাগাদি পরিবেশে অবস্থান করতে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত তিনদিনে শুধু শিশু ওয়ার্ডেই শতাধিকের ওপরে শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) সারাদিনে নতুন করে ভর্তি হয়েছে সর্বমোট ৩৬ জন শিশু। ওইদিন পূর্বে ভর্তি ছিলো ৯৪ জন এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেয়া হয় ৩৩ জনকে। পরদিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) সারাদিনে নতুন ভর্তি হয় ২৮ জন, পূর্বে ভর্তি ছিলো ৯৯ জন এবং ছাড়পত্র পায় ২১ জন শিশু। নতুন বছরের তথা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সারাদিনে ঠাণ্ডাজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০ জন শিশু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদিন শিশু ওয়ার্ডে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৭ জনে। এদিন চিকিৎসাশেষে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৩৯ জনকে। এছাড়া হাসপাতালের কেবিন ও পেইং বেডে আরও ১০ থেকে ১৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বেডেই শিশু রোগী অবস্থান করছে। অনেক ক্ষেত্রে মেঝেতেও বিছানা পেতে শিশু রোগীদেরকে সেবা দেয়া হচ্ছে। শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকরাও সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাব, কনকনে ঠাণ্ডা এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসা সেবাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। বিশেষ করে ৬ মাস থেকে এক বছর বয়সী শিশু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। ঠাণ্ডা আবহাওয়া, ঘন কুয়াশা ও শীত থেকে সঠিক সুরক্ষা না থাকায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আসমা আক্তার বলেন, বর্তমানে শীতের প্রকোপ অনেক বেশি। এতে করে শিশুদের নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগ বেড়েছে। বিশেষ করে ছয় মাস থেকে এক বছর বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের সবসময় গরম কাপড়ে রাখা, ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলা এবং জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা কাশির লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা।
তিনি আরও বলেন, শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খোলা ঠাণ্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখলে অনেকটাই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে শিশু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।







